আগামী দুই বছরের জন্য ভ্যাট আইন আগেরটাই থাকছে। আর বহুল আলোচিত ব্যাংক আমানতে ১ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকার ওপর ৮০০ টাকার প্রস্তাবিত আবগারি শুল্ক কমে দেড়শ টাকা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন খাতে জনগণ ও ব্যবসায়ীদের চাহিদা এবং মতের গুরুত্ব দিয়ে ভ্যাট-ট্যাক্স কমেছে। এসবের মধ্যে দিয়ে জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট পাস হয়েছে। বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের নিরুত্তাপ ছাটাই প্রস্তাব আলোচনা শেষে সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে পাস হয় বাজেট। এই বাজেট পাসের পরপরই জনগণসহ বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীদের মধ্যে উচ্ছাস ফিরে এসেছে। জনদাবির মুখে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সূতিকাগার সংসদের মাধ্যমে এ পরিবর্তন জনগণের বিজয় বলে আমরা মনে করি। ভ্যাট ও ট্যাক্স একটি দেশের রাজস্ব আয়ের অন্যতম প্রধান খাত। ট্যাক্স ও ভ্যাট দুটি শব্দের তফাত রয়েছে। ব্যক্তির নির্দিষ্ট আয়ের ওপর যে কর দেওয়া হয়, তা আয়কর। আর প্রতিষ্ঠানের একটি পণ্যের জন্য যে মূল্য সংযোজন করা হয়, এর ওপর যে কর দিতে হয়, তা ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স বা সংক্ষেপে ভ্যাট। রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাত থেকে তা সংগ্রহ করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যয় করা হয়ে থাকে। ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি ও উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভ্যাট ও ট্যাক্সের কাঠামোতে পরিবর্তন আবশ্যক। সেইসঙ্গে ব্যবসায়িক ও বিভিন্ন অর্থনৈতিক কাঠামোতে ডিজিটাইজেশন খুবই জরুরি। পরিচিত বিভিন্ন খাতের কর ব্যবস্থায় কোন ধরণের পরিবর্তন ঘটালে কর আদায় ব্যবস্থা সুষ্ঠু হবে, তা ভাবার সময় এসেছে। এছাড়া আমদানি-রপ্তানি মাধ্যমে অর্থপাচারের যে অভিযোগ দেশের অর্থনীতির জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে তাও দূর করা জরুরি। একদিকে জনগণ ট্যাক্স-ভ্যাট দিয়ে যাচ্ছে আর অন্যদিকে যদি অর্থপাচার হয়, তাহলে একসময় তা কর আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে ও জনগণের স্বার্থ চিন্তা করে ভবিষ্যতে এসব অর্থনৈতিক বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা কার্যকর সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নেবেন বলে আমরা আশা করছি।









