ফুটবল

ফাইনাল নয়, ডি মারিয়ার কাছে ইংল্যান্ডকে হারানো ছিল বিশ্বকাপের সেরা অর্জন

England goalkeeper in black jersey during a match. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

England’s goalkeeper in black kit on the field during a football match. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বজয়ের মুকুট হাতছাড়া করেছে আর্জেন্টিনা। শিরোপা না পাওয়ার সেই ক্ষত এখনো কোটি আলবিসেলেস্তে সমর্থকের মনে দগদগে। তবে আর্জেন্টিনার সাবেক তারকা অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়ার চোখে ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মুহূর্ত ফাইনাল নয়, বরং সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানো। তার মতে, ইংল্যান্ডকে হারানো ম্যাচেই আর্জেন্টিনার মানুষ তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ পেয়ে গিয়েছিল, আর তার কাছে বিশ্বকাপও শেষ হয়ে গিয়েছিল সেদিনই।

সম্প্রতি টিএনটি স্পোর্টসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এমন জানান ডি মারিয়া। ৩৮ বর্ষী উইঙ্গার বলেন, ‘ইংল্যান্ডকে হারানো পুরো দেশের জন্যই ছিল অসাধারণ আনন্দের। সেটি খুব স্পষ্টভাবেই অনুভূত হয়েছে, আর সেটি আমাকে ভীষণ আনন্দ দিয়েছে। সবার প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ।’

আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যে ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে ‘ফকল্যান্ড যুদ্ধ’ একটি দগদগে ইতিহাস। সেমিফাইনালে থ্রি লায়ন্সদের ২-১ গোলে হারানোর পর আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলার মাঠেই ফকল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব দাবি করে ‘লাস মালভিনাস সন আরহেনতিনাস’ লেখা ব্যানার প্রদর্শন করেছিলেন-যা নিয়ে বর্তমানে তদন্ত চালাচ্ছে ফিফা।

১৯৮৬ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার ঐতিহাসিক গোলের মতোই ২০২৬ সালে ইংল্যান্ডকে হারানোকেই বিশ্বকাপের মূল অর্জন হিসেবে দেখছেন কাতার বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করা ডি মারিয়া। বলেছেন, ‘এই দল শুধু করতালির নয়, এর চেয়েও অনেক বেশি কিছুর দাবিদার। তারা যা অর্জন করেছে, আর ইংল্যান্ডকে হারানো-সেটিই ছিল সবকিছুর মুকুট। আমার কাছে বিশ্বকাপ সেখানেই শেষ। তারা দেশকে সবচেয়ে বড় আনন্দটা দিয়েছে সেদিন।’

শিরোপা ধরে রাখার মিশনে এবার শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার যাত্রাটা মসৃণ ছিল না। নকআউটে কেপ ভার্দে, মিসর ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেতে ঘাম ঝরাতে হয়েছে তাদের। তবে ফাইনালে ছন্দহীন পারফরম্যান্স থাকলেও পুরো টুর্নামেন্টে মেসিদের লড়াকু মানসিকতায় সন্তুষ্ট ডি মারিয়া। বলেছেন, ‘প্রতিটি ম্যাচেই আমাদের কষ্ট করতে হয়েছে। কিন্তু দলটা ভেতর থেকে সেই শক্তিটা খুঁজে বের করেছিল, যেটি শেষ পর্যন্ত তাদের জয় এনে দিয়েছে। ফাইনাল কখনো জেতা যায়, কখনো যায় না। এবার হয়নি, কিন্তু তারা নীল-সাদা পতাকাকে উঁচুতেই রেখেছে।’

লিওনেল মেসি এবং কোচ লিওনেল স্কালোনির ভবিষ্যত নিয়েও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন ডি মারিয়া। সাবেক সতীর্থ মেসিকে নিয়ে বলেন, ‘সে যত দিন চাইবে, তত দিন জাতীয় দলে থাকুক। আমার মনে হয়, তার সামনে আরও অনেক বছর আছে। ৩৯ বছর বয়সেও সে প্রমাণ করেছে, ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় সে। তার কোনো সীমা নেই।’

স্কালোনিকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘তিনি আজকের স্কালোনি। সবার ভালোর জন্যই আমি চাই, তিনি থাকুক। সামনে দারুণ এক প্রজন্মের তরুণ ফুটবলার আছে। শেষ পর্যন্ত তিনি কী চান, সেটি তিনিই জানেন। তবে আমি আশা করি, তিনি দায়িত্ব চালিয়ে যাবেন।’

বিষয়:ইংল্যান্ড ডি মারিয়া ফকল্যান্ড যুদ্ধ ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬ মেসি স্কালোনি

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…