বাল্য বিয়েতে রাজি না হওয়ায় নিজের মেয়ের ওপর গরম তেল ঢেলে দিল বাবা মা। শুধু তাই নয় ১৫ বছর বয়সী কিশোরী মারিব আল হিশ্বাভিরের ওপর চালানো হয় অমানবিক অত্যাচার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এফবিআই) তদন্তে উঠে আসে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য টেক্সাসে ‘সান এনন্টোনিও স্কুলের’ এক কিশোরীর এমনই লোমহর্ষক নির্যাতনের কথা।
এমন অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছে অনেক কিশোরী, যাদের বয়স ১৫ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এর বেশিরভাগ অত্যাচারের ঘটনাই ঘটে নিজ পরিবার এবং নিকট আত্নীয় দ্বারা।
টেক্সাসের স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম কেএসএটি-১২ থেকে বলা হয়, ক্রমাগত নিজের মেয়ের ওপর সহিংসতার অভিযোগ উঠে ২০১৭ সালে। তারপর তদন্ত করে প্রমাণ পেলে আটক করা হয় মারিব আল হিশ্বাভির পরিবারকে। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই বন্ড সই দিয়ে ছাড়া পান তারা।
বাবা আবদুল্লাহ ফাহমী হাশ্মি ও মা হামাদিহা সাবাহ আল হাশ্মিকে যখন জেলে নিয়ে যাওয়া হয়, বাবা নিজের মেয়েকে মাদকাসক্ত বলে অভিযোগ করতে থাকে এবং বাল্য বিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি অস্বীকার করতে থাকে।
স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী এজেন্সি দ্য শেরিফ কার্যালয় থেকে বলা হচ্ছে, ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময় ২০ হাজার ডলার অর্থাৎ প্রায় ১৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকার বিনিময়ে ১৫ বছর বয়সী মারিভ আল হাশ্মিকে বিয়ে দেওয়ার জন্য জোড় করে পরিবার। সে বিয়েতে রাজি না হয়ে প্রত্যাখ্যান করলে মা-বাবা তাকে ঝাড়ু দিয়ে মারধর করে পরে গরম রান্নার তেল শরীরে ঢেলে দেয়।
শেরিফ জেভিয়ার সালাজার একটি প্রেস কনফারেন্সে বলেন, আমরা অনেকবার খবর পেয়েছিলাম মেয়েটি বিভিন্ন সময়ে বেশ নির্যাতনের শিকার হয়েছিল কারণ সে প্রাপ্তবয়স্ক ওই ব্যক্তিরকে বিয়ে করতে চায়নি। তবে যখন নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে, তার গায়ে যখন গরম তেল ঢেলে দেওয়া হয় মারাভি জ্ঞান হারায়।
এতদিন ধোঁয়াশায় থাকলেও ২০১৮ সালে যখন আল মারভি তার স্কুলে অনুপস্থিত থাকে তখন স্কুল কতৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনায় আনে। স্কুল ধরেই নেয় ১৬ বছর বয়সী মারভি অপহরণ হয়েছে। এ ঘটনায় এফবিআই এক বিশেষ তদন্তে নামে, প্রতিবেদনে উঠে আসে পরিবারিক নির্যাতনের এমন বহু ঘটনা। মার্চের মাঝামাঝি সময় তদন্তের প্রথমে মারভি বাবা মার নির্যাতনের কথাটি অস্বীকার করে আসছিল। কিন্তু আইনের আওতায় নিলে বের হয়ে আসে সঠিক তথ্য।
যে প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সঙ্গে তার বিয়ে দেওয়া হয়, তাকে পুলিশ খুঁজে বের করে জেরা করছে। মারাভির আরও পাঁচ ভাইবোন আছে। তাদের পুলিশ নিরাপত্তায় রাখা হয়েছে। কারণ যে কোন সময় তাদের ওপর পরিবার নির্যাতন করতে পারে।
এক সমীক্ষায় দেখা যায় যে, বাল্য বিয়ে এবং জোড় করে বিয়ে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের একটা প্রধান সমস্যা। ২০০০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৪৮ হাজার কিশোরীর বাল্য বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় জোড় করে। যাদের বয়স ১২ বছর থেকে ১৯ বছর। আল হাস্মি পরিবার ইরাক থেকে দুইবছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে থাকছে।






