দিনের শুরুটা একটা জয়ের মধ্য দিয়েই এসেছিল। টস জয়! সেটার বদৌলতে নেয়া সিদ্ধান্তের জেরে এখন মুশফিকুর রহিমের ঘুম হারাম হওয়ার জোগাড়! অবশ্য পুরো দলেরই একই অবস্থা হওয়ার কথা! না পেস, না স্পিন, না দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে কোন রান আউট; সত্যিকার অর্থে উইকেট প্রাপ্তির তেমন কোনও সুযোগই তৈরি করতে পারেনি বাংলাদেশ। বোলিংয়ে কোনও সূত্র মেলাতে না পারার দীর্ঘতর একদিনে টাইগারদের রান পাহাড়ে চাপা দেয়ার মঞ্চ প্রস্তুত করেছে সাউথ আফ্রিকা।
পচেফস্ট্রম টেস্টে মাত্র এক উইকেট হারিয়ে ২৯৮ রান তুলে প্রথম দিন শেষ করেছে সাউথ আফ্রিকা। হারানো উইকেটটি এসেছে আবার রান আউটের কল্যাণে। ৯৭ রানে সেঞ্চুরি হারানোর আক্ষেপ নিয়ে ফিরেছেন এইডেন মার্করাম। শতক তুলে থাকা ডিন এলগার ও ফিফটি তুলে হাশিম আমলা দ্বিতীয়দিনের যন্ত্রণা বাড়াতে মাঠে নামবেন।
সাউথ আফ্রিকার দুই উদ্বোধনীই সংগ্রহটা দুইশর ডগায় টেনে নিয়েছিলেন। উইকেট নামের কাঙ্ক্ষিত ‘সোনার হরিণ’র দেখা মেলে স্বাগতিকরা ১৯৬ রান তুলে ফেলার পর। মিরাজ-মুমিনুলের যুগলবন্দীতে মার্করামকে রান আউটে ছেঁটে ফেললে। মাত্র ৩ রানের জন্য অভিষেক সেঞ্চুরিটা হাতছাড়া করেছেন ২২ বর্ষী ওপেনার। সফরকারীদের যথেষ্ট ভোগানো ৯৭ রানের ইনিংসটি ১৩ চারে ১৫২ বলে সাজানো।
বেদনার দিনে একটি রেকর্ডও সঙ্গী হয়েছে মার্করামের। যেটা নিশ্চিতভাবেই নামের পাশে চাননি তিনি। অভিষেকে রান আউটে কাটা পড়া প্রোটিয়াদের মধ্যে সর্বোচ্চ ইনিংসটি এখন তার। আগেরটি ছিল জন হোয়াইটের, ৭৬! ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নটিংহ্যামে সেই ১৯৫১ সালে ইনিংসটি খেলেছিলেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান হোয়াইট। সেই ৬৬ বছর আগের বেদনা টপকে নতুন দুঃখী এখন মার্করাম।
অভিষেকে নার্ভাস নব্বইয়ে রান আউট হওয়ার মাত্র তৃতীয় ঘটনা এটি। ১৯৬৪ সালে পাকিস্তানের আবদুল কাদির ৯৫ রানে একই ভাগ্য বরণ করেছিলেন। পরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের গর্ডন গ্রিনিজ অভিষেকে রান আউট হয়েছিলেন ৯৩ রানে।
মার্করাম না পারলেও এদিন সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেননি তার জুটিসঙ্গী ডিন এলগার। ১২৮ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন। ৯ চার ও ২ ছয়ে ২৮৫ বলের ধৈর্য্যশীল ইনিংস প্রোটিয়া ওপেনারের। চলতি বছরে এলগারের এটি চতুর্থ শতক, আর ক্যারিয়ারের নবম টেস্ট সেঞ্চুরি।
এলগারের সঙ্গে দিনের শেষ সেশনটায় বাধা হয়ে ওঠেন হাশিম আমলা। অবিচ্ছিন্ন ১০২ রানের জুটিতে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা নামটিও আমলাই। ৭ চার ও এক ছয়ে ৬৮ রানে অপরাজিত আছেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান।
স্বাগতিকদের ব্যাটিং দৃঢ়তার পাশে বলার মত কোনও গল্পই নেই বাংলাদেশের। সাউথ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলতে নামা নয় বছর পর। গত দুবছরে টাইগারদের যেমন পারফরম্যান্স, ভিন্ন কিছুই আশা করেছিল সকলে। প্রথম দিনে অন্তত তেমন কিছুর আভাস মিলল না। এদিন প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার কোনও কৌশলই কাজে লাগেনি মুশফিকের। মোস্তাফিজ-শফিউলরা নির্বিষ বোলিং করে গেছেন। মুশফিককে স্পিনারের দ্বারস্থ হতে হয় ষষ্ঠ ওভারেই।
তাতে কিছুটা লড়াইয়ের আমেজ ফেরানো বোলিংয়ের দেখা মিলেছিল মিরাজের সৌজন্যে। ফ্লাইট, লেংথ বলের সঙ্গে বাড়তি বাউন্স আদায় করে নিচ্ছিলেন তরুণ অফস্পিনার। প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানদের যা একটু পরীক্ষা নেয়ার সুযোগ মিলেছে তার সৌজন্যেই। কিন্তু দিন শেষে এই তরুণ অফস্পিনারের নামের পাশে উইকেটের ঘর শূন্যই, বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র সেঞ্চুরিয়ানও মিরাজই! ৩৬ ওভারে ১০১ রান খরচ করে ফেলেছেন তিনি।
অন্যদিকে মার্করামের উইকেট তোলার সুযোগ এসেছিল যার হাতে। সেই মোস্তাফিজেও উইকেট শূন্য। তাসকিনের লেংথ বলে ড্রাইভ করে পয়েন্টে বল ভাসিয়েছিলেন মার্করাম। অপ্রস্তুত ফিল্ডার মোস্তাফিজ বলের নিচেই যেতে পারেননি সময়মত। তখন ২৮ রানে অভিষিক্ত উদ্বোধনী। পরে ৩৬ রানে তাকে রানআউটে ছেঁটে ফেলার সুযোগটাও নিতে পারেনি সফরকারীরা। মোস্তাফিজ নিজেও আর এনে দিতে পারেননি সাফল্য। ১৬ ওভারে ৫৪ রান খরচ করেছেন।
বাকিদের অবস্থাও কাছাকাছি। তাসকিন আহমেদের ১৫ ওভারে খরচ ৫২ রান। শফিউল ইসলাম ১৫ ওভারে ঢেলেছেন ৪৪ রান। মাহমুদউল্লাহ, মুমিনুল ও সাব্বিরকেও হাত ঘোরাতে হয়েছে; তিনজনে মিলে করেছেন ৮ ওভার; আর সাত বোলার মিলে মেডেনই নিতে পেরেছেন মাত্র ১০ ওভার।
উইকেটে বোলারদের জন্য তেমন কিছুই নেই। মুশফিকের টস সিদ্ধান্তও এখন প্রশ্নবিদ্ধ! দ্বিতীয়দিনে টাইগার বোলাররা কিভাবে ঘুরে দাঁড়ায় সেটির এখন দেখার।









