‘বাউচারের সাথে ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই, তাকে দোষী প্রমাণ করারও পরিকল্পনা নেই আমার। অথচ ব্যাপারটি এভাবেই তুলে ধরা হচ্ছে।’ সাউথ আফ্রিকা ক্রিকেটে বর্ণবাদ ইস্যুতে চলা আলোচনা-সমালোচনার মাঝে এমন কথা বলেছেন দেশটির সাবেক স্পিনার পল অ্যাডামস।
বর্ণবাদ ইস্যুতে কয়েকমাস ধরেই উত্তাল সাউথ আফ্রিকার ক্রিকেট। ’৯০ দশকের কয়েকটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রোটিয়া জাতীয় দলের বেশকিছু সাবেক খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে পক্ষপাত ও জাতিগত বৈষম্যের অভিযোগ ওঠে গত জুলাইয়ে। কয়েকজন কৃষ্ণাঙ্গ ক্রিকেটার সাক্ষ্য দেন, জাতীয় দলে থাকাকালীন তারা বর্ণবাদী আচরণের শিকার হয়েছিলেন। যাতে জড়িত দলটির বর্তমান হেড কোচ মার্ক বাউচারও।
অভিযোগ আমলে নিয়ে ডিসেম্বরে শুরু হয় তদন্ত প্রক্রিয়া। প্রোটিয়াদের সাবেক বাঁহাতি স্পিনার অ্যাডামস তদন্ত কমিশনকে বলেছেন, বাউচার দলীয় একটি গানে তার সম্পর্কে বর্ণবাদী শব্দের ব্যবহার করেছেন।
পরে সোশ্যাল জাস্টিস অ্যান্ড নেশন বিল্ডিং (এসজেএন) কমিশনের প্রতিবেদনে বাউচারকে অভিযুক্ত করে সিএসএ। ঘটনার পরপরই শুরু হয় কাঁদা ছোড়াছুড়ি। সেই বিতর্কের ইতি টানার চেষ্টাই করলেন অ্যাডামস। ব্যক্তিগত শত্রুতা নয়, বরং তদন্তের স্বার্থে সত্যটা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন বলে জানিয়েছেন।
‘জাতীয় দলে থাকাকালে আমাদের একটি আলাদা সংস্কৃতি ছিল। আমাকে একটি অবমাননাকর ডাকনাম দেয়া হয়েছিল। ড্রেসিংরুমে মিটিংয়ের সময় সতীর্থরা সেই নাম ধরে গান গাইতো। আমার ওপর এর খুব বাজে প্রভাব পড়েছিল। আমার স্ত্রীর সাথে বিষয়টা নিয়ে কথা বলেছিলাম। গানটি খুবই অবমাননাকর।’
‘গানটি কে শুরু করেছিলেন সে ব্যাপারে বিশেষ কারো নাম বলিনি আমি। প্যানেল জিজ্ঞাসা করেছিল, এ সম্পর্কে মার্ক বাউচারকে ব্যক্তিগতভাবে কখনো কিছু বলেছি কিনা। উত্তর বলেছি, একটি বড় দল গানটি গেয়েছিল এবং বাউচার তাদের অংশ ছিলেন। কখনোই দলীয় পরিবেশে বিষয়টি নিয়ে কথা বলিনি। কোনো পর্যায়ে মার্ককে দল থেকে বের করার চেষ্টা করিনি।’
‘তখন তরুণ এবং সাদাসিধে ছিলাম, চেষ্টা করতাম সবার সাথে মানিয়ে নিয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে। একজন তরুণ খেলোয়াড় হিসেবে আমার সাথে যা ঘটেছিল, তা-ই বলেছি। আমিসহ আরও তিন ডজন সিনিয়র খেলোয়াড়-কোচের দ্বারা প্রকাশিত এই অনুভূতি সিএসএকে সাহায্য করবে ক্রিকেটকে সকলের জন্য সুস্থ ও সুন্দর খেলা হিসেবে গড়ে তুলতে। আমাদের সময় যে পরিবেশটা ছিল, সেটার পুনরাবৃত্তি হোক তা চাই না। এধরনের পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিতে পারলে ধরে নেব আমার অভিজ্ঞতা বলার উদ্দেশ্য অর্জিত হয়েছে।’







