ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি একটি বিবৃতি দিয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের শিক্ষক সমিতির বিবৃতিতে বলা হয়: ‘বিগত কয়েক বছর যাবৎ দেশের অন্যান্য ক্ষেত্রের ন্যায় শিক্ষা ক্ষেত্রেরও অনেক অর্জন হয়েছে। শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ও উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে, বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন সেশন জট নাই বললেই চলে, যা এক সময় ছিল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি বড় ব্যাধি। এটা সম্ভব হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারিসহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলের আন্তরিক চেষ্টা ও সহযোগিতার কারণে। আমরা লক্ষ্য করেছি, সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন হলে সিট বণ্টনকে কেন্দ্র করে পরস্পরের প্রতি দোষারোপ, শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা এবং একদল উচ্ছৃঙ্খল ছাত্র কর্তৃক শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের নাজেহাল করা হয়েছে। কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্ভুক্তিকরণ ও ইনস্টিটিউট-এ রূপান্তর করার অজুহাতে রাস্তাঘাটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আন্দোলন, প্রতি-আন্দোলন কর্মসূচি পালনের নামে যানজট ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টিসহ একটি গোষ্ঠী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে অস্থিরতা সৃষ্টির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে যেমন শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে তেমনি আইন-শৃঙ্খলার অবনতিরও আশংকা দেখা দিয়েছে। আমরা মনে করি, এহেন উচ্ছৃঙ্খল আচরণের অর্থ দাঁড়ায় দেশের চলমান অগ্রগতিকে শ্লথ করে দেওয়া। এমতাবস্থায়, শিক্ষাক্ষেত্রে বিগত বছরগুলোর অর্জনকে আরো সংহত ও বেগবান করার লক্ষ্যে শিক্ষাঙ্গনে স্থিতিশীল অবস্থা বজায় রাখতে এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ রক্ষার্থে আমরা সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে দায়িত্বশীল আচরণ করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’ ঢাবি শিক্ষক সমিতির বক্তব্যের সঙ্গে আমরা সহমত পোষণ করছি। আমরা মনে করি, এসব ক্ষুদ্র বিষয় নিয়ে আন্দোলন, প্রতি-আন্দোলনের নামে জনদুর্ভোগ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্টের চেষ্টার কোন মানে হয় না। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথ নিয়মে নিজেদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরা যেতে পারে। আবার কাউকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করলে, বিভিন্ন খেলাধুলায় ঢাবির লোগো ব্যবহার করতে দিলে তাতে নিজেদের জাত যাওয়ার মানসিকতাও পরিহার করা জরুরি। এসব বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে বলে আমরা মনে করি। কিন্তু দু:খজনক হলেও শিক্ষকদের বড় অংশই ঠিকভাবে এ দায়িত্ব পালন না করে নিজেদেরকে দলীয় লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতিতে জড়িত রাখেন। এর ফলে শিক্ষার্থীরা তাদের থেকে কী শিখছে তা সহজেই বোধগম্য। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ বিষয়টিও শিক্ষকদের ভেবে দেখা উচিৎ বলে আমরা মনে করি। এছাড়া দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অস্থিতিশীলতার মূল কারণ বের করে তা নির্মূলে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিও আমাদের অনুরোধ থাকলো।








