বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি এক বছরেরও কিছু সময় বেশি। এরই মধ্যে চূড়ান্ত হয়ে গেছে সূচি। ২০১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ২ জুন। প্রতিপক্ষ সাউথ আফ্রিকা। খেলা হবে ওভালে। প্রাথমিক পর্বে ৮ ভেন্যুতে ঘুরে ঘুরে বাংলাদেশ খেলবে মোট ৯ ম্যাচ। আইসিসির নতুন নিয়মে দল কমেছে ম্যাচ বেড়েছে। এটাকে সুযোগ হিসেবে দেখছেন তামিম ইকবাল।
টাইগার ওপেনার মনে করেন, বিশ্বকাপে স্মরণীয় কিছু করতে চাইলে নামতে হবে আত্মবিশ্বাস নিয়ে। যার জ্বালানি হতে পারে বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ যে সিরিজগুলো খেলবে তার ফলাফল।
জুনে ভারতের মাটিতে আফগানিস্তানের সঙ্গে টি-টুয়েন্টি সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। সেটি শেষ হতেই ওয়েস্ট সফর। সেখানে তিন ফরম্যাটের পুর্নাঙ্গ সিরিজ। প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরু হয়ে যাবে ১৩ মে। হাঁটুতে চোট পাওয়া তামিম তার আগেই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ফিরবেন বলে আশার কথা শুনিয়েছেন। পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় থাকা এ ক্রিকেটার শনিবার মিরপুরে এসে কথা বলেন বিশ্বকাপ, আফগানিস্তান সিরিজ, কোচ ইস্যু ও বিশ্ব একাদশে জায়গা পাওয়া নিয়ে।
বিশ্বকাপে সব দলের সঙ্গে খেলবেন, এটা কীভাবে দেখছেন?
তামিম: ব্যক্তিগতভাবে আমি খুবই রোমাঞ্চিত। একটা টুর্নামেন্টে সবার সঙ্গে খেলা, এই সুযোগ আমরা পাব। প্রতিটি টেস্ট খেলুড়ে দেশের সঙ্গে খেলা হবে, একটা সহযোগী দেশও আছে। ফরম্যাট নিয়ে রোমাঞ্চিত। এটা এমন ফরম্যাট, যদি কোনো দল শিরোপা জিততে চায় পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে সেই দলকে ভালো খেলতে হবে। প্রতিটি দলকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। লম্বা সময় ধরে অনেক ম্যাচ জিততে হবে। কোয়ালিফাই করতে। ফরম্যাটটা চ্যালেঞ্জিং হবে।
আমি খেলতে উন্মুখ। গ্রুপ থাকলে বোঝা যায় কটা ম্যাচ আমাদের জিততে হবে এবং কোয়ালিফাই করতে। গ্রুপে এক-দুইটা ম্যাচ জিতলে কোয়ালিফাই করা সম্ভব। কিন্তু এখানে হয়তো ৫-৬টা ম্যাচ জিততে হবে। এটা অবশ্যই একটা চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার আমাদের জন্য। লম্বা সময় ভালো খেলতে হবে। বিশ্বকাপের এখনো এক বছর সময় আছে। টুর্নামেন্টে যদি আমরা স্মরণীয় করে রাখতে চাই, সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, এই সময়ে যে সিরিজগুলো আছে, আমরা যদি ভালো খেলি, সিরিজ যদি জিতি তবে আত্মবিশ্বাস নিয়ে যাওয়া যাবে।
লর্ডসে বিশ্ব একাদেশর হয়ে খেলবেন আপনি ও সাকিব। কেমন লাগছে?
তামিম: আমাদের সবার জন্য গর্বের ব্যাপার হবে এটা। সাধারণত টিভিতে দেখেছি লর্ডসে বিশ্ব একাদশের খেলা হচ্ছে। এখন বাংলাদেশ থেকে দুজন সেখানে প্রতিনিধিত্ব করবে। এটা বড় ব্যাপার। এটাই চেষ্টা থাকবে ভালো খেলে মনে রাখার মতো কিছু করতে।
এখনও কোচবিহীন বাংলাদেশ দল। ব্যাপারটা কতোটা চ্যালেঞ্জিং?
