এমন নয় দুই বিশ্বকাপের মাঝের চার বছর তিনি রান করেন না, উইকেট নেন না। ব্যাটে-বলে জাদু দেখানোর কাজটা তিনি নিয়মিত করে চলেন বলেই ওয়ানডের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের সিংহাসনে আসিন। যে পথে একের পর এক ঝলক দেখানো পারফরম্যান্সের দেখা মেলে। এরপরও অন্যরকম একটি পারফরম্যান্স বিশ্বকাপ এলেই মনে করিয়ে দেন সাকিব। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ শুরুর ম্যাচ মানেই তিনি ফিফটি ছোঁবেন।
নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপে খেলতে নামা সাকিব আল হাসান রোববারও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখলেন। খেলেছেন ৭৫ রানের ঝলমলে ইনিংস। ৮ চার ও এক ছক্কায় ৮৪ বলে। বোলিং অধ্যায় এখনও বাকি।
সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে শুরু হয়েছে বাংলাদেশের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ অভিযান। দলের অন্যতম সেরা তারকা সাকিবের চতুর্থ বিশ্বকাপ এটি। অতীত পরিসংখ্যানের জয়যাত্রা ধরে রেখে ওভালে