বিশ্বকাপ- ফুটবলের মহাযজ্ঞ। ৩২ দেশের অংশ গ্রহণে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের আসরের অপেক্ষার প্রহর প্রায় শেষ। দূরত্বটা এখন বছর, মাস, দিন পেরিয়ে ঠেকেছে ঘণ্টায়। আশির কোটা পার করা সদ্য যৌবনা ফুটবলের বিশ্ব আয়োজনের এটি ২১তম আসর। বাঙালির জন্য বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই বাড়তি উন্মাদনা-বাড়তি উত্তেজনা। হোক না ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ফিফা’ র্যাঙ্কিংয়ের তলানিতে আমাদের অবস্থান। আগামী একটা মাস চায়ের দোকান থেকে শুরু করে অফিস-আদালত এমনকি রসুই ঘর সর্বত্র থাকবে একটাই আলোচনা ‘বিশ্বকাপ’।
অন্যবারের তুলনায় এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ইতিপূর্বে পতাকার জবাবে পতাকা উড়িয়ে, কথার পিঠে কথা বলে সারা দেশের ফুটবলভক্তরা মেতে থাকতো বিশ্বকাপের পুরো সময়টা। এবার নতুন করে না হলেও আমাদের দেশের বাস্তবতায় যুক্ত হবে ‘সাইবার ক্ল্যাশ’। গত বিশ্বকাপে যৎসামান্য ব্যবহার দেখা গেলেও এবার তার বিস্তৃতি বাড়বে বহুগুণে। একদিকে মাঠে লড়বেন মেসি-নেইমার-রোনালদোরা আর ডিজিটাল বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকরা ব্যস্ত সময় পার করবেন প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকদের সাইবার দুনিয়ায় পরাজিত করার কর্মযজ্ঞে। এরই মধ্যে সাইবার দুনিয়ায় বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন স্টিল ও ভিডিও ট্রল, গ্রাফিক্স, ওভিসি’র মতো ফুটবল প্রেমীদের বিভিন্ন আয়োজন। আগামী কয়েক দিনে যা আরও গতি পাবে।
অনেকেই এটাকে বাঁকা দৃষ্টিতে দেখলেও আমি বলবো এটাই আমাদের ফুটবল প্রীতির বিউটি। এর মাঝেই সকলের কাছে প্রত্যাশা থাকবে শুধুমাত্র তর্কের খাতিরে তর্কে না জড়িয়ে, বাস্তবতার আলোকে যুক্তিসঙ্গত আলোচনায় উত্তেজনার পারদ আরও চড়িয়ে তুলুন।
আসুন কিছু কথা বলা যাক: আমি ‘বাই হার্ট’ আর্জেন্টাইন সাপোর্টার। আমার বাবা ইতালির সাপোর্টার। তাই উত্তরাধিকার সূত্র এখানে বেকার। ম্যারাডোনার খেলা দেখার সুযোগ হয়নি (বয়স ফ্যাক্ট-আবার মফস্বল, ইন্টারনেট-ডিশ হাবিজাবির সুযোগ ছিলো না)। তাই তাকে দেখে আলবিসেলেস্তেদের সমর্থক হয়ে ওঠার সুযোগ ছিলো না আমার জন্য। ফুটবলে আমার নায়ক অ্যারিয়েল ওর্তেগা। আবছায়া মনে থাকা ৯৮’র ফ্রান্স বিশ্বকাপ। বল ক্যারিং, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে বোকা বানিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে যাওয়া তো ছিলোই, সঙ্গে বাতাসে বলের ওপর তার অসামান্য দখল এখনও আমাকে মুগ্ধ করে। সেই থেকে নম্বর টেন আর টিম আর্জেন্টিনার ভক্ত বনে গেছি।
