রূপালী চৌধুরী বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এমডি। আজকের এই বিশাল প্রাপ্তি একজন নারীর জীবনে সহজ কোনো গল্প নয়। রূপালী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন এবং রসায়নে অনার্স ডিগ্রি অর্জন করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। কর্মজীবনের শুরুটা করেন সিবা গেইগি বাংলাদেশ এ যোগদানের মাধ্যমে। ১৯৮৪ থেকে ১৯৯০ সাল ৬ বছর ওখানে থাকার পর যোগ দেন বার্জার পেইন্টসে। তিনি ছিলেন সিবা গেইগির ব্র্যান্ড ম্যানেজার। বার্জার পেইন্টসে ১৯৯০ থেকে ২০০৮ সাল দীর্ঘ ১৮ বছর চাকরি জীবনে মার্কেটিং, সেলস, পরিকল্পনা বিভাগসহ নানা অংশের দায়িত্ব পালন করেছেন অত্যন্ত দক্ষতার সাথে। তারপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। কাজের দক্ষতা, দায়িত্বপরায়ণ, কর্মনিষ্ঠ দূরদর্শী কর্মকর্তা হিসেবে তিনি কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে আজ অবধি একনিষ্ঠভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ২০১৫ সালে দ্বিতীয়বারের মতো তিনি ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির এফআইসিসিআই সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০৭ সালে তিনি করপোরেট ম্যানেজমেন্টের জন্য অনন্যা টপ টেন পুরস্কার পেয়েছেন। তা ছাড়া এত বছরে আরো বহু প্রশংসা জমা হয়েছে তার ঝুলিতে, তার কর্মদক্ষতার গুণেই।
ছায়া সুনিবিড় চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া থানাধীন পটিয়া শহরতলি গ্রামে রূপালী চৌধুরীর জন্ম ও বেড়ে ওঠা। বাবা ডা: প্রিয় দর্শন চৌধুরী ও মা শালিনতা চৌধুরীর চতুর্থ সন্তান হলেও মা বাবা ও বড় ভাই বোনদের আদরে স্নেহে বড় হয়েছেন তিনি। বাবা সেই সময়ে ওই এলাকার বিখ্যাত ও খুবই ব্যস্ত একজন ডাক্তার হওয়া সত্ত্বেও ছেলে মেয়েদের সুস্থ, সুন্দরভাবে বেড়ে উঠতে সুযোগ দিয়েছেন নানা কর্মকাণ্ডে সন্তানদের জড়িত থাকার মাধ্যমে। ছোট বেলায় ঘরের পরিবেশ সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন- ‘ছোট্ট বেলায় আমি আমার ঘরে বাইরে যা কিছুই করেছি কোনো কিছুতেই কোনো রকম বাধার সম্মুখীন হতে হয়নি। আমার বাবা ছিলেন বিশাল হৃদয়ের মানুষ। তিনি জানতেন এবং বুঝতেন মানুষ হিসেবে এই পৃথিবীতে বড় হতে গেলে শিশু কিশোরদের বোঝাতে হবে তোমার এই পৃথিবীতে জানার, বোঝার আর শেখার অনেক কিছু আছে। তুমি শুধু তোমার আগ্রহ, ইচ্ছা অনিচ্ছা, পছন্দ অপছন্দের জায়গাগুলো খুঁজে নাও। তাই বাবা আমাদের গান নাচ, ডিবেট, খেলাধুলা কোনো কিছুতেই বাধা দিতেন না। আমি শুধু আমার ভালো লাগাটুকু থেকে সব কিছুই করেছি। আর এ থেকে নিজেকে সমৃদ্ধ করেছি একটু একটু করে। যা আমার আজকের এ অবস্থানে আসার নেপথ্যে কাজ করেছে। তিনি আরো বললেন- ছোট্ট বেলায় দেখাতাম বাবা ঘরে নানা ধরনের দেশি বিদেশি ম্যাগাজিন ও জার্নাল আনতেন, ডাইজেস্ট সোভিয়েত ইউনিয়নের উদয়ন পত্রিকা তো থাকতই। তা ছাড়া বড় বড় মণীষীর জীবনীসহ কতরকম জ্ঞান বিজ্ঞানের বইপত্র থাকত, যেগুলো পড়ার ব্যাপারে বাবা মায়ের সমান উৎসাহ আমাদের ভাই বোনদের মধ্যে প্রতিযোগিতা লেগে যেত।
