টাঙ্গাইলের বাসাইলে হেলাল মিয়া নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে পরিবারের অভিযোগ নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় তার মৃত্যু হয়েছে।
তিন দিন আগে নির্বাচনে একজন প্রার্থী হেরে যাওয়ার পর উপজেলার ফুলকী ইউনিয়নের বালিয়া উত্তরপাড়ায় হেলাল মিয়াসহ আরও কয়েকজনের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। তার পর থেকে অসুস্থ হয়ে নিজ বাড়িতেই ছিলেন তিনি। শনিবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।
মৃতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে উপজেলার ফুলকী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের বালিয়া গ্রামে ইউপি সদস্য পদে জামাল উদ্দিন হেরে যান।
নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ক্ষোভ ও ভোট না দেওয়ায় অভিযোগ এনে ওইদিন রাতে জামাল উদ্দিনের লোকজন বালিয়া উত্তরপাড়া এলাকার লাভলু ও হেলাল মিয়াসহ একাধিক বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে।
সেসময় হেলাল মিয়ার স্ত্রী মিনু বেগম তাকে নিয়ে পাশের একটি ঘরে আশ্রয় নেন। ওই সময় মিনু বেগমকেও মারধর করা হয়।
মৃতের ছেলে মামুন মিয়া বলেন, নির্বাচনে হেরে জামাল উদ্দিনের লোকজন আমাদের বাড়িতে হামলা করে। সেসময় আমার মা ও বাবাকে মারধর করা হয়। মারধরের কারণে বাবার মৃত্যু হয়েছে।
তবে সাবেক ইউপি সদস্য জামাল উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, হেলাল আমার বন্ধু ছিল। তিনি আমার সঙ্গেই চলতেন। তাকে মারবো কেন। আমার লোকজন কেউ তার বাড়িতে হামলা বা তাকে মারধর করেনি। তিনি আগে থেকেই বিভিন্ন রোগে ভূগছিলেন।
‘‘তাকে কেউ মারধর করলে তো তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতেন। তিনি হাসপাতালেও যাননি। হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে বাড়িতেই মারা গেছেন। এই স্বাভাবিক মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে একটি পক্ষ নির্বাচনি সহিংসতায় চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।’’
স্থানীয় ইউপি সদস্য (সদ্য সাবেক) নূরুল ইসলাম বলেন, ভোরে তিনি মারা গেছেন। শুনেছি তিনি আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। তবে নির্বাচনি সহিংসতায় ৫ জানুয়ারি রাতে কয়েকটি বাড়িতে ভাংচুর চালিয়েছিল পরাজিত প্রার্থীর লোকজন।
বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ বলেন, বাড়ি-ঘরে হামলার ঘটনায় শুক্রবার একটি মামলা হয়েছে।