ওর্তেগার পায়ে বল মানেই দুপায়ের কারিকুরিতে সবুজ মাঠে ফুটবলের শিল্প ও সৃজনশীলতার অপূর্ব ডিসপ্লে। বলা হয়ে থাকে শৈল্পিক ফুটবলারদের চারণভূমি লাতিন আমেরিকা। আর সেই শৈল্পিকতার অনন্য উদাহরণ ওর্তেগা। নিজ অর্ধ থেকে বল নিয়ে কী দুর্দান্ত ভাবেই না প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের ফাঁকি দিয়ে ডি-বক্স পর্যন্ত নিয়ে যেতেন। কিন্তু, কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা তিনি পেতেন খুব কমই। শেষটা তার ভালো হতো না। তখন থেকেই অপেক্ষা একদিন এই দলটি শুধু সারা মাঠই দাপিয়ে বেড়াবে না, গোলও করবে।
বিপরীত মতও রয়েছে। এ ওর্তেগাই আবার লাখো আর্জেন্টাইন ভক্তের চোখে আজও ভিলেন। নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে ডি-বক্সের মধ্যে মেজাজ হারানো, বদৌলতে পেনাল্টির সুবর্ণ সুযোগ তো হাত ছাড়াই, সঙ্গে ‘বোনাস’ হিসেবে লাল কার্ড। চার বছরের অপেক্ষার করুণ অপমৃত্যু। যা এখনও দাগ কেটে আছে অনেকের মনে। তারপরও আমার ভালোলাগার নাম ওর্তেগা। ফুটবলে ফার্স্ট লাভ।

২০০২ ঘুরে ২০০৬, জার্মানি বিশ্বকাপ। এবার ফুটবলটা ভালোভাবেই বুঝতে শিখেছি। যতটা না বুঝি তার চেয়ে বেশি উপভোগ করি। আর্জেন্টিনা মানেই মুহুর্মুহু আক্রমণে প্রতিপক্ষের রক্ষণে ত্রাস সৃষ্টি। ওর্তেগা ছাপিয়ে এবারের নায়ক হুয়ান রিকুয়েলমে। তার খেলা দেখে প্রথম বুঝতে শুরু করলাম ফুটবলে একজন যোগ্য সেনাপতিরও প্রয়োজন পড়ে। আমার দেখা ওটাই আর্জেন্টিনার সেরা দল। জোশে প্যাকারম্যানও ছিলেন অসাধারণ কোচ। এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেছিলেন: আমি বিশ্বাস করি দলের সাফল্যে ১০ শতাংশ অবদান মাঠের খেলোয়াড়দের, বাকি ৯০ শতাংশ কোচ মাঠের বাইরে থেকেই করে থাকেন! এটাও অবশ্য ঠিক তার অধীনে আর্জেন্টিনা ছিলো সত্যিকার অর্থেই অপ্রতিরোধ্য।
আত্মবিশ্বাস ভালো। তবে অতি আত্মবিশ্বাস অনেক সময় ধ্বংসের কারণ হয়। হলোও তাই। জার্মানির বিপক্ষে এগিয়ে থেকেও হারের তিক্ত স্বাদ নিতে হলো তেভেজ-রিকুয়েলমেদের।
এখন পর্যন্ত ওই ম্যাচে হারের কারণ হিসেবে ফুটবল বিশ্লেষকরা দুইটি কারণ উল্লেখ করেন।
১. এক গোলে এগিয়ে থাকা আর্জেন্টাইন কোচ দলের প্রাণভোমরা রিকুয়েলমেকে নিয়ে ঝুঁকি নিতে চাননি। দ্বিতীয়ার্ধের ২০ মিনিটের মধ্যে তাকে তুলে নেন। এ সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে জার্মানি। প্রথমে মাইকেল বালাকের নেতৃত্বে মাঝ মাঠের দখল, এরপর সমতা, সব শেষে…। ওই হার এখনও আমাকে পীড়া দেয়।
