কলম্বিয়ায় অর্ধশতাব্দিরও বেশি সময় ধরে চলে আসা সংঘাতের অবসানে মূল শান্তিচুক্তি বাতিলের পর শুক্রবার আবারও সংশোধনীসহ তা সই হতে যাচ্ছে। ৫০ টির বেশি বিষয়ে সংশোধনী এনে করা চুক্তিটি ফার্ক বিদ্রোহীদের সাথে দেশটির গৃহযুদ্ধের অবসান করবে বলে আশাবাদী দুই পক্ষই। তবে এর বিরোধিতাও কম নয়। যুদ্ধাপরাধে দায়ী বামপন্থী গেরিলাদের প্রতি চুক্তিটি অনেক নমনীয় বলে ক্ষুদ্ধ বিরোধিতাকারীরা।
সেপ্টেম্বরের ২৬ তারিখে সই হওয়া এই শান্তিচুক্তির জন্য এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট জুয়ান ম্যানুয়াল সান্তোস। কিন্তু অক্টোবরের গণভোটে এর বিপক্ষে রায় দেয় দেশটির জনগণ। নতুনভাবে আবারও এই স্বাক্ষরগ্রহণ অনুষ্ঠানের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট বলেন, আমাদের এ বিষয়ে কাজ করতে হবে। বিলম্ব করার কোন অবকাশ নেই।
প্রায় ব্যর্থ হতে যাওয়া শান্তি প্রক্রিয়াটি পুনর্জীবিত করতে ১২ নভেম্বর ৫০ টিরও বেশি বিষয়ে পরিবর্তন এনে তা উপস্থাপন করা হয়। ফার্ক নেতা রদ্রিগো লোনডোনো, যিনি টিমোচেনকো নামে পরিচিত সংশোধিত চুক্তিতে সই করবেন।
নতুন চুক্তির ক্ষেত্রে কংগ্রেসেই অনুমোদন দেয়া হবে। নতুন কোন গণভোটের ঝুঁকি নেয়া হবে না। এজন্যও সমালোচনার তীর বিরোধিদের।
শুরু থেকেই শান্তি প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে আসা সাবেক প্রেসিডেন্ট আলভারো উরাইব এখনও আপত্তি জানিয়ে বলেন, “চুক্তি প্রক্রিয়াটি এখনও চলমান থাকা আমাদের ভীত করছে।” পুনর্বার স্বাক্ষরের আগে তা সমালোচকদের দেখানো হয়নি বলেও জানান তিনি।
তবে বিরোধিদের বিষয়ে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রাজনীতি বিশ্লেষক এ্যালেজো ভার্গাসের অভিমত, “তারা কখনোই এ বিষয়ে সন্তুষ্ট হবে না। কারণ তারা ২০১৮ এর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দৃষ্টিতে তা দেখছে।”
অযাচিত বিলম্ব কলম্বিয়ায় শান্তি প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করতে পারে। কারণ গণভোটে শান্তিচুক্তি বাতিলের পর ৭ হাজারের মতো ফার্ক বিদ্রোহীকে অব্যাহতি না দিয়ে আটক রাখতে হয়েছে। ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা ম্রিয়মান হয়ে আসছে। সরকারি বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে ১৩ নভেম্বর দুইজন গেরিলা নিহত হয়।










