সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। চুক্তির বিষয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেছেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। আঞ্চলিক শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতায় আগ্রহী অন্যান্য ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ চাইলে ভবিষ্যতে এ চুক্তিতে যোগ দিতে পারবে।
আজ (৮ আগস্ট) শনিবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে সংবাদ মাধ্যম ডন জানিয়েছে,পবিত্র মক্কায় অনুষ্ঠিত যৌথ প্রতিরক্ষা সম্মেলনে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এরদোয়ান বলেন, নতুন এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা তিন দেশের সামরিক সক্ষমতা জোরদারের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় ভূমিকা রাখবে।
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বলেন, চুক্তিটি সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যকার গভীর ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সম্পর্কের প্রতিফলন। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য একসঙ্গে কাজ করার রাজনৈতিক সদিচ্ছাও এতে প্রকাশ পেয়েছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো তিন দেশের সম্মিলিত প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানো এবং নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পরিধি আরও বিস্তৃত করা। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চুক্তিটিকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এটি তিন দেশের জন্য ‘শান্তির ঢাল’ হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বে শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠায় এটি ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিন দেশের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলাই চুক্তির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। তবে এতে সামরিক বা নিরাপত্তা সহযোগিতার বিস্তারিত কাঠামো প্রকাশ করা হয়নি।
তুরস্কের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চুক্তিটি সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক। এটি কোনো দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয় এবং বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় নিরাপত্তা চুক্তির বিকল্পও নয়।







