বৃদ্ধাশ্রমে যেন যেতে না হয়, সেজন্য নিজের ছেলেকেই গুলি করে হত্যা করেছেন ৯২ বছর বয়সী এক মা। ৭২ বছর বয়সী ছেলেকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে অ্যানা মে ব্লেসিং নামের ওই নারীর বিরুদ্ধে।
যুক্তরাষ্ট্রের আরিজোনা অঙ্গরাজ্যের মারিকোপা কাউন্টির ফাউন্টেন হিলস শহরে ২ জুলাই এ ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ রেকর্ডের সূত্রে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম।
মামলার নথিপত্র অনুসারে, অ্যানা মে বেশ কয়েকদিন ধরেই বুঝতে পারছিলেন তার ছেলে তাকে কেয়ার হোমে পাঠাতে চাইছেন। তাই ক্ষোভের বশে তিনি ছেলেকে হত্যা করেন।
ছেলের নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ।
বিবিসি জানায়, আরিজোনায় ছেলে ও ছেলের বান্ধবীর সঙ্গে একই বাড়িতে থাকতেন অ্যানা মে। প্রাথমিক তদন্ত অনুসারে, ছেলে অ্যানা মেকে একটি অ্যাসিস্টেড লিভিং ফ্যাসিলিটিতে রেখে আসার পরিকল্পনা করছিলেন, কারণ ‘তার সঙ্গে বসবাস খুব কঠিন হয়ে উঠছিল’।
পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, টানা কয়েকদিন ধরে বিষয়টি বুঝতে পেরে সরাসরি ছেলের সঙ্গে কথা বলতে তার শোবার ঘরে যান অ্যানা মে। সঙ্গে করে ঘুমানোর পোশাকের পকেটে লুকিয়ে নিয়ে যান দু’টি আগ্নেয়াস্ত্র।
বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে ১৯৭০’র দশকে কেনা একটি রিভলবার পোশাকের পকেট থেকে বের করে ছেলের দিকে গুলি ছোড়েন মা অ্যানা মে। ঘাড় এবং চোয়ালে গুলি লেগে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।
এরপর ছেলের ৫৭ বছর বয়সী বান্ধবীর দিকে অ্যানা মে অস্ত্র তাক করেন। ওই সময় ধস্তাধস্তি করে তিনি অস্ত্রটি ঘরের এক কোনায় ছুড়ে ফেলতে সফল হন।
তখন আরেক পকেট থেকে অ্যানা মে বের করেন স্বামীর দেয়া পিস্তলটি। সেটাও কোনোভাবে তার হাত থেকে ফেলে দিতে সক্ষম হন ছেলের বান্ধবী। তারপর তিনি ছুটে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে শেরিফের অফিসে পৌঁছে সব জানান।
পুলিশ বাসায় ঢুকে অ্যানা মে ব্লেসিংকে শোবার ঘরের রিক্লাইনিং চেয়ারে বসে থাকতে দেখেন। বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে বের করে আনার সময় তিনি ছেলের মৃতদেহের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তুমি আমার জীবন শেষ করেছ, তাই আমিও তোমার জীবন শেষ করে দিলাম।’
নিজের কৃতকর্মের জন্য তাকে ‘ঘুম পাড়িয়ে দেয়া দরকার’ বলে পুলিশকে বলেছেন অ্যানা মে।
অ্যানা মের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, ক্ষতির উদ্দেশ্যে হামলা এবং অপহরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। তার জামিনের মূল্য ধরা হয়েছে ৫ লাখ মার্কিন ডলার।







