বিএনপির সমাবেশে প্রধান অতিথি দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত কারাগারে থাকা বেগম খালেদা জিয়া, উনার জন্য চেয়ার খালি রাখা ছিল, সামনের টেবিলে ছিল মিনারেল ওয়াটারের বোতল। যেহেতু খালেদার কারাগার যাত্রার পূর্ব মুহূর্তে দলটির গঠনতন্ত্র সংশোধন করে দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত সহ নানান অপরাধে আদালত কর্তৃক অপরাধীদের রাজনীতিতে রাখার বৈধতা দেয়া হয়েছে তা এই ঘটনার কোন দলীয় বা রাষ্ট্রীয় আইনী সীমাবদ্ধতা নেই। কাজেই এটা নিয়ে কারো কোন কথা থাকতে পারে না।
অপরদিকে দলটির শীর্ষনেত্রী, নেতাদের আবেগী তেলবাজী, কর্মীদের ইমোশন তৈরি করা সহ আরো নানাবিধ ইন্টারনাল যুক্তিতে ব্যানারে প্রধান অতিথি, রাজকীয় চেয়ার এবং সামনে পানির বোতলের রাজনীতির সুযোগ নিয়ে বিএনপির বর্তমান নেতৃবৃন্দ আরো একবার চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে তারা ঠিক লাইনেই আছে। অর্থাৎ ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের আধুনিক বাংলাদেশ, নিজেদের মন মানসিকতার পরিবর্তন তাদের মধ্যে কোন প্রভাব ফেলেনি। তারা সামনে নয় তারা পিছনেই আছে এবং থাকতে চায়। সেজন্য একজন কে বলছিলাম, যদি এমন হতো ব্যানারে প্রধান অতিথি খালেদা জিয়ার নাম ছিল না, যদি এমন হতো খালেদা জিয়ার জন্য রাজকীয় চেয়ার ছিল না, যদি এমন হতো সামনে মিনারেল পানির বোতল ছিল না, তাহলে ধরে নেওয়া যেত বিএনপির মধ্যে পরিবর্তন আসতে চলেছে। রাজপথে তারা শয়তান নয় মানুষের সমর্থনের আশা করছে। অতএব শয়তান রা শয়তানের সমর্থন চাইবে এটাই স্বাভাবিক।
গত ৮-৯ বছরের ধারাবাহিকতায় বিএনপি নেতাদের রাজনৈতিক সভাসমাবেশের বক্তব্য দাবিদাওয়ার ব্যাপারে জানার জন্য বোঝার জন্য উনাদের বক্তব্যগুলো গভীর মনোযোগ দাবি করে না। মিডিয়ার কল্যাণে যখন শুনি বিএনপির সমাবেশ হবে, বিএনপির নেতারা দাবি দাওয়া সহ দিকনির্দেশনা মূলক বক্তব্য দিবে তখন আর্কাইভে রেখে দেওয়া ২০১২-২০১৩ সালের যেকোনো ফুটেজ দেখে বলে দেওয়া যায় বিএনপি মূলত কি দাবি জানাতে কিংবা দিক নির্দেশনা দিতে সমাবেশ ডেকেছে।
ক্ষমতায় গেলে এই দেশ চালানোর ভার বহন করার মত যোগ্যতা বিএনপির আছে কি না ? উত্তর খুঁজতে চাইলে বিএনপির সমাবেশে উত্থাপিত বিএনপির ধারা উপধারা ১১ টি দাবি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ে দেখার অনুরোধ রইলো।
এবার আসেন মুল বিষয়ে, যোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনঃগঠন মানে কি ? যেখানে গত কয়েক বছরের নির্বাচনী ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে যে, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগে থেকে, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা, মনোনয়নপত্র জমা, প্রতীক বরাদ্দ, নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা, অর্থাৎ ইচ্ছা অনিচ্ছা রাজনৈতিক কূট কৌশল কিংবা পাবলিকের সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগাতে টোটাল নির্বাচন কমিশনকে একটা পক্ষ বানিয়ে তাদের কাজ কর্মকে এক ধরনের