এমবিএ পাস করার পর প্রথম আমি সিবা গেইগিতে চাকরি পাই তারপর ১৯৮৯ সালে বন্ধু আব্দুল হককে জীবন সাথী হিসেবে পেয়ে পারিবারিক জীবনে পথ চলতে কোনো সমস্যা হয়নি। তিনি অত্যন্ত সহমর্মী, সাহায্যকারী, সহযাত্রী হিসেবে আমাকে আজও মানসিক সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছেন। যার কারণে এই জীবনে কখনো মনেই হয়নি নারী হিসেবে জন্ম নিয়ে আমার ভুল হয়েছে। সন্তান জন্মাবার পর সব কিছু ম্যানেজ করতে একটুতো অসুবিধা হতোই। তবে সে ক্ষেত্রে আমার বর্তমান অফিস আমাকে সেই অসুবিধা ওভারকাম করার সুযোগ দিয়েছেন। তাই তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।
আপনি একজন মহিলা হয়ে প্রথম যখন সিবা গেইগিতে জয়েন করলেন তখন কী মনে হয়েছে? বা কোনো রকম অসুবিধা ফিল করেছেন? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চাকরিতে যোগদান করার পর আপনার মতো অনেকেই এই ধরনের প্রশ্ন আমায় করত, তখন আমি তাদের বলতাম- ‘আমার কাছে কাজ করার ক্ষেত্রে পুরুষ বা নারী বলে আলাদা কোনো অস্তিত্ব আছে বলে মনে হয় না, আসলে আমরাই সমাজের কিছু মানুষ এই পুরুষ-নারী শব্দ দুটোকে আলাদা করে নারীদের অস্তিত্বকে ছোট করে তুলি। কারণ সৃষ্টিকর্তা কিছু শারীরিক গঠনগত পার্থক্য ছাড়া, মন, মানসিকতা, মেধা, মনন ও জ্ঞানে, নারীদের অনেক সমৃদ্ধ করে দিয়েছে। আর বাবা ও বড় ভাইয়ের উপদেশ নিয়ে যেহেতু আমার ছেলে বেলাটায় বেড়ে উঠেছি সুতরাং আমার ভেতরের বোধগুলো আমাকে পুরুষ সহকর্মীদের সাথে কাজ করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা সঙ্কোচের মুখাপেক্ষী হতে দেয়নি।
আমি প্রথম যখন বার্জারে জয়েন করি তখন আমার ইন্টারভিউ বোর্ডে জিজ্ঞেস করা হয় আমি কাজটা পারি কি না, আমার পার্সোনালিটি কেমন! এখানে ছেলে-মেয়ে কোনো ফ্যাক্টর নয়। কাজের ক্ষেত্রে ছেলেমেয়ে আলাদা কোনো ব্যাপার আছে বলে আমার কোনো দিনই মনে হয়নি। আর পারিবারিক জীবনের কথা বলতে গেলে বলা যায়- আমরা যদি আমাদের পারিবারিক সুবিধা পেতে পাই তাহলে নিজের এতটুকু লাভের জন্য আমি আমার অধীনস্ত মানুষ টিকে তার যোগ্যপ্রাপ্তটুকু দিতে পারি তাহলে সে তার সর্বোচ্চ শ্রম ও বিশ্বাস দিয়েই কাজটা করবে। এটা ঘরের গৃহপরিচারিকা থেকে অফিসকর্মীও হতে পারে বলে আমার বিশ্বাস। এতে তার পরিবারও খেয়ে-পরে বাঁচতে পারে, অন্য দিকে আমাদের মতো চাকরিজীবী নারীরাও। আমার একজন গৃহপরিচারিকা ছিল সে দীর্ঘদিন থেকে আমার সন্তান দুটোকে বড় করে দিয়ে গেছেন। মেয়েটি ছাড়া আমি হয়তো চলতেই পারতাম না। মা হিসেবে একজন নারীর দায়িত্ব কর্তব্য তো থাকেই সেটাতো অন্য কারো সহযোগিতা ছাড়া সম্পন্ন করা সম্ভব নয়, যা আমার ক্ষেত্রেও হয়েছে। তারপরও ভালো একজন বিশ্বাসী গৃহপরিচারিকা একটা পরিবারের জন্য অনেক বেশি প্রয়োজনীয় এর বিকল্প নেই।