২. দ্বিতীয়ত যেটা বলা হয়ে থাকে: মেসিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারেনি প্যাকারম্যান। যদিও কাতালান ক্লাব বার্সেলোনার হয়ে ফুটবল দুনিয়ার দৃষ্টি কাড়া মেসিকে তিনিই প্রথম দলে টেনেছিলেন। কিন্তু বিশ্বকাপে অভিষেকে ম্যাচেই দ্রুত সময়ে গোল করে রেকর্ড গড়া লিওনেল মেসি পরের ম্যাচগুলোতে থেকে গেলেন অপাংক্তেয়। এমনকি জার্মানির বিপক্ষে হেরে বিদায় নেওয়ার ওই ম্যাচেও মেসিকে মাঠে নামানোর প্রয়োজনীয়তা বোধ করেননি প্যাকারম্যান।
যদিও মেসিকে না খেলানোর বিষয়টা আমার কাছে কখনই বড় বিষয় মনে হয়নি। কেননা রিকুয়েলমে, জানেত্তি, ক্যম্ব্রিয়াসো,তেভেজ, রদ্রিগেজ, আয়ালা,আইমার কীসব দুর্দান্ত নামই না ছিলো আর্জেন্টাইন দলে। আমি এখনও বিশ্বাস করি, স্রেফ রিকুয়েলমেকে তুলে নেওয়ায় ওই বিপর্যয়। সেবারই প্রথম এবং শেষবারের মতো মনে হয়েছিলো আর্জেন্টিনা এবার বিশ্বকাপ জিততে পারে।
এরপর অনেক কিছুই বদলেছে। সেই কাতালান খুদে জাদুকর (মেসি) আজ দুনিয়াজুড়ে ফুটবলের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন। ক্লাব ফুটবলে এমন কোনো অর্জন নেই, যেখানে লাগেনি তার ছোঁয়া। নিজেকে এমন অবস্থানে তুলে ধরেছেন, আকাশী-নীল জার্সিতে বিশ্বকাপে শেষ চুম্বনটা দেওয়া না হলেও ফুটবল গ্রেটদের কাতারেই থাকবে তার অবস্থান। অনেক ফুটবল মহারথী তো এটাও বলেছেন: এরই মধ্যে ফুটবল কিংবদন্তী ম্যারাডোনাকেও ছাড়িয়ে গেছেন আর্জেন্টাইন এ সেনসেশন। এমনকি সর্বকালের সেরা হতেও তার বিশ্বকাপ জয়ের প্রয়োজন নেই!
যদি বিশ্বকাপ অজেয়ই থেকে যায় মেসির কাছে, এতএত অর্জনের পরও ক্যারিয়ার শেষে পেছনে তাকালে অপূর্ণতা জেঁকে বসবে এ ফুটবল জাদুকরের মনে। ফুটবলের সব থেকে মর্যাদাপূর্ণ বিশ্বকাপ ট্রফিই যে ক্যারিয়ারজুড়ে ছিলো তার অধরা। শত রঙের মাঝে এক ছোপ কালিমার কালো ছায়ায় আচ্ছন্ন করে রাখবে ফুটবল দেবতার এ আশীর্বাদকে।
সময়ের ব্যবধানে বদলেছে অনেক কিছুই, শুধু বদলায়নি আর্জেন্টিনার শিরোপা ভাগ্য। ব্রাজিল বিশ্বকাপ-২০১৪’র ফাইনাল পর্যন্ত গিয়েছিলো দলটি। মেসির হাতে বিশ্বকাপ ট্রফিটা দেখতে চেয়েছিলো অধিকাংশ ফুটবল প্রেমী। কিন্তু শেষ অবধি সেটা হয়নি।
এর মাঝেও রয়েছে ব্যতিক্রম। দেশে এমন একদল ফুটবল ফ্যান রয়েছেন, যাদের অভ্যাসই হচ্ছে দেশীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতির ন্যয় শুধু মাত্র বিরোধিতার স্বার্থে বিরোধিতা করে যাওয়া। এটা প্রমাণিত যে, এরা যতটা না ব্রাজিল ফ্যান তার চেয়েও বেশি আর্জেন্টিনা হেটার।
গতবার নিজ মাটিতে জার্মান মেশিনদের কাছে ৭ গোলের লজ্জা শুধু ব্রাজিলিয়ান সাপোর্টার নয় আর্জেন্টাইন ফুটবল ভক্তদের মনকেও ভারাক্রান্ত করেছিলো। একসময় ফুটবলারদের আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত দেশটিকে নিয়ে এভাবে ছেলেখেলা করা দেখতে কার বা ভালো লাগে। অনেককে তো এও বলতে শোনা গেছে একটু কম গোল করলেই পারতো জার্মানরা! চির প্রতিদ্বন্দ্বী শিবির থেকে এমন সহমর্মিতার পরও ওই ব্রাজিলিয়ান সাপোর্টাররা অতীতের ধারাবাহিকতায় বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করেই গেছে।

