চ্যানেল আই অনলাইন
Advertisement
English
  • সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আদালত
  • ভিডিও
  • জনপদ
  • প্রবাস সংবাদ
  • চ্যানেল আই টিভি
No Result
View All Result
চ্যানেল আই অনলাইন
En

বোদ্ধাদের নয়, আমি সাধারণ পাঠকের কাছে পৌঁছাতে চেয়েছি: সাদাত হোসাইন

মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহমুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ
৪:৪১ অপরাহ্ণ ০৬, জানুয়ারি ২০১৮
শিল্প সাহিত্য, সাক্ষাতকার
A A

সময়ের তুমুল জনপ্রিয় লেখক সাদাত হোসাইন। উপন্যাস, গল্প, কবিতা, ফটোগ্রাফি, নির্মাণ… যেখানেই হাত দিয়েছেন সোনা ফলেছে। কলকাতায়ও তার বই কিনতে পড়ে যায় লম্বা লাইন। চ্যানেল আই অনলাইনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লেখালেখি ও অন্যান্য গল্প শোনাচ্ছেন সাদাত হোসাইন।

অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০১৮তে আসছে ‘নিঃসঙ্গ নক্ষত্র’? বইটি সম্বন্ধে বলুন।
‘নিঃসঙ্গ নক্ষত্র’ মূলত নিঃসঙ্গ এক মেয়ের গল্প। ভাষাচিত্র প্রকাশনী থেকে আসছে। প্রচ্ছদ এখনো হয়নি। আড়াইশ পৃষ্ঠার মত হতে পারে।

চ্যানেল আই অনলাইনের পাঠকদের জন্য বইয়ের প্রেক্ষাপট এবং ঘটনা সংক্ষেপ শুনতে চাই।
গল্পটি অণুকে কেন্দ্র করে। ছোটবেলায় তার বাবা মারা যায়, তিন মেয়ে এক ছেলে আর স্ত্রীকে রেখে। অণু সবার বড়, আর ছেলেটা ছোট। এই তিন ভাইবোন, পরিবারের ভার বহন করতে করতে ন্যুজ হয়ে যাওয়া মেয়েটি একদিন আবিষ্কার করে তার বিয়ের বয়স পার হয়ে গেছে, এবং তার ছোট দুই বোনের বিয়ে হয়ে গেছে।
সে একটা নতুন এবং ভয়াবহ সামাজিক বাস্তবতা ফেস করতে থাকে। সেই বাস্তবতায় অণু জড়িয়ে যায় একটি ভয়ঙ্কর খুনের ঘটনার সাথে, শুরু হয় তার জীবনে একের পর এক ঘটনা। একটা মেয়ে, যার কোথাও কোন আশ্রয় নেই, সেই মেয়েটা একের পর এক ভাগ্য কিংবা সামাজিক বাস্তবতার বিরূপ আঘাতে পর্যুদস্ত হতে থাকে, একা থেকে আরও একা হতে থাকে, তবু কখনোই তার কণ্ঠস্বরটি সে হারায় না, নিষ্প্রভ হতে দেয় না, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কী ঘটে? সে শেষ অবধি হাল ছেড়ে দেয় কি না? গল্পটি এমন। মজার ব্যাপার হচ্ছে এই গল্প একটি মেয়ের সত্যিকারের জীবনের গল্পকে আশ্রয় করে লেখা। যদিও পরবর্তীতে লেখকের নানান ভাবনা যুক্ত হয়েছে। গল্পটি শেষ অবধি অণুর যুদ্ধের গল্প, হেরে যাওয়ার গল্প, জিতে যাওয়ার গল্প।

অন্য বইগুলো থেকে নিঃসঙ্গ নক্ষত্র যে দিক দিয়ে ভিন্ন?
আমার গ্রামের গল্প লিখতে ভালো লাগে। কারণ আমি গ্রামের কাদা-জলে বেড়ে ওঠা মানুষ। আমার আগের উপন্যাসগুলো থেকে শহর তাই উপেক্ষিতই ছিল। কিন্তু এই বইটি একদমই শহুরে স্ট্র্যাগলিং মধ্যবিত্তের প্রেক্ষাপটে লেখা। পার্থক্য বলতে আমার দিক থেকে এটুকুই। বাদবাকি পাঠক বলবেন।

