প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ বছর সারা দেশে মোট ৭৯ হাজার ২৪৬ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করেছে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে ৩২ হাজার ৯৬৫ জন এবং সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে ৪৬ হাজার ২৮১ জন।
রোববার (১২ জুলাই) দুপুর ১২টায় রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইটে অথবা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ফলাফল জানতে পারবে। এছাড়া ফল প্রকাশের পর অনলাইন ও এসএমএসের মাধ্যমেও ফল সংগ্রহ করা যাবে। অনলাইনে ফল দেখার সরকারি প্ল্যাটফর্ম হলো আইপিইএমআইএস পোর্টাল।
সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানায়, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫-এর নীতিমালা অনুযায়ী শুরুতে ৮২ হাজার ৫০০টি বৃত্তি দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এর মধ্যে ৩৩ হাজার ট্যালেন্টপুল এবং ৪৯ হাজার ৫০০টি সাধারণ বৃত্তি নির্ধারণ করা হয়। ট্যালেন্টপুল বৃত্তির ৮০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ২০ শতাংশ বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়।
সাধারণ বৃত্তির ক্ষেত্রে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৩৯ হাজার ৬০০টি বৃত্তি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক বণ্টন করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন বা ওয়ার্ডে পাঁচটি করে বৃত্তি দেওয়া হয়েছে দুইজন ছাত্র, দুইজন ছাত্রী এবং একটি মেধার ভিত্তিতে। বাকি ২০ শতাংশ সাধারণ বৃত্তি উপজেলাভিত্তিক বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ছিল।
এবারের বৃত্তি পরীক্ষায় ৭৮ হাজার ৮১০টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় ৬৫ হাজার ৬০৫টি এবং বেসরকারি বিদ্যালয় ১৩ হাজার ২০৫টি। মোট নিবন্ধিত পরীক্ষার্থী ছিল ৬ লাখ ৪১ জন, যার মধ্যে ছাত্র ২ লাখ ৫৬ হাজার ১১৭ জন এবং ছাত্রী ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৯২৪ জন।
পরীক্ষায় অংশ নেয় ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৭৫৯ জন শিক্ষার্থী, যা মোট নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর ৮০ দশমিক ৫৩ শতাংশ। উপস্থিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬৪১ জন (৩৯.৬৮%) ছাত্র এবং ২ লাখ ৫৩ হাজার ৪১ জন (৬০.৩২%) ছাত্রী।
প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত ৩২ হাজার ৯৬৫ জনের মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের ২৬ হাজার ৩৭৫ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ৬ হাজার ৫৯০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। অন্যদিকে, সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পাওয়া ৪৬ হাজার ২৮১ জনের মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের ৩৬ হাজার ৪২০ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ৯ হাজার ৮৬১ জন।
বৃত্তিপ্রাপ্ত মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৫ হাজার ৯৮২ জন (৪৫.২৯%) ছাত্র এবং ৪৩ হাজার ৩৫৪ জন (৫৪.৭১%) ছাত্রী।
উল্লেখ্য, পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের অন্যান্য জেলায় ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বিশেষ সময়সূচিতে ১৭ থেকে ২০ এপ্রিল পরীক্ষা নেওয়া হয়। এ বছর পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছিল প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার শিক্ষার্থী, যার মধ্যে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ সরকারি এবং প্রায় ৯০ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।