আর্জেন্টিনা যখন ফাইনালে চলে আসলো, দলমত নির্বিশেষে সকলের চাওয়া ছিলো কাপটা যেন মেসির হাতেই ওঠে। গ্রেটদের গ্রেট হয়ে ওঠা এ ফুটবলার যেন অশ্রুসিক্ত না হন। এরপর কী ঘটেছে সবারই জানা। মারাকানা সাক্ষী হয়েছে পুরস্কার মঞ্চে মেসির একপলক ট্রফির দিকে চেয়ে অঝোরে কেঁদে ফেলার দৃশ্য
ব্রাজিল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ফাইনাল পর্যন্ত গেলেও শিরোপার ব্যাপারে আমি শুরু থেকে কখনও আশাবাদী ছিলাম না। বলতে পারেন কেন? যে দলে মেসি, আগুয়েরো, হিগুয়েন, ডি মারিয়া, মাসচেরানোর মতো তারকা, সেই দলকে নিয়ে কেন আশাবাদী হতে পারলাম না!
কারণ একটাই, ওই দলে রিকুয়েলমের মতো একজন সেনাপতি ছিলেন না। যে কিনা মাঝ মাঠ দখলে রেখে প্রতিপক্ষের বুহ্যচেরা পাসে পাসে স্ট্রাইকারদের বলের যোগান দেবেন। এক মেসি মাঝ মাঠ সামলাতে এলে আক্রমণভাগ যেন রঙ হারায়। আবার উপরে উঠে খেললে ফরোয়ার্ডে বলের যোগান কমে যায়। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপের মতো একটা ট্রফি জয়ের আশা রাখাটা বোকামি ছাড়া আর কী হতে পারে?
তাছাড়া গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর পর তো মেসি নিজেকে সেভাবে মেলেও ধরতে পারেননি। ফাইনালের বিতর্কের কথা বাদ দিলে সেমিফাইনালে হিগুয়েন আর ফাইনালে লাভেজ্জির দুর্দান্ত পারফরম্যান্স মেসির অভাবটা বুঝতে দেয়নি। অপর দিকে ডি মারিয়ার ইনজুরি আলবিসেলেস্তেদের জন্য হয়ে এসেছিলো, ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’। ফাইনালে আমার কেন জানি মনে হয়েছিলো ২০০৬’এ প্যাকারম্যান রিকুয়েলমেকে তুলে নিয়ে যে ভুলটা করেছিলেন, ১৪তে এসে সাবেলা লাভেজ্জিকে তুলে নিয়ে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করলেন
এবার আসি রাশিয়া বিশ্বকাপ প্রসঙ্গে, ভাবা হচ্ছে আকাশী-নীল জার্সিতে এটিই মেসির শেষ বিশ্বকাপ। কাতার বিশ্বকাপে তার বয়স হবে ৩৫। ওই বয়সে হরহামেশাই ক্যারিয়ার চালিয়ে যান ফুটবলাররা। কিন্তু, জাতীয় দলের জার্সি গায়ে এ যাত্রায় ব্যর্থ হলে সমালোচনার চাবুক কাতার পর্যন্ত মেসি সইতে পারবেন বলে মনে হয় না। অর্থাৎ এটা মোটামুটি নিশ্চিত আর্জেন্টিনার রাশিয়া মিশন ব্যর্থ হলে আকাশী-নীলে এটাই তার শেষ টুর্নামেন্ট। এখন রূপকথার শেষটা কোথায় গিয়ে থামে সেটাই দেখার বিষয়।
আর্জেন্টিনার এবার যে দল তা নিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপ জয়ের আশা করা অবশ্য অনেকটাই বাড়াবাড়ি। বারপোস্টের নিচে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত হাত সার্জিও রোমেরোর ইনজুরিতে পড়ে শুরুর বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন। রক্ষণ, মাঝমাঠ নিয়েও আশাবাদী হওয়ার মতো কোনো খবর নেই। শুধু আক্রমণ ভাগ নিয়ে আর কত দূর।