‘নিঃসঙ্গ নক্ষত্র’ নিয়ে আপনি কতটা আশাবাদী?
আশাবাদের কথা যদি বলেনতো বলবো, আমি মূলত ভালো লাগে বলে লিখি, লিখতে এখন অবধি ভালো লাগছে, কোনোদিন যদি লিখতে ভালো না লাগে, তাহলে লিখব না। যেহেতু এখন অবধি লিখতে ভালো লাগছে, সুতরাং পুরোটাজুড়েই আশাবাদী। আমি আশাবাদী মানুষ ।

Reneta

আরশিনগর, অন্দরমহল এবং মানবজনমের পর ‘নিঃসঙ্গ নক্ষত্র’। প্রথম তিন বইয়ের নামের মধ্যে জমজমাট একটা ব্যাপার আছে। এবার নিঃসঙ্গতা। লেখার ধরণ বদলে যাওয়ার ইঙ্গিত?
এই প্রশ্নটি অনেকেই আমাকে করেছেন। আমার কথা হচ্ছে আমি যদি আমার মৃত্যুর আগ অবধি একশ বই লিখি, তো এই একশ বইয়ের সবগুলোর নাম কী একই রকম হবে? হবে না। বইয়ের নাম হবে গল্প অনুসারে, গল্পের উপর নির্ভর করে। এখানে আমি নিঃসঙ্গ নক্ষত্র থেকে একটা অংশ তুলে দিতে চাই, আশা করি তাহলে নামকরণের কারণ স্পষ্ট হবে।
“- তুমি কী?
– আমি? আমি এক নিঃসঙ্গ নক্ষত্র।
– ধুর, নক্ষত্র কখনো নিঃসঙ্গ হয়?
– হয় না?
– উহু।
– কেন?
– তাকাও
– কোথায়?
– অন্ধকার আকাশে।
– তাকালাম।
– কী দেখছো?
– অসংখ্য জ্বলজ্বলে তারা।
– কত?
– অসংখ্য।
– তাহলে?
– তাহলে কী?
– তুমি যে বললে, তুমি নক্ষত্রের মত নিঃসঙ্গ? কিন্তু আকাশজুড়ে দেখো কত কত নক্ষত্র, অজস্র, অসংখ্য। নক্ষত্রেরা কখনো নিঃসঙ্গ হয়না।
অণু হাসলো। ম্লান, মৃদু। তারপর বললো,
-আমরা কোন নক্ষত্রগুলো দেখতে পাই জানো?
– কোন নক্ষত্র?
– যেই নক্ষত্রগুলোর আশেপাশে তার মতো আর কোন নক্ষত্র নেই।
– মানে?
– মানে, আমরা কখন কোন নির্দিষ্ট আলো দেখতে পাই জানো?
– কখন?
– যখন সেই আলোর আশেপাশে তার চেয়ে উজ্জ্বল আর কোন আলো না থাকে। যখনই কোন আলো বেশি উজ্জ্বল হয়ে যায়, ঠিক তখনই তার আশেপাশের অন্যসব আলোগুলো নাই হয়ে যায়। তাদের আর দেখতে পাওয়া যায় না। আর ওই উজ্জ্বল আলোটা হয়ে যায় একা। নিঃসঙ্গ। সে আলো বিলিয়ে বেড়ায়, কিন্তু হয়ে পড়ে একা, নিঃসঙ্গ। আলোর ধর্মই এই।
– নক্ষত্রেরও?
– হু
– তাহলে?
– তাহলে ওই যে আকাশে অজস্র নক্ষত্র দেখছো, ঝলমলে আলোর তারা দেখছো, এরা সকলেই একেক জন থেকে যোজন যোজন ব্যবধানে, লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি মাইল দূরে। এরা একেকটা বিচ্ছিন্ন দ্বিপের মতন একা, একা এবং একা। মানুষের মতন।
– মানুষের মতন?
– হুম।
– কীভাবে?
– মানুষ তার বুকের ভেতর একান্ত সঙ্গোপনে তার নিজের অজস্র না বলা কথা, না বলা কষ্ট বয়ে বেড়ায়, কত কত আক্ষেপ, যুদ্ধ, অপ্রাপ্তির গল্প বয়ে বেড়ায়, সেই গল্পের কথা, সেই কষ্টের কথা কেউ জানে না। সবাই ব্যস্ত থাকে তার নিজেকে নিয়ে। আর দেখতে পায় পাশের মানুষটির আলো ঝলমলে মুখ। কিন্তু সে কী জানে,ওই আলোঝলমলে মানুষটির বুকের কথা? লুকানো অজস্র না বলা গল্পের কথা? জানে? জানে না। তার পাশের প্রিয় মানুষ, প্রিয় বন্ধু, প্রিয় হৃদয়টা থেকে যায় তার থেকে দূরে, বহুদূরে। ওই অজস্র নক্ষত্রের মাঝেও প্রতিটি নিঃসঙ্গ নক্ষত্রের মতন, মানুষও অজস্র মানুষের মাঝেও একা, নিঃসঙ্গ।
– মানুষ তাহলে নক্ষত্রের মত নিঃসঙ্গ?
– হু, মানুষ নক্ষত্রের মতই নিঃসঙ্গ।
ঝলমলে হাসি মুখে আলো ছড়িয়ে বেড়ানো নক্ষত্রের মতই আমরা সবাই আসলে একেকজন নিঃসঙ্গ নক্ষত্র।”