সামনে ৮ মার্চ নারী দিবস এই দিনটিকে আপনি কিভাবে দেখেন? এই প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি জানান, ‘আমার মায়ের লাইফটা দেখেছি তিনি সারাজীবনই সবাইকে দিয়ে গেছেন। প্রচণ্ড স্যাক্রিফাইজিং ছিলেন। নিজের ব্যক্তিগত লাভের কথা কখনো ভাবেনইনি, আমরা তার সন্তানরা বড় হবো এটাই তার ধ্যান-জ্ঞান ছিল। তার পরের প্রজন্মে আমরা পেশাগত জীবন ও সংসার দুটোকে ব্যালেন্স করে এসেছি অর্থাৎ প্রয়োজন অনুযায়ী কখনো সংসার কখনো অফিসকে প্রাধান্য দিয়েছি। তো একটা মেয়ে যদি তার নিজের ও পরিবারের জন্য আশীর্বাদ হয় এটা মন্দ কি। এই সমাজে পরিবারে নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা অনেক তো একটা মেয়ে সে নিজে শিক্ষিত হয়ে কাজ করে তাদের অর্থনৈতিকভাবে সাহায্য করতে পারে- নিজের স্বনির্ভর থেকে এতে সমাজ অনেকটা ব্যালান্সন্ড হবে। বস্তুত অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত হলে মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি হয়। আত্মবিশ্বাসী নারী তার পুরো পরিবারকে ওপরের দিকে নিয়ে যেতে পারে। তবে দৈনন্দিন জীবনে নারীকে ঘরে বাইরে অফিস আদালতে শুধু নারী হওয়ার কারণে নানাবিধ প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে, যা নারীসমাজের অগ্রযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। ব্যক্তিগত জীবনে রূপালী চৌধুরী স্বামী আব্দুল হক ও দুই সন্তান রাহুল ও পূর্ণাকে নিয়ে সুখে আছেন। বর্তমানে সন্তানরা কানাডায় পড়াশোনা করছেন।
সম্প্রতি স্বনামধন্য নারী উদ্যোক্তা রুপালী চৌধুরীর সাক্ষাতকার নিয়েছেন রাজু আলীম।
প্রশ্ন: দীর্ঘ সময় আপনি বিজনেস ইন্ডাষ্ট্রিতে কাজ করছেন এবং দেশের ইকনোমিতে কন্ট্রিবিউট করছেন। সব মিলিয়ে নারীর অগ্রযাত্রা এই বিষয়ে আপনার মূল্যায়ন জানতে চাই?
রূপালী চৌধুরী: নারীদের এগিয়ে যাওয়া সবক্ষেত্রেই কঠিন। কারণ তাদেরকে যোগ্যতার প্রমাণ করতে হয়। কাজ করতে গিয়ে পুরুষের চেয়ে দ্বিগুণ প্রমাণ করতে হয় যে, তারা পারে। কর্পোরেট বিজনেসে এখন অনেক নারীই এগিয়ে আসছে এবং আমি দেখতে পাচ্ছি যে, অনেকেই এই ক্ষেত্রে সিনিয়র মোষ্ট পজিশনে এসেছেন। তবে ২৫ বছর আগে যে সিচুয়েশন ছিল আর এখন কিন্তু সেই অবস্থা নেই।
প্রশ্ন: গেলো এক দশকে বাংলাদেশের নারীদের জীবনে অনেক পরিবর্তন এসেছে?
রূপালী চৌধুরী: নারীরা এখন ডিফরেন্ট ফিল্ড এ কাজ করছেন। শুধু কর্পোরেট ক্ষেত্রে না। মিডিয়া, সংবাদপত্র থেকে শুধু করে ব্যাংকিংটা আগেই ছিল কিন্তু এখন সেখানে অনেক বড় করে এসেছে। সেবা খাতেও মেয়েরা অনেক এগিয়ে এসেছে এবং তারা এতো ভালো কাজ করছে যে, তাদেরকে সুযোগ দিতে সবাই কিন্তু বাধ্য।
প্রশ্ন: মেয়েরা নিজেদের প্রমাণ করতে পেরেছে?
