বিমান নিয়ে সরকারী শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের বাসভবনে ‘নাশকতার পরিকল্পনা’র অভিযোগে গ্রেফতার বাংলাদেশ বিমানের ফার্স্ট অফিসার (কো-পাইলট) সাব্বির এনামকে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার বিকেলে চ্যানেল আই অনলাইনকে র্যাব সদর দফতর বিষয়টি নিশ্চিত করে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, মিরপুরের দারুস সালাম থেকে গ্রেফতারকৃত বিমানের পাইলট সাব্বির এনামের সাত দিনের রিমান্ডসহ সুলতানা পারভীনের পাঁচ দিনের ও বাকি দুই জনের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
এর আগে বুধবার বাংলাদেশ বিমানের ফার্স্ট অফিসার (কো-পাইলট) সাব্বিরকে বরখাস্ত করা হয় বলে সংবাদমাধ্যমকে জানান বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ।
সোমবার মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুরের দারুসসালাম এলাকা থেকে সাব্বিরসহ চার জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছিল র্যাাব। এরপর র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান জানান, গ্রেফতারকৃত পাইলট সাব্বির বিমান চালিয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের বাসভবনে আঘাত করার পরিকল্পনা করে। এছাড়াও বিমানের যাত্রীদের জিম্মি করে মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
সম্প্রতি বিমান থেকে বেতনভাতাদি বাবদ ১০ লাখ টাকা পাওয়ার কথা ছিল। সেই টাকা পেলে আবদুল্লাহর মাধ্যমে সংগঠনে দান করার ওয়াদাও করেছিলেন তিনি।
র্যাব কর্মকর্তা আরও জানান, সাব্বির ২০০৯ সালে বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমি থেকে বিমান চালনার প্রশিক্ষণ নেন। ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বেসরকারি বিমান সংস্থা রিজেন্ট এয়ারওয়েজে চাকরি করেন। এ সময় স্পেন থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন তিনি।
২০১৪ সাল থেকে সাব্বির বাংলাদেশ বিমানের কো-পাইলট হিসেবে কর্মরত। তিনি বিমানের বোয়িং-৭৩৭ চালান। তিনি সর্বশেষ সোমবার তিনি সর্বশেষ সোমবার ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন।
সাব্বির তুরস্ক থেকেও বিমান চালনার ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিনি দুবাই, কাতার, মাসকাট, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ছাড়াও অন্যান্য দেশেও বিমানের কো-পাইলট হিসেবে কাজ করেছেন।
র্যাব জানিয়েছে, গত সেপ্টেম্বরে দারুসসালামে জঙ্গিবিরোধী অভিযানকালে নিহত আত্মঘাতী জেএমবি সদস্য মীর আকরাবুল করিম ওরফে উপল ওরফে আবদুল্লাহ পাইলট সাব্বিরের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
তখন থেকেই তার সঙ্গে সাব্বিরের ঘনিষ্ঠতা ছিল। একপর্যায়ে সাব্বির মানিক ফরহাদ ওরফে সারোয়ার জাহানের কাছে ‘বায়াত’ গ্রহণ করেন।
র্যাব পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেন, গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলার আগে ও পরে আবদুল্লাহ, পাইলট সাব্বির, সারোয়ার একত্রে নাশকতার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনায় ছিল- সাব্বির বিমান চালিয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের বাসভবনে আঘাত করা বা বিমানের যাত্রীদের জিম্মি করে মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ে যাওয়া।