আপনার আর সব লেখার মতোই চমৎকার। এবার একটু অন্য প্রসঙ্গে যাই, কবিতার বই বের হলো-‘একদিন আমি নিখোঁজ হবো’, কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
বইটিতে যা আছে, তা মূলত আমার ফেসবুকে লেখা বিভিন্ন কবিতার সংগ্রহ। আমি অবশ্য এগুলোকে বলি সাদাত হোসাইন-এর অকবিতা। বইটি নিয়ে উন্মাদনা যদি বলেন, তবে সেটি আমার চেয়ে বেশি বলতে পারবেন প্রকাশক, পাঠক এবং বিক্রেতারা। সেটিই বোধহয় ভালো।
তবে কবিতার বই হিসেবে আমি যদ্দুর শুনেছি, বিক্রির দিক থেকে সাম্প্রতিক সময়ে এটা রীতিমত একটা চমক তৈরি করেছে। প্রথম মুদ্রণে এক হাজার দুইশ’ পঞ্চাশ কপি ছেপে প্রকাশক নিশ্চিন্ত হয়ে আমাকে বলেছিলেন, আজকাল কবিতার বই এক মুদ্রণে এতো ছাপি না, এটা এতো ছাপার কারণ, বহুদিন আর ছাপার ঝামেলা করতে চাই না। কিন্তু তিনি সেদিন বললেন, বইমেলার মধ্যেই বোধহয় আবার ছাপতে হবে।

‘একদিন আমি নিখোঁজ হবো’ কোথায় পাওয়া যাচ্ছে?
রকমারিতে। এ ছাড়া দেশের সব বিভাগীয় শহরেই পাওয়া যাচ্ছে। পাওয়া যাচ্ছে শাহবাগ আজিজ সুপার মার্কেটে, চট্টগ্রাম এবং ঢাকার বাতিঘরে আর দেশের ছোটবড় সব অনলাইন বই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছেও।

পিডিএফ ও বই বিমুখীতার যুগে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে আপনার বই কিনছে।বিষয়টাকে কিভাবে দেখেন?
আমার সবসময়ই মনে হতো, সাধারণ পাঠক গল্পটা শুনতে চায়। তারা চায় তাদের অনুভূতি, ভাবনা স্পর্শীত হোক। তারা তাদের গল্পটা তাদের ভাষায় তাদের মতো করে শুনতে চায়। ধরুন, আপনি একটি অসাধারণ সিনেমাটোগ্রাফির সিনেমা বানালেন, কিন্তু তাতে গল্প নেই। বা গল্প দুর্বোধ্য। এখন সেই সিনেমা কিন্তু ফিল্ম ক্রিটিকরা তাদের বোদ্ধা মন বা কৃটিসিজমের জায়গা থেকে দেখবেন। কিন্তু একজন সাধারণ দর্শক কিন্তু ক্যামেরার এঙ্গেল, লাইট, মেটাফোর এসব বোঝেন না, সে বোঝে গল্পটা, যে সিনেমাটা তাকে স্পর্শ করতে পারছে কিনা। তার গল্পটা, তার ভাবনাটা প্রকাশ করতে পারছে কি না। এখন আপনি কাদের জন্য সিনেমা বানাবেন, সেই সিদ্ধান্ত আপনার।
তেমনি কাদের জন্য লিখবেন, সেই সিদ্ধান্তও আপনার। আমি চেয়েছি আমার গল্পটা, আমার মত করে বলতে, মজার ব্যাপার হচ্ছে, আমার সেই ‘আমার মতো’ করে বলা আমার গল্পগুলো খুব অল্পসময়েই একটা বৃহৎ পাঠকের গল্প হয়ে উঠেছে। সেই গল্প ওই পাঠককে স্পর্শ করতে পেরেছে। আমার ধারণা আমার গল্প এবং তা প্রকাশের ধরণ তাদের ভালো লেগেছে। এটা এমনও হতে পারে যে আমি দুর্বোধ্য গল্প বলতে চাই নি। চেয়েছি আমার গল্প পড়ে মানুষ কাঁদুক, হাসুক, ভালোবাসুক। আমার গল্প পড়ে মানুষ খুব সহজ করে ভাবুক।


