আপাত চোখে বিএনপি নির্বাচনের দিকে এগিয়ে গেলেও নেতাকর্মীদের মধ্যে দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক ধরণের সংশয়-সন্দেহ এবং দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ও শঙ্কা কাজ করছে। দলের নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে এরকম সংশয় ও শঙ্কার কথা নাকচ করলেও অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় স্বীকার করছেন যে, তাদের মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কাজ
করছে।
বিএনপির এক শীর্ষ নীতি-নির্ধারক চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেছেন, তিনি নিজেও বুঝতে পারছেন না যে দল আসলে কোন দিকে অগ্রসর হচ্ছে? জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে জোট বাঁধার পর দলীয় নেতাদের কার কী ভূমিকা সেটাও বুঝতে পারছেন না তারা।
‘আমি জানি না যে এ মুহূর্তে বিএনপি আসলে কোনদিকে এগিয়ে যাচ্ছে? দল এবং জোট কীভাবে নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করছে, সে বিষয়েও আমরা খুব পরিষ্কার না। ওয়েট অ্যান্ড সি নীতিতে আমরা শুধু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি,’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
সাধারণ কর্মীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংশয় দল এবং জোটের নেতৃত্ব নিয়ে। তারা বলছেন, তারা এটা বুঝতে পারেন যে, চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে থাকায় নির্বাচনকে সামনে রেখে একজন জাতীয় ‘ফিগার’ দরকার ছিল। সে হিসেবে ড. কামাল হোসেনকে তারা যোগ্যতমই মনে করেন। তবে, আওয়ামী ঘরানা থেকে আসা ড. কামাল শেষ পর্যন্ত বিএনপির পক্ষে কতটা দাঁড়াবেন এবং তার নেতৃত্বেই বিএনপি জোট নির্বাচনে অংশ নিলে নির্বাচনের পর কার কী অবস্থান হবে সেটা নিয়েও তারা সংশয়ে আছেন।
বিএনপি নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে অবশ্য এরকম সংশয়-সন্দেহের কথা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, বাংলাদেশের মানুষের কাছে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য নেতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপি নেতাকর্মীরা বেগম খলেদা জিয়াকেই নেত্রী মনে করেন এবং তারেক রহমানকেই উত্তরাধিকারী হিসেবে কাণ্ডারি মনে করেন। এ নিয়ে কারো কোনো সংশয় নেই।
সংলাপ
তবে, বিএনপির অন্য নেতা-কর্মীদের মতো তার মধ্যেও বৃহস্পতিবার হতে যাওয়া সংলাপ নিয়ে সংশয় আছে। তিনি বলেন: প্রধানমন্ত্রী যে আলোচনার কথা বলেছেন সে জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। তবে আলোচনা কতোটা ফলপ্রসূ হবে সেটা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে বেগম জিয়াকে দেওয়া ফরমায়েশি সাজার ফলে।
‘তবে আলোচনায় যেহেতু আমরা বিশ্বাসী সেহেতু সরকার যে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে তার জন্য ধন্যবাদ জানাই। এর সঙ্গে সঙ্গে বলতে চাই, শুধু আলোচনা নয়, কার্যকর আলোচনা করতে হবে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য তারা যেন উদ্যোগী হয়। সেটির জন্য খুব কম সময় আছে হাতে। সরকার যদি সে বিবেচনায় মাথায় নিয়ে এগিয়ে যায় তাহলে তাদের জন্য ভালো, দেশের জন্য সবার জন্য ভালো।’
বেগম জিয়ার প্রার্থীতা
বিএনপি নেতা-কর্মীদের জন্য আরেক দুশ্চিন্তার বিষয় কারাদণ্ড হওয়ার কারণে নির্বাচনে বেগম জিয়ার প্রার্থীতা হতে পারা না পারার বিষয়টি। এর মধ্যে আবার হাইকোর্ট বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্র গ্রহণ না করতে নির্বাচন কমিশনকে যে নির্দেশ দিয়েছে তাতে বেগম জিয়া কিংবা তারেক রহমান দলের নেতৃত্বেই থাকতে পারবেন কিনা সেটা নিয়ে সন্দেহ আছে।
এই অবস্থায় শামসুজ্জামান দুদুর কাছে প্রশ্ন ছিল: সংলাপে যদি আপনাদের দাবি তথা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্দলীয় সরকার গঠনের দাবি মানা না হয় তবে আপনাদের পদক্ষেপ কী হবে?
তিনি বলেন, আমরা আন্দোলনে ছিলাম। আন্দোলনেই থাকবো। আমরা ভোটের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগকে পরাজিত করতে চাই। সেই সুযোগটা যদি না থাকে তখন স্বাভাবিক কারণেই এই দেশে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিবর্তন আসবে। সেদিকেই মানুষ যাবে।
আবারও নেতৃত্ব প্রসঙ্গ
এই অবস্থায় বিএনপির নেতৃত্বে কে আছে আসলে?
এমন প্রশ্নের উত্তরে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান দুদু বলেন: শেখ মুজিবুর রহমান যেমন আওয়ামী লীগের নেতা, তেমনি আমাদের নেতা জিয়াউর রহমান। শেখ হাসিনা যেমন গণভবন বা আওয়ামী লীগ কার্যালয় থেকে নেতৃত্ব দেন, আমাদের নেত্রী জেল থেকে নেতৃত্ব দেন।
`জয় সাহেব যেমন আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকেন আমেরিকায় বসে, আমাদের নেতা তারেক রহমান তেমনি লন্ডনে বসে নেতৃত্ব দেন। এই জন্য এখানে কোনো অসুবিধা নেই। বিএনপির জন্য, দেশবাসীর জন্য কোনো অসুবিধা নেই,’ বলে দাবি করেন তিনি।








