জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস সোমবার সতর্ক করে বলেছেন, নারীরা বিশ্বজুড়েই তাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার ওপর নিত্যনতুন আক্রমণের শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে একদিকে মৌলবাদীদের নারীকে দমিয়ে রাখা এবং অন্যদিকে সরকারগুলোর নারীর স্বাধীনতা কমিয়ে আনা ও পারিবারিক নির্যাতন বিষয়ক আইনের পরিসর ছোট করে আনার বিষয়গুলোকে চিহ্নিত করেন তিনি।
‘কমিশন অন দ্য স্ট্যাটাস অব উইমেন’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গুতেরেস এসব কথা বলেন বলে জানিয়েছে টাইম ম্যাগাজিন।
তিনি বলেন, নারী শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়ন তাদের মাঝে লুকিয়ে থাকা ব্যাপক সম্ভাবনাকে বের করে আনবে। একই সঙ্গে তা উগ্র মৌলবাদ, মানবাধিকার লঙ্ঘন, জেনোফোবিয়া (কোনো দেশ বা জাতি সম্পর্কে ভীতি) এবং অন্যান্য হুমকি থেকে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জগুলোও দূর করবে।
গুতেরেস কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ না করলেও তার বক্তব্যে স্পষ্টই বোঝা গেছে
জাতিসংঘ প্রধান বলেন, পুরুষেরা এখনো পৃথিবীর প্রত্যেকটি দেশে আধিপত্য বিস্তার করে আছে এবং উগ্র পুরুষবাদ নারীকে এগিয়ে যেতে দিচ্ছে না।
‘আমাদের বিশ্বের আরও বেশি নারী নেতৃত্ব দরকার,’ বলেন গুতেরেস, ‘এবং দরকার আরও বেশি পুরুষ যারা জেন্ডার সমতার পক্ষে দাঁড়াবেন।’
জাতিসংঘের নারী অধিকার বিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেন-এর নির্বাহী পরিচালক ফুমজিলে
মালাম্বো-নাগচুকা কমিশনকে বলেন, দেড়শ’র বেশি দেশে প্রচলিত বৈষম্যমূলক আইন পরিবর্তন করা হলে তা ত্রিশ লাখেরও বেশি নারীর জীবন বদলে দিতে পারে। সার্বিকভাবে নারী সমতা বৃদ্ধির ফলে বৈশ্বিক জিডিপি ২০২৫ সালের মধ্যে ২৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে বলেও জানান তিনি।
কিন্তু গুতেরেসের সতর্কবাণী তিনিও তুলে ধরেন এবং নারী অধিকারের প্রতি হুমকিগুলো দূর করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরে জঙ্গি সংগঠন আইএসের কথাই বলেছেন, যারা নারী ও কন্যাশিশুদের যৌনদাসী হিসেবে বিক্রি করে। এছাড়াও তিনি পরোক্ষভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার সরকারের দিকেও আঙ্গুল তুলেছেন বলে মনে করছে টাইম। গর্ভপাত সেবা এবং এ সম্পর্কে তথ্য দেয় এমন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি রাষ্ট্রীয় সব ধরণের সহায়তা নিষিদ্ধ করেছে ট্রাম্প সরকার।