হয়তো অবচেতনেই আমি সাধারণ মানুষের কাতারে ছিলাম, সাধারণ মানুষের মতো করেই ভাবতাম। এ কারণেই আমি অবচেতনেই বোদ্ধাদের লেখক হতে চাইনি, আমি সাধারণ পাঠকের লেখক হতে চেয়েছি। আমি বোদ্ধাদের কাছে নয়, সাধারণ পাঠকের কাছে পৌঁছাতে চেয়েছি।
আরেকটি ব্যাপার হচ্ছে, আমি চাই না আমার গল্প পড়ে বুঝতে হলে পাঠককে নন্দনতত্ত্ব জানতে হবে, সাহিত্যের ছাত্র হতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হতে হবে। আমি চেয়েছি একজন অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন মানুষও যেন আমার গল্পটা বুঝতে পারে। কারণ আমি সাধারণ মানুষের গল্পকার হতে চেয়েছি। আমি বিষয়টিকে এভাবেই দেখি। আর পাঠক যখন তার ভালোবাসার জায়গাটা খুঁজে পাবে, তখন সে এমনিতেই সেই ভালোবাসা কুড়াতে ছুটে আসবে। ভালোলাগার বইও পাঠকের কাছে ভালোবাসা কুড়িয়ে বুকে জমিয়ে রাখার মতই।

মাত্র তিনটা উপন্যাস আপনাকে দিয়েছে প্রবাদসম জনপ্রিয়তা। বিষয়টা আশার না আশঙ্কার?
আমি একটু কম ভাবি এইসব বিষয়ে। যখন প্রথম বই প্রকাশ করি, সেটি অনেকটাই কাকতালীয় ঘটনা। আমিতো জানতামই না যে আমি উপন্যাস লিখতে পারি। তো সেটা যখন হলো, মানুষ যে আমার ৩ টি বই এভাবে পড়লো, আমারতো মনে হয় তারা যদি আমার আর একটি বইও না পড়ে, তা নিয়েও আমার আক্ষেপ থাকবে না। বরং আমি যা পেয়েছি, তাই নিয়েই খুশি। আগেও বলেছি যে আমি লিখি, কারণ লিখতে আমার ভালো লাগে। এমন না যে পাঠকের আমার বই পড়তে ভালো লাগে বলেই আমি শুধুমাত্র লিখি।
হ্যাঁ, পাঠক যখন লাইন ধরে আপনার বই কিনবে, তখন আপনি তা দেখে ইন্সপায়ার হবেন, কিন্তু লেখার জায়গাটা একদমই ব্যক্তিগত। সেই জায়গা থেকেই আমি বলি যতদিন আমার লিখতে ভালো লাগবে, লিখবো। যেদিন লিখতে ভালো লাগবে না, সেদিন লিখবো না। আরেকটা কথা, আমার মনে হয় আমার বুকের ভেতর অজস্র গল্প, সেইসব গল্প আমি যতটা সম্ভব বলে যেতে চাই, যত বেশি সম্ভব। এই গল্প বলাটাই আমার কাছে আসল। আর কিছু না।

