আজ পহেলা বৈশাখ, বাঙালির প্রাণের বাংলা নববর্ষ। জীর্ণ-পুরাতনকে পেছনে ফেলে নতুন সম্ভাবনাকে স্বাগত জানাতে বাঙালির বর্ষবরণ উৎসবে যোগ দিয়েছেন বিদেশিরাও।
বাংলাদেশিদের সঙ্গে মিলে তারাও বরণ করে নিচ্ছেন বৈশাখের রঙ ও আনন্দের প্রাচুর্যকে।
ইজেবা আর ব্রোনিকা দুই বান্ধবী। ইজেবা থাকেন ইংল্যান্ডে। ব্রোনিকা একটি অটিজম সংক্রান্ত এনজিওতে কাজ করার সূত্রে বাংলাদেশে থাকেন। হাজারো রঙে রঙিন বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান ভীষণ পছন্দ করেন তিনি। তাই বন্ধু ইজেবাকে সেই রঙিন বাঙালিয়ানার উৎসব দেখাতে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানান ব্রোনিকা।
আর বন্ধুর ডাকে ইজেবাও চলে আসেন বাংলা নববর্ষ উদযাপন দেখতে।
রমনায় বর্ষবরণ অনুষ্ঠান দেখে ইজেবা চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান তার উচ্ছ্বাসের কথা। তিনি বলেন, বাংলা নববর্ষ খুবই বর্ণিল একটি উৎসব। এখানকার নানা রঙে রাঙানো পশুপাখিগুলো তার খুব ভালো লেগেছে। তিনি মনে করেন, এগুলো বাঙালির বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক পরিচয় বহন করে।

নানা বয়সের হাজারো রকম মানুষের এত বেশি সমাগম দেখে খুব ভালো লাগছে বলে জানান ইজেবা।
শুধু নববর্ষ নয়, পুরো বাংলাদেশই সুন্দর বলে মন্তব্য করেন এই বিদেশি দর্শণার্থী। তিনি বলেন, এরই মধ্যে চট্টগ্রাম ও পতেঙ্গা ঘুরে দেখে এসেছেন তিনি। বাংলাদেশের খাবার ভীষণ পছন্দ হয়েছে ইজেবার। বিশেষ করে ফুচকা, চটপটিসহ ঝাল মশলাদার খাবারগুলো।
ব্রোনিকা জানান, গত বছরও বর্ষবরণ উৎসবে এসেছিলেন তিনি। প্রতিবারই খুব ভালো লাগে।
ড্যানি, মিয়াকেলা, ফ্লোরিয়া, শাশা – এ চারজন এসেছেন সুইজারল্যান্ড থেকে। তারা পুরো বাংলাদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করে এসেছেন। তবে এখানে আসার মূল লক্ষ্য বর্ষবরণ উৎসব দেখা। ইতোমধ্যে সিলেটের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ও পর্যটন এলাকা ঘুরে এসেছেন তারা। সেখান থেকে ঢাকা এসেছেন।
বাংলা নববর্ষ উৎসব দেখে মুগ্ধ এই চার বিদেশি। তারা বলেছেন, এমন প্রাণের স্পন্দন, এত রঙ, একই উৎসবে এত রকম মানুষের ভিড় দেখার সুযোগ পেয়ে খুব ভালো লাগছে তাদের। বাংলাদেশের মানুষদের আচরণেও তারা আপ্লুত। বাংলা বর্ষবরণ উৎসবকে প্রকৃতিরে রঙের উৎসব বলেই মনে করছেন তারা।
এমনই আরও বহু বিদেশি বন্ধু এসে যোগ দিয়েছেন বাঙালির এই প্রাণের আয়োজনে। সুযোগ পেলে আবারও বর্ষবরণ উৎসব দেখতে বাংলাদেশে আসবেন বলে জানালেন এই বিদেশিরা।