রূপালী চৌধুরী: জার্নিটা ইনিশিয়ালি খুব টাফ থাকে তবে আমাদের মতো পজিশনে পৌছে গেলে তো আর টাফ থাকে না? তখন ওটা ফেবারেবল ডিসক্রিমিনেশন হয়ে যায়।
প্রশ্ন: যেভাবে নারীরা এগিয়ে এসেছে তাতে করে বাংলাদেশের ইকোনমি আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে?
রূপালী চৌধুরী: আমাদের পথিকৃত হলো গার্মেন্টস ইন্ডাষ্ট্রির সফলতা। সেখানে নারীরা গ্রাম থেকে উঠে এসে যে সফলতা দেখিয়েছে তাই আমাদের মিডিল ক্লাসের আরও এগিয়ে আসা উচিত।
প্রশ্ন: দে হ্যাভ এডুকেশন?
রূপালী চৌধুরী: দে হ্যাভ দ্যা এডুকেশন। দে হ্যাভ দ্যা সাপোর্ট অব দ্যা ফ্যামিলি যা খুবই দরকার। হাজবেন্ড থেকে, মা বাবা ভাই বোন সবার থেকেই মিডিল ক্লাস ফ্যামিলির মেয়েরা সাপোর্ট পাচ্ছে। কিন্তু গার্মেন্টস এর মেয়েরা যখন এসেছিল তখন তাদেরকে অনেক ফাইট করতে হয়েছিল। দে ডোন্ট হ্যাভ এনি প্লেস টু ষ্টে?
প্রশ্ন: তা শুধুমাত্রই জীবিকা নির্বাহের জন্যে কিন্তু ইকনোমির পার্ট হওয়া ব্যাপারটা এইরকম ছিল না?
রূপালী চৌধুরী: তা তো অবশ্যই। এটা করতে করতে তারা নিজেদের প্রমাণ করেছে। তাই গার্মেন্টস ইন্ডাষ্ট্রির মেয়েরাই আমাদের পাইওনিয়ার বাংলাদেশে।
প্রশ্ন: আমরা এখন মধ্যম উন্নয়রশীল দেশের তালিকায় আছি- এই পরিস্থিতিতে ইন্টারন্যাশনাল প্রতিষ্ঠান হিসেবে বার্জারের ভলিউমে কোন অবস্থায় আছে?
রূপালী চৌধুরী: বার্জার এই দেশের পেইন্টিং ইন্ডাষ্ট্রিতে পাইওনিয়ার প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে। আমরা মোষ্ট ৫৬ পারসেন্ট মার্কেট শেয়ার হোল্ড করছি। আমরা নতুন টেকনোলজি বাংলাদেশে এনেছি। যা কিছু এভেলঅ্যাবল ইন ওয়েষ্টার্ন এন্ড ডেভলডপ ওয়ার্ল্ড এ। আছে অটো পেইন্টিং সিষ্টেম এবং এক্সপ্রেস পেইন্টিং টুল দিয়ে আমরা যে মডার্ন পেইন্টিং করি সেই পেইন্টারদেরকে আমরা ট্রেনিং করাই। আমরা শুধু কনজ্যুমারদেরকে ভালো প্রডাক্ট দিচ্ছি তা নয়, আমাদের ভ্যালু চেইন যারা আছেন তাদেরকেও আমরা ইনটার্মস অব ষ্কিল ডেভলপ করার চেষ্টা করছি। সুতরাং ইনটার্মস অব ক্রিয়েটিং এমপ্লয়মেন্ট উই আর প্লেয়িং ভাইটাল রোল এবং বার্জার পেইন্ট লিষ্টেড হয়েছে ২০০৫ সালে। লিষ্টেড হওয়ার কারণে কি হয়েছে? আওয়ার ইউ নো অ্যানুয়াল রিপোর্টস আর অ্যাভেলঅ্যাবেল ইন ওয়েব সাইট।এই ইন্ডাষ্ট্রিতে অল ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানিজ একুচয়ালি এনটার্ড। বিকজ উই একচুয়ালি শোর্ড রেষ্ট অব দ্যা ওয়ার্ল্ড দ্যাট বাংলাদেশ ইজ এ কান্ট্রি হোয়ার ইউ ক্যান ইনভেষ্ট। আমাদের দেখাদেশি অনেক ডাইরেক্ট ফরেন ইনভেষ্টে এসেছে। মে বি ইন টার্মস অব কোয়ান্টাম ইট নট হাই বিকজ ইন্ডাষ্ট্রি ইটসেলফ ইজ নন বিগ লাইক পাওয়ার ইন্ডাষ্ট্রি।সেখানে এক একটি অবকাঠামোতে প্রচুর বিনিয়োগ করতে হয়।বাট ইনটার্মস অব নাম্বার অব প্লেয়ার্স বার্জার ইজ একচুয়েলি এন ইন্সট্রুমেন্টাল ইন ব্রিংগিন ইন দ্যা ফরেন ডিরেক্ট ইনভেষ্টমেন্ট ইন বাংলাদেশ এবং আমরা মনে করি যে, এই মুহূর্তে আমরা দাঁড়িয়ে যেটি ভাবছি তা হলো- বাংলাদেশ আরও ডেভলপ হবে এন্ড ইউ হ্যাভ টু ক্রিয়েট কনজ্যুমারস।
প্রশ্ন: মানুষের লাইফ ষ্টাইল অনেক চেঞ্জ হয়েছে এবং তার সাথে পেইন্টের বড় সম্পর্ক আছে?