জনপ্রিয়তা ধরে রাখার কৌশল আছে কোনো?
আমার মনে হয় এই প্রশ্নের উত্তর আমি আগেই দিয়ে দিয়েছি। আমি জনপ্রিয়তার কথা ভেবে লিখি না। কেন, একটা ব্যাখ্যা দিচ্ছি। ধরুন, পাঠক কী একজন? তা কিন্তু নয়, পাঠক অজস্র, এখন এই অজস্র পাঠকের অজস্র রকমের ভাবনা, চিন্তা, অনুভূতি, তো আপনি কাকে টার্গেট করে, কার জন্য, কার মন মতো লিখবেন? আপনি কিন্তু একজন কাউকে ইমপ্রেস করে লিখতে গেলে হয়তো দেখবেন, সেটি অন্য কারো ভালো লাগলো না। ওই যে কথায় আছে না, মেনি মেন, মেনি মাইন্ডস! সো আমি মনে করি লেখাটা উচিৎ নিজের জন্য, নিজের মতো করে। সেটি পাঠককে স্পর্শ করতে পারলে ভালো, না পারলেও ক্ষতি নেই, আপনি আপনার বুকে জমানো গল্পটাতো বলতে পারছেন, এটাই কতজন পারে!
সুতরাং জনপ্রিয়তা ধরে রাখা, জনপ্রিয় হয়ে ওঠার আলাদা কোন কৌশল আমার জানা নেই। আমার কেবল মনে হয়, লেখক কখনো যেন আরোপিত গল্প না লেখেন, জোর করে না লেখেন, লেখক লিখবেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে, স্বপ্রণোদিত হয়ে, যা তার বুকের ভেতর থেকে উৎসারিত, যা তার গভীরতম অনুভূতিকে অবলীলায় অকৃত্রিমভাবে প্রকাশ করতে সাহায্য করবে।

কখনো কখনো আপনাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় ‘এখনকার হুমায়ূন আহমেদ’ হিসেবে? বিষয়টা কিভাবে দেখেন?
এটা আমার একার ক্ষেত্রে হয়, তা না। কারো লেখা কারো ভালো লাগলেই এটা হয়। এতে খুশি হওয়ার যেমন কিছু নেই, তেমনি শঙ্কিত হওয়ারও কিছু নেই। বিষয়টা হচ্ছে, হুমায়ূন আহমেদ স্যার আমাদের সাহিত্যের প্রবাদপুরুষ। তার ছিল তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয়তা। তার মৃত্যুতে একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর পাঠকের মধ্যে তীব্র শূন্যতা তৈরি হয়েছে। মানুষ অবচেতনেই তার প্রিয় কিছুর শূন্যতা মেনে নিতে পারে না। সে তাই সবসময় তারমতো কিছু খোঁজে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই শূন্যতা কিভাবে পূরণ হবে, বা আদৌ হবে কিনা? আর হলেও সে কী এখনকার হুমায়ূন আহমেদ হবে? নাকি তার নিজের পরিচয় প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে?

এখানে আমি একটা ইন্টারেস্টিং উদাহরণ দেই। ধরুন, কিংবদন্তী ফুটবলার পেলে আর ম্যারাডোনা পরবর্তী সময়ে ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনায় কী হলো? কেউ একটু ভালো খেললেই তাকে বলা হতো, নতুন পেলে, নতুন ম্যারাডোনা। তো এই ব্রাজিলে একের পর এক নতুন পেলে খেতাব পাওয়া খেলোয়াড় ছিল প্রচুর। ধরুন আদ্রিয়ানো, রবিনহো, কাকা, নানি, নেইমারসহ এই সংখ্যা অনেক। আবার আর্জেন্টিনায় নতুন ম্যারাডোনা খেতাব পেলেন অনেকেই, ওর্তেগা, আইমার, রিক্যুয়েলমে, মেসিসহ আরও অনেকেই। কিন্তু দেখেন, তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ওই নতুন পেলে ম্যারাডোনা তকমা নিয়েই হারিয়ে গেলেন। কিন্তু মাত্র হাতে গোনা দুয়েকজন সেই তকমা ঝেড়ে ফেলে নিজ পরিচয়ে বিকশিত হলেন। যেমন ধরুন ব্রাজিলে নেইমার। আর্জেন্টিনায় মেসি। এদের দুজনকেই দীর্ঘসময় ধরে শুনতে হয়েছে নতুন পেলে, নতুন ম্যারাডোনা। কিন্তু এখন কী আর তা শুনতে হয়? হয় না। কারণ কী? কারণ তারা এখন স্বমহিমায় সমুজ্জ্বল।
বরং এখন অন্য নতুনদের বলা হচ্ছে নতুন নেইমার, নতুন মেসি। সুতরাং এই তুলনা নিয়ে আপ্লুত হবার যেমন কিছু নেই, শঙ্কিত হবারও কিছু নেই। আসল বিষয়টি হচ্ছে নিজের কাজটি করে যাওয়া। কার কী পরিচয় থাকবে, কার কী জায়গা থাকবে সেটি নির্ধারণ করবে পাঠক আর সময়। এর চেয়ে বড় নির্ধারক আর নেই।

চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বপ্ন আপনার। হুমায়ূন আহমেদের পথে হাঁটছেন?
একদমই না। আমি সবসময়ই বলি, আমার গল্প বলতে ভালো লাগে। এখন গল্প বলার মাধ্যম কী কী? সকল সৃজনশীল মাধ্যমের কাজই গল্প বলা। যেমন ধরুন পেইন্টিং, ফটোগ্রাফি, ভাস্কর্য, সিনেমা, উপন্যাস এই সকল মাধ্যমের কাজই কিন্তু তাদের মত করে গল্প বলা। এখন আমার গল্প বলতে ভীষণ ভালো লাগে। তো আমি আমার পক্ষে সম্ভব সকল মাধ্যমেই গল্প বলতে চাই। যেহেতু ভিজুয়াল মাধ্যম নিয়ে আমার অল্প বিস্তর জানাশোনা রয়েছে, সুতরাং এই মাধ্যমে গল্প বলার ইচ্ছেটাই আমার প্রধান।

এত মায়া দিয়ে লেখেন কিভাবে?
আমার ধারণা এটা অনুভূতিপ্রবণতার বিষয়, সংবেদনশীলতার বিষয়। আপনি একটি ঘটনাকে কিভাবে অনুভব করতে পারছেন, কতটা তীব্রভাবে স্পর্শ করতে পারছেন, সেটিই নির্ধারণ করবে আপনি কিভাবে সেই গল্পটি প্রকাশ করবেন। আমার ধারণা আমি প্রচণ্ড সংবেদনশীল একজন মানুষ, এবং এটিই আমার প্রধান শক্তি।

আপনার লেখা পড়লে মনে হয়, সবকিছুই গভীর দৃষ্টিতে দেখেন। একটা ছোট ঘটনাও লেখা থেকে বাদ যায় না। দেখার এই চোখটা জন্মালো কিভাবে?
সম্ভবত আমার বেড়ে ওঠার একটা ভূমিকা রয়েছে এতে। বিশেষ করে আমার মা, অসম্ভব বুদ্ধিমতী নারী। তিনি খুব ছোট ছোট বিষয়কেও এতো গভীরভাবে ব্যাখ্যা করতেন, যেটা তখন বুঝিনি, কিন্তু এখন ভাবলে অবাক হয়ে যাই।
একবার প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছে, আমি পুকুরে গোসল করতে নেমেছি। তো বৃষ্টির কারণে পুকুরে পাড়ের মাটি পানিতে ভিজে ধ্বসে যাচ্ছিল। আমি সেই খাড়া পার দিয়েই উঠতে যাচ্ছিলাম, কিন্তু একদম শেষ মুহূর্তে এসে হঠাৎ পা পিছলে গেলো। কখনো এমন হয় না, যে একটা অটোমেটিক রিফ্লেক্স হয় শরীরের, আশে পাশে কিছু একটা ধরার চেষ্টা? আমি ধরে ফেললাম যেখানে খানিক আগে আমার পা ছিল, ঠিক সেখানেই জন্মে থাকা কিছু লম্বাকায় দূর্বাঘাসের গুচ্ছ। ঘাসগুলো কিন্তু খুব একটা শক্ত ছিল না, কারণ প্রবল বর্ষণে শেকড় আলগা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আমি অবাক হয়ে আবিষ্কার করলাম, সেই সামান্য ঘাসগুলোই আমাকে একটা ভয়াবহ পতন থেকে রক্ষা করলো।
আম্মা পুরো বিষয়টি দেখেছিলেন, তিনি আমাকে ডেকে বললেন, শোন বাজান, এইটা থেকে একটা শিক্ষা নেয়ার ব্যাপার আছে, জীবনে খুব তুচ্ছ জিনিষও বড় কোন প্রয়োজনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এটা সব সময় মনে রাখবা। এইজন্য কাউরে কখনো অবহেলা করবা না, উপেক্ষা করবা না। তুমি জানো না, কে কখন কিভাবে তোমার পাশে এসে দাঁড়াবে। হয়তো খুব সামান্য একটি বিষয়, কিন্তু সেই ঘটনা এবং কথাটা এখনো আমার মাথায় গেঁথে আছে। আমার মা এমন অদ্ভুত অদ্ভুত কথা বলতেন। আমার ধারণা, তিনি তার এবং আমার , উভয়ের অবচেতনেই আমার ভেতর ভাবনার এই দিকগুলোর বীজ বুনে দিয়েছিলেন।