বিতর্কের মধ্যে ফেলে দিয়ে আইডেন্টি সমস্যা তৈরি করে, মিডিয়ায় অভিযোগ অভিযোগ আর অভিযোগ করে, পরিবেশ নষ্ট করে অতঃপর নির্বাচনী ফলাফলে জয়ী হলে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে, পরাজিত হলে নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে অভিযোগ তুলছে। সেইখানে যোগ্য ব্যক্তি দিয়ে পুর্নগঠন নির্বাচন কমিশন শব্দটার ব্যাখ্যা কি ? যেকোনো উপায়ে নির্বাচনে বিএনপির সকল প্রার্থী যেন বিজয়ী ঘোষিত হয়, সেটা নির্বাচনের আগে নিশ্চিত করা ? বিএনপি চাইলে কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়াকে প্রধান করে নির্বাচন কমিশন পুর্নগঠন প্রস্তাব দিলেই পারতো অন্তত যোগ্য লোক খুঁজতে সার্চ দেওয়ার সময়টা কমে যেত। এছাড়া তাদের জন্য আস্থাশীল যোগ্য ব্যক্তি এই দেশে এই বাস্তবতায় এখন আছে বলে মনে করি না।
সেনাবাহিনীকে ম্যাজেস্ট্রেসি পাওয়ার দিয়ে নির্বাচনে কাজে লাগানোর দাবি যারা উত্থাপন করে, বিশ্বাস করি উক্ত দল বা ব্যক্তির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কোন অধিকার থাকা উচিত নয়। এরা সারাদিন গণতন্ত্রের কথা বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলতে পারবে কিন্তু এরা নিজেরা জীবনেও গণতান্ত্রিক হতে পারবে না।
গত কয়েক বছরের বাস্তবতায় একটি বিষয় পরিষ্কার যে গত কয়েক বছর ধরে যেমন ধরেন ২০১২, ২০১৩, ২০১৪, ২০১৫ সালে বাসে পেট্রোল বোমা দিয়ে আগুন লাগানো, সাধারণ জান মালের ক্ষতিসাধন করে জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হত্যা করেছে বা আড়ালে বসে অর্থায়ন করে ইন্ধন দিয়েছে এমন সব মামলার আসামী কিংবা আরও পূর্বে সংগঠিত ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধ, ২০০১-২০০৬ সময়ে সারাদেশে সংখ্যালঘুদের খুন ধর্ষণ লুটপাটের সাথে জড়িত, শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা, ১০ ট্রাক অস্ত্রের চালানসহ ধরা পড়া কিংবা এই টাইপের আরও নানান অপরাধের সাথে জড়িত বা ইন্ধন দাতা ছিল। এদের মধ্যে বড় একটা অংশ রাজনৈতিক ভাবে বিএনপি জামাত শিবিরের রাজনৈতিক মতাদর্শের। এখন এইসব মামলার দাগী আসামীর মুক্তি চেয়ে বিএনপি কি বুঝিয়েছে?
ইতিমধ্যে পুরাতন মামলার আসামী যারা আছে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে চার্জ হয়ে গেলেও তাদেরকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। কারণ বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিবে।
উপরোক্ত বিএনপির ১১ দফার সামান্য একটা অংশ নিয়েই কথা বলেছি। যেসব দাবির সাথে সহমত পোষন কেবল মাত্র শয়তানের পক্ষেই করা সম্ভব। কোন সুস্থ মানুষের পক্ষে নয়। কাজেই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর বাবু যে সুরে বলেছেন তাদের দাবির সাথে যদি একজন শয়তান সহমত পোষন করে, তারা শয়তানের সাথেই জোট করবে। গয়েশ্বরের উক্ত বক্তব্যে সামান্য যুক্ত করেই লিখে দিচ্ছি শয়তানের উত্থাপিত দাবির সাথে সহমত পোষন কেবল শয়তানই করে অন্য কেউ না।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)