তামিম: আমার কাছে যেটা ভালো লাগছে যে, বিসিবি তাড়াহুড়ো করছে না। চাইলে হুট করে একজন নিয়েও আসতে পারত। তাড়াহুড়ো না করে যাকেই নিয়ে আসুক সময় নিয়ে করছে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। যথার্থ কোচকে খুঁজতে সময় নিচ্ছে, এটা ভালো দিক।
আর খেলোয়াড়দের কথা যদি বলেন, ১৯-২০ জনের মতো আছে এই খেলোয়াড়রাই হয়তো খেলবে। একটু পরিবর্তন হয়তো হবে। খেলোয়াড়রা সবাই মানসিকভাবে প্রস্তুত, তারা জানে যে ভিন্ন কন্ডিশনে বিশ্বকাপ খেলতে হবে। এখন যে কোচিং স্টাফ আছে তারা সেভাবেই এগোচ্ছে। বিদেশের মাটিতে কীভাবে আরো ভালো খেলতে পারি, সেভাবেই এগোচ্ছি।
চোটের কী অবস্থা?
তামিম: আজ (শনিবার) প্রথম দৌড়ালাম। অনেকদিন ধরে রিহ্যাব চলছে। আজ রানিং সেশন শুরু হলো। চার-পাঁচটা রানিং সেশনের পর বুঝতে পারব। রানিংয়ের গতি যখন বাড়াব তখন বলতে পারব ব্যথা আছে কি নেই। আশা করি ১৩ তারিখ ক্যাম্প শুরুর আগে ফিট হয়ে যাব।
সামনে অনেক অনেক খেলা নতুন এফটিপিতে
তামিম: আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ যত ম্যাচ খেলবে গত ১০-১৫ বছরে মনে হয় এত ম্যাচ খেলেনি। এটা ইতিবাচক দিক। বোর্ড-খেলোয়াড়দের সবাইকে কৃতিত্ব দেওয়া উচিত।খেলোয়াড়রা ভালো খেলেছে বলেই অনেক কিছু সম্ভব হয়। আগামী পাঁচ বছর আশা করি দলের সঙ্গে থাকব। চেষ্টা করব যে সুযোগগুলো আসছে দুহাতে লুফে নিতে। শুধু খেলার জন্য খেলা নয়, চেষ্টা করব ভালো খেলতে।
বিশ্বকাপে নকআউট পর্ব নিয়ে কতটা আশাবাদী?
তামিম: বিশ্বকাপে যারা যায় ভালো করতেই যায়। আমি সব সময়ই বলছি এক বছরের পরের চিন্তা না করাই বেটার। তার আগে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ আছে। এগুলোতে মনোযোগী থাকা ভালো। হ্যাঁ, বিশ্বকাপে যাব ভালো করব—এটা সবাই চাই। এখনই বিশ্বকাপ নিয়ে কথা বলাটা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমাদের সামনে যে সিরিজ আসছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর, এশিয়া কাপ—অনেক টুর্নামেন্ট সামনে। তবে চূড়ান্ত লক্ষ্য বিশ্বকাপ, সবাই এখানে ভালো খেলতে চায়। বিশ্বকাপে আমাদের পারফরম্যান্স নির্ভর করবে এই সিরিজগুলো আমরা কেমন খেলছি।
আফগানিস্তান দলে দুই লেগস্পিনার আছে। তাদের মোকাবেলা করা নিয়ে কী ভাবছেন?
তামিম: ওরা দুজনই বিশ্বমানের বোলার। অবশ্যই দুজনকে খেলা চ্যালেঞ্জিং হবে। আইপিএলে দেখেন সবাই ওদের বিপক্ষে সংগ্রাম করছে। একটা ইতিবাচক দিক হচ্ছে ওরা আমাদের বিপিএলেও খেলে। একটু হলেও ধারণা আছে। আমরা অবশ্যই কাজ করব তাদের নিয়ে। যখন আবার সবাই একত্রিত হব তাদের নিয়ে পরিকল্পনা হবে।