সহজ গল্প ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে বলেন। ডিটেইলস দিতে গিয়ে ফর্মা বাড়ান, এমন অভিযোগের জবাবে কী বলবেন?
এমন অভিযোগ খুব একটা পাইনি। বরং উল্টোটাই পেয়েছি, কঠিন জিনিষ খুব সহজে বলতে পারি, এটাই সবচেয়ে বেশি শুনেছি। এও শুনেছি যে কেন আমি বই এতো দ্রুত শেষ করলাম, কেন আরও বড় করলাম না। একটা বইতে একটা বছর কাটানো সম্ভব হচ্ছে না, পাঠক তৃষ্ণার্ত হয়ে থাকেন। তারা চান আরও বড় বড় একাধিক বই। এমন ভালোবাসার জায়গা থেকে অভিযোগগুলোই মূলত বেশি পাই। আর অল্পবিস্তর অমন অভিযোগ যারা করেন, তাদের কথাও মন দিয়েই শুনি, নিজের সমস্যাগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করি, এই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। তবে একটা বিষয় হচ্ছে, আপনি কখনোই জগতের সকল মানুষকে খুশি করতে পারবেন না, এটা বুঝতে পারাটা জরুরী।

অন্যান্য লেখক থেকে আপনি যেখানে স্বতন্ত্র।
এটাতো ভাই আমি বলতে পারব না, পাঠক বলতে পারবে। এটা পাঠকের প্রশ্ন।

কোন বই, বা কার লেখা পড়ে তার মতো হতে ইচ্ছে করেছে?
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়।

লেখকের সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বইয়ের সমালোচনায় লক্ষ করা যায়। আপনি এর শিকার হয়েছেন? বিষয়টাকে কিভাবে সামলান?
হ্যাঁ, হয়েছি। এবং এটিই বেশি দেখা যায়। মজার ব্যাপার হচ্ছে, আজকাল এটি বোঝার সহজ উপায়ও আছে। আমি একবার একটা ওয়ার্কশপে গিয়েছি, তো ওখানে অনেক ইয়াং ছেলেমেয়ে লিখছে, তারা তাদের লেখা আমার কাছে দেখাতে নিয়ে এসেছে, যে ভাইয়া, কেমন হয়েছে। তো আমি তাদের বললাম, একজন লেখককে কখনো লেখা দেখাতে হয় না। তারা অবাক হয়ে বললো, কেন? আমি বললাম, সেই লেখক তাহলে কখনোই নিরপেক্ষভাবে সেই লেখার মূল্যায়ন করতে পারবে না। তার আরও অবাক হয়ে বললো, কেন? আমি বললাম, কারণ সেই লেখক লেখাটিকে মূল্যায়ন করবে এভাবে যে আমি হলে এটা কিভাবে লিখতাম, এখন সে কিভাবে লিখত, সেভাবে কেন আমাকে লিখতে হবে, আমিতো তার মতো করে লিখতে চাই না, আমি চাই আমার মতো করে লিখতে। কিন্তু একজন লেখক সমালোচনার সময় তার লেখক সত্ত্বা বা বৈশিষ্ট্য থেকে কখনো বের হতে পারেন না, সমালোচনার সময় এটি একটি বড় সমস্যা বলে আমি মনে করি।

আমার একটা অবজার্ভেশন বলি। আমার লেখা নিয়ে ফেসবুকে যেসব কঠোর কঠিন, ভয়াবহ, সম্পূর্ণ বিস্ফোরক, একশনধর্মী, সাস্পেন্সিভ সমালোচনা দেখেছি, তার প্রায় ৯৯ ভাগ-ই হচ্ছে লেখালেখি করেন। লেখক, কবি বা কোন না কোনভাবে ‘সৃজনশীল’ লেখালেখির সাথে যুক্ত এমন মানুষের কাছ থেকে।
আবার মজার ব্যাপার হচ্ছে আমার লেখা নিয়ে ঠিক একইরকম ভূয়সী প্রশংসা আমি যাদের কাছ থেকে পেয়েছি, তারাও প্রায় শতভাগই সাধারণ পাঠক। যারা লেখালেখির সাথে সেই অর্থে যুক্ত নয়, যারা কেবলই পাঠক। এটি এইজন্য একটি ইন্টারেস্টিং অবজার্ভেশন যে, আপনি এ থেকে সহজেই বুঝতে পারবেন, লেখক কেন শ্রেফ পাঠ হয়ে উঠতে পারেন না, কেন তিনি কেবলই গল্পটা পাঠ করতে পারেন না, কেন সেখানে সমালোচনার বাইরেও আরও নানা বিষয়াদি যুক্ত থাকে। যার মধ্যে প্রফেশনাল জেলাসি সবচেয়ে বেশি। আর এমনিতেওতো আমরা পরশ্রীকাতর জাতী হিসেবে স্বীকৃত।