তারপর মেসির জন্য শেষ প্রার্থনা: ফুটবল দেবতা যেন খালি হাতে না ফেরায় তার এ পূজারীকে। এক আকাশ অপূর্ণতা যেন ভর না করে ফুটবল ইতিহাসের পাতায়।
অবশ্য মেসির ব্যর্থতা মানেই আমাদের দেশের একদল দিকহারা উদভ্রান্ত ব্রাজিলিয়ান সাপোর্টারের উন্মাদনা। সংখ্যায় তারা হয়তো অল্প সংখ্যক। কেননা, আমি এটা বিশ্বাস করতে চাইনা ব্রাজিলের সকল সমর্থক উদভ্রান্ত।

বলে রাখা ভালো: এরপরও আমি দিকভ্রান্তদের সঙ্গে বিতর্কে জড়াতে চাই না। অন্তত ফুটবলকে উপভোগ করতে না শিখে শুধুমাত্র ১ থেকে ৫ গুনতে শেখা এবং ৬ উচ্চারণের চেষ্টা করে যাওয়া ব্রাজিলিয়ান ফ্যানদের সঙ্গে।
শুধু বলবো ১ থেকে ৫ গুণতে পারলেই ফুটবল বিশারদ কিংবা মেসির মতো খেলোয়াড়ের বিষাদ মুখে চেয়ে বাঁকা হাসি দেওয়ার অধিকার জন্মায় না। কিছুদিন আগে দেশের একজন নামকরা বিজ্ঞাপন নির্মাতা একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের টকশোতে গিয়ে বলে এসেছেন: যারা আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করে তারা ফুটবল বোঝেই না! ব্রাদার ফুটবল শুধু বুঝলেই চলবে না, উপভোগও করতে জানতে হবে। আর এ উপভোগ্য ফুটবলটা আর্জেন্টাইনদের থেকে কে ভালো উপহার দিতে পারে?
আমার দৃষ্টিতে আর্জেন্টিনা সবসময় তারুণ্যের দল। কারণ তরুণরাই স্বপ্ন দেখে জয়ের। অন্তত কোনো বিশেষ দলের বিদায়ের অপেক্ষায় টিভিতে চোখ গুজে বসে থাকে না। ব্যর্থতার বুহ্য ভেঙে আর্জেন্টিনাও একদিন বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরবে এ বিশ্বাসে বিশ্বাসী তারা। এই তারুণ্য বিশ্বাস করে মেসি ব্যর্থ হলেও এদিন ঠিকই ফুটবল কলায় সকল দলকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপ ট্রফি তুলে ধরবে ‘টিম আর্জেন্টিনা’। জয় হবে সুন্দরের। জয় হবে ফুটবলের।
আমি যেমন ভাবছি, একজন ব্রাজিলিয়ান সমর্থকও নিশ্চয়ই তার মতো করে ভাবছেন। এতে দোষের কিছু নেই। দ্যাটস বিউটি। এসবের মাঝেও একটাই প্রত্যাশা: আলোচনার উত্তাপে আমরা যেনো পথভ্রষ্ট না হই। তর্কটা হোক প্রাসঙ্গিক এবং বাস্তবতার নিরিখে।
একই সঙ্গে মিশন রাশিয়ায় শুভকামনা থাকলো রোনালদো, নেইমার, গ্রিজম্যান, হ্যাজার্ড, রাকিটিচদের জন্যও। এমন সব বিগ নেম, তাদের নামের প্রতি সুবিচারেরর পাশাপাশি দেশের জন্য সর্বোচ্চটা উজাড় করে দেবেন বিশ্বকাপের মাঠে। যা বিশ্ববাসীর কাছে এবারের বিশ্বকাপকে আরও বেশি উপভোগ্য এবং রোমাঞ্চকর করে তুলবে। সকল ফুটবল ভক্তের এমনটাই প্রত্যাশা।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)