রূপালী চৌধুরী: পেইন্টের রোল টা ইজ নট অনলি ডেকোরেটেড। এটা অনেক বড় ভুল ধারণা। দে থিংক দ্যাট ইটস এ কালার। ইটস একচুয়েলি প্রটেক্টিং দ্যা ফিক্সড অ্যাসেট। ইটস নট ওনলি ওয়ার্ল্ড এভরি হোয়ার। উড হতে পারে ষ্টিল হতে পারে ইভেন ইউ নো পাওয়ার ইন্ডাষ্ট্রিতেও এমনকি সামিটেও আমরা পেইন্ট বিক্রি করি। যেখানে আমাদের ফ্লোর কোটিং আছে এবং অল কাইন্ড অব ভ্যারাইটি। একটি কথা আছে যে, ইফ ইউ ডু নট প্রটেক্ট ইওর ফিক্সড অ্যাসেট তাহলে থ্রি পারসেন্ট অব জিডিপি এভরি ইয়ার নষ্ট হয়ে যায়। একচুয়ালি তাই আমাদের রোল হলো প্রটেক্ট ইন দ্যা ফিক্সড অ্যাসেট।
প্রশ্ন: সামিটের ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেষ্টমেন্টে পাওয়ার খাতে ৩ বিলিয়ন ডলার ইনভেষ্ট করেছে- এই রকমের ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেষ্ট সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কি?
রূপালী চৌধুরী: আমি মনে করি ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেষ্টমেন্ট এইরকম টেকনোলজি যেখানে ইম্পট্যান্ট যেভাবে সামিট করলো। তারা যে নলেজ পার্টনার নিলো মিতসুবিশি এবং জিই। এতে করে প্রমাণ হলো আমাদের টেকনোলজি দরকার। ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেষ্ট না হলে যেটা হবে আমরা যদি নিজেরা নিজেদের বুদ্ধি দিয়ে চেষ্টা করি তাহলে হোল প্রজেক্টে হয়তো বেশি সময় লেগে যাবে।
প্রশ্ন: তাতে করে কস্ট ইফেক্টিভও হবে না?
রূপালী চৌধুরী: হ্যাঁ। তাই। এই সময়ে সামিটের এই বিনিয়োগ কিন্তু একটা বেষ্ট মডেল। আমাদের যেখানে যে টেকনোলজি দরকার তা সময় মতো নিতে হবে এবং তাদেরকে আনতে হবে আমাদের বাংলাদেশে এবং তাদেরকে দেখাতে হবে যে, বাংলাদেশে ইনভেষ্ট করলে দে ক্যান অলসো গেট ব্যাক দেয়ার মানি। সেইক্ষেত্রে আমি মনে করি যে, বিদেশি বিনিয়োগের জন্যে রেগুলেটরি কাঠামো ঠিক করা এবং পলিসি কন্সিসটেন্সি থাকা উচিত। যাতে করে যারা এখানে এফডিআই নিয়ে আসবেন দে ফিল কনফিডেন্ট। এই বিষয়গুলো আমাদের প্রিকন্ডিশন্ড। আমি মনে করি এই রকম ক্ষেত্রে বড় অবকাঠামের ক্ষেত্রে ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেষ্ট আসা উচিত।
প্রশ্ন: যে কোন প্রজেক্ট করার জন্যে ল্যান্ড প্রয়োজন কিন্তু বাংলাদেশের ল্যান্ড প্রাইজ নাকি বেশি?