শুধু তাই না, ‘মিড নাইট ইন প্যারিস’ নামে একটি বিখ্যাত সিনেমা আছে। ওখানে একজন ইয়াং রাইটার ৪০০ পৃষ্ঠার একটি উপন্যাস লিখেছেন, তো তিনি প্যারিসে এসেছেন। ঘটনা চক্রে তার সাথে বিশ্বখ্যাত লেখক আর্নেস্ট হেমিংওয়ের দেখা হয়ে যায়। তো তরুণ লেখকের খুব ইচ্ছে যে তার উপন্যাসটা হেমিংওয়েকে দিয়ে দেখিয়ে নিবেন। তিনি হেমিংওয়েকে তার পাণ্ডুলিপিটা দিয়ে বললেন, স্যার যদি একটু পড়ে বলতেন, কেমন হয়েছে? হেমিংওয়ে পাণ্ডুলিপিটা হাতেও নিলেন না, কিন্তু বলে বসলেন, ‘খুবই জঘন্য হয়েছে।’ তরুণ লেখক ভারী অবাক হয়ে বললেন, কিন্তু স্যার আপনিতো পড়েই দেখলেন না! না পড়েই কি করে বুঝলেন?’

হেমিংওয়ে তখন গম্ভীর মুখে বললেন, ‘ওটা পড়ার পর যদি সেটা আমার বোঝাবুঝি মতো ভালো না লাগতো, তবে ওটাকে আমি জঘন্যই বলতাম। আর ওটা যদি অসাধারণ রকম ভালো হয়ে যেতো, তাহলে তখনো ওটাকে আমি জঘন্যই বলতাম। বরং তখন আরও জঘন্য বলতাম।’ তরুণ লেখক যারপরনাই বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কেন স্যার, কেন?’ হেমিংওয়ে বললেন, ‘লেখকরা কখনোই তারচেয়ে ভালো কোন লেখা নিতে পারে না। তা সে যতই ভালো হোক, সেটি তার কাছে জঘন্যই হবে। তো এইজন্য, তোমার বই আমি না পড়েও বলে দিতে পারলাম যে জঘন্য হয়েছে।

সত্যিই কি নিখোঁজ হবেন? পাঠকদের কী হবে?
একদিনতো সত্যি সত্যিই নিখোঁজ হতে হবে। তারপর হয়তো পাঠকদের কাছেই থেকে যাবো।অথবা পুরোপুরি নিখোঁজ হয়ে যাবো।

Channel-i-Tv-Live-Motiom

Jui  Banner Campaign
ট্যাগ: সাক্ষাৎকারসাদাত হোসাইন
শেয়ারTweetPin

সর্বশেষ

বিশ্বকাপের বাকি ৩০ দিন, জানার আছে যা কিছু

মে ১২, ২০২৬
ছবি: প্রতিনিধি

দিনাজপুরে জমি নিয়ে বিরোধে বাবা ও সৎ ভাই খুন

মে ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনে খাদ্যসংকট, সামনের সারির সৈন্যরা অনাহারে

মে ১২, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও মরক্কো সফরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন শামা ওবায়েদ

মে ১২, ২০২৬
ছবি: প্রতিনিধি

ফেনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা ও ছেলে নিহত

মে ১২, ২০২৬
iscreenads

প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
সম্পাদক: জাহিদ নেওয়াজ খান
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড , ৪০, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ
www.channeli.com.bd,
www.channelionline.com 

ফোন: +৮৮০২৮৮৯১১৬১-৬৫
[email protected]
[email protected] (Online)
[email protected] (TV)

  • আর্কাইভ
  • চ্যানেল আই অনলাইন সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In
Bkash Stickey January 2026 Bkash Stickey September 2025 Desktop

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • প্রচ্ছদ
  • চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • স্বাস্থ্য
  • স্পোর্টস
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • কর্পোরেট নিউজ
  • আইস্ক্রিন
  • অপরাধ
  • আদালত
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মতামত
  • আনন্দ আলো
  • জনপদ
  • আদালত
  • কৃষি
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • নারী
  • পরিবেশ
  • প্রবাস সংবাদ
  • শিক্ষা
  • শিল্প সাহিত্য
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

© 2023 চ্যানেল আই - Customize news & magazine theme by Channel i IT