বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসের জাভেনটেম বিমানবন্দরের বর্হিগমন এলকায়
মঙ্গলবার পরপর দুটি এবং মেট্রো স্টেশনে আরেকটি বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে। এ
ঘটনায় কমপক্ষে ৩৪ জন নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যম। এদের মধ্যে ১৪ জন বিমানবন্দরে এবং ২০ জন মেট্রো স্টেশনের বিস্ফোরণে মারা যায়। এই ঘটনায় আহত হয়েছে প্রায় অর্ধশত ব্যক্তি।
তবে দেশটির পক্ষ থেকে হতাহতের সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় বিস্ফোরণের পরপরই টার্মিনাল বিল্ডিংয়ের কাছে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। এর ঠিক একঘণ্টা পর মেট্রো স্টেশনে আরেকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
প্যারিস হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামী সালাহ আবদেসলাম ব্রাসেলসে গ্রেফতারের চারদিন পর এই বিস্ফোরণ ঘটলো।
বিস্ফোরণের পর বিমানবন্দরের যাত্রীদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। ইতোমধ্যে বিমানবন্দরের সব ধরণের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বন্ধ রাখা হয়েছে মেট্রো ব্যবস্থাও।
বিস্ফােরণের কারণ এখনো জানা যায়নি। বেলজিয়াম জুড়ে সর্বোচ্চমাত্রার সন্ত্রাসী হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বেলজিয়াম ব্রডকাস্টিং ভিআরটি আহতের সংখ্যা ৩৫ বলে জানিয়েছে। আর বেলজিয়াম হিট লেসটি নিউজ বিমানবন্দর থেকে আরো বোমা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে।
এছাড়া বেলজিয়াম নিউজ এজেন্সি জানায়, বোমা বিস্ফোরণের সময় গুলির শব্দও শোনা যায় এবং তখন কেউ একজন আরবিতে চিৎকার করছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন এটি আত্মঘাতী হামলা বলে জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলোয় দেখা যায়, বিস্ফোরণের ফলে টার্মিনালের জানলার কাচগুলো টুকরো টুকরো হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া কুণ্ডলী পাকিয়ে ধোয়া উঠছে।
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, মনে হচ্ছিল ভূমিকম্প হচ্ছে। টার্মিনাল ভবনের নড়াচড়া অনুভব করা যাচ্ছিল। বিমানবন্দরে উপস্থিত লোকজন প্রাণভয়ে ছুটোছুটি শুরু করেছিলেন।
বিস্ফোরণের পর প্রায় ১৯-২৯ স্ট্রেচারে করে লোকদের সরিয়ে নিতে দেখা গেছে। আহতদের সরিয়ে নিতে বিমানবন্দরের ট্রলিও ব্যবহার করতে দেখা যায়।
বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে যাভেনতেম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বিমানবন্দর এলাকা এড়িয়ে চলতে বলেছে। সেই সঙ্গে বিমানবন্দরটিতে অবতরণ করবে এমন বেশ কয়েকটি বিমানকে দিক পরিবর্তন করানো হয়েছে।