রূপালী চৌধুরী: হ্যাঁ। এখানে ল্যান্ড প্রাইজ সত্যিই হাই। এর কারণে প্রজেক্ট আন ভায়াবেল হয়ে যাচ্ছে। ইকনোমিক জোন দিলে সরকার ডিরডাকশন প্রাইজে ল্যান্ড দেবে তখন প্রজেক্টস উইল বিকাম ভায়াবেল এন্ড মোর প্রজেক্টস উইল কাম। এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি আউটসাইডে আমরা নিজেরা ল্যান্ড কিনে যখন প্রজেক্ট করছি তাতে ল্যান্ডেই প্রজেক্টের ৮০ পারসেন্ট চলে যাচ্ছে।
প্রশ্ন: আর অন্যান্য প্রসিডিউরগুলো?
রূপালী চৌধুরী: অবকাঠামোতে ধরলাম আমরা এক বছর ইলেক্ট্রিসিটি পাব বা যা কিছুই হোক না কেন কিন্তু এই সব মেনে নিলেও ল্যান্ড প্রাইস ইজ ভেরি ভেরি আন ফেভারঅ্যাবল। তাই ইকনোমিক জোনে আমাদের যে প্রাইস অফার করা হচ্ছে আই থিংক ইটস যদি পুরোটা ডেভলপড করে দেওয়া হয় তাহলে ইটস গোয়িং টু বি গুড।
প্রশ্ন: ইনভেষ্ট করলে ফিড ব্যাক অর্থ্যাৎ বিনিয়োগ ফেরত আসার নিশ্চয়তা সেইক্ষেত্রে আমাদের দেশ কতোটা এগিয়ে?
রূপালী চৌধুরী: যদিও আমাদের পপুলেশন ১৬০ মিলিয়ন তবুও আমাদের ডমেষ্টিক ডিমান্ড ইন টার্মস অব কনজ্যুমার বেইজ বা পারচেজিং পাওয়ার আমাদের পাশের দেশ বড় একটা দেশ তাদের ইকনোমিক ষ্কেলের বেনিফিট আছে। সুতরাং আমাদের করতে হবে- ল্যান্ড প্রাইস একটা বড় ফ্যাক্টর। তাই ইকনোমিক জোন যদি হয়ে যায় এবং অ্যার্ফোড অ্যাবল প্রাইসে যদি দেওয়া হয় এবং সমস্ত অবকাঠামো অ্যাভেইলেবল হয়- এবার বলা হচ্ছে ট্রাক্স হলিডে দেওয়া হবে এবং বন্ডেড ওয়্যার হাউজ ফ্যাসিলিটিও নাকি থাকবে তাহলে ইটস গোয়িং টু বি গুড অপরচুনিটি ফর বাংলাদেশ টু হ্যাভ একচুয়ালি মিডিয়াম সাইজ ইন্ডাষ্ট্রি অলসো এবং এটা যদি এক্সপোর্ট বেজড হয় আবার ডমেষ্টিক ডিমান্ড সবক্ষেত্রের জন্যে ভালো হবে। আমাদের সময় চলে যাচ্ছে তাই উই নিড ইট নাও।
প্রশ্ন: সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত?
রূপালী চৌধুরী: হ্যাঁ এবং কন্টিনিউয়াস ডায়ালগ থাকা উচিত।
প্রশ্ন: আপনার বিজনেস প্ল্যান সম্পর্কে সংক্ষেপে জানতে চাই?
রূপালী চৌধুরী: প্রতিটি বিজনেসের চ্যালেঞ্জ সব সিইও’র মোটামুটি একই। এখানে ষ্ষ্পেসিফিক কোন জেন্ডার নেই। কারণ একটা হলো ইকো সিষ্টেমটা ঠিক থাকা। বাংলাদেশে আরেকটা চ্যালেঞ্জ হলো পলিসি কন্সিসটেন্সি থাকা।









