যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে সান্টা ফে হাই স্কুলে হামলা চালানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার স্কুলের সাবেক ছাত্র দিমিত্রিয়োস পাগুরজিস বাবার দু’টি আগ্নেয়াস্ত্র চুরি করে এনে হামলা চালিয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিবিসি জানায়, ১৭ বছর বয়সী দিমিত্রিয়োস বাবার কাছ থেকে একটি শটগান ও একটি রিভলবার চুরি করেছিল। দু’টি অস্ত্রই সে শুক্রবার স্কুলে হামলার কাজে ব্যবহার করেছে।
অস্ত্র দু’টি অবশ্য বৈধভাবে কিনেই নিজের কাছে রাখতেন দিমিত্রিয়োসের বাবা।
ওই হামলায় এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ১০ জন। আরও ১০ জন আহত হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
টেক্সাস গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট জানান: সন্দেহভাজনের ডায়রি, কম্পিউটার এবং মোবাইল ফোনে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সান্টা ফে স্কুলের ভেতর এবং ক্যাম্পাসের বাইরে বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক যন্ত্র খুঁজে পেয়েছে পুলিশ। এগুলোর মধ্যে একটি কার্বন ডাই-অক্সাইড ডিভাইস এবং একটি মোলোটভ ককটেলও রয়েছে।
সেসব তথ্য অনুসারে পুলিশের ধারণা, হামলা চালানোর পর এক পর্যায়ে আত্মহত্যার পরিকল্পনা ছিল দিমিত্রিয়োসের।
গভর্নর বলেন: তবে এমন কিছু না করে অভিযুক্ত ওই কিশোর হাল ছেড়ে দিয়ে পুলিশের কাছে ধরা দিয়েছিল, কারণ আত্মহত্যা করার মতো সাহস তার ছিল না।
হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর দিমিত্রিয়োস পাগুরজিসকে গ্যালভেস্টন কাউন্টি জেলে পাঠানো হয়েছে।
সান্টা ফে পুলিশ প্রধান জেফ পাওয়েল স্থানীয় অধিবাসীদের যে কোনো ধরনের সন্দেহজনক বস্তু খুঁজে পেলে সে ব্যাপারে সাবধান থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। ‘ভুল জায়গায় আছে এমন কোনো জিনিসই স্পর্শ করবেন না।’
ওই হামরার ঘটনায় জন বারনেস নামে এক পুলিশ কর্মকর্তাও আহত হয়েছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, তার অবস্থা জটিল এবং অস্ত্রোপচার চলছে।
সান্টা ফে হাই স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৪০০। শুক্রবার ক্লাস শুরুর পর পরই গোলাগুলি শুরু হয়।
ফেব্রুয়ারিতে ফ্লোরিডার পার্কল্যান্ডে স্কুলে বন্দুকধারীর হামলার পর এটাই সবচেয়ে প্রাণঘাতী স্কুল শুটিং এর ঘটনা। সেই হামলায় ১৭ জন নিহত হয়েছিলেন। ওই ঘটনার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও অস্ত্র ব্যবহারের অধিকার বিষয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে এমন হামলার ঘটনা বেড়েই চলেছে। আজকের ঘটনাটি গত সাত দিনে তৃতীয় স্কুল শুটিং এর ঘটনা। আর যুক্তরাষ্ট্রে এ বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ২২ তম বারের মতো এমন হামলার ঘটনা ঘটল।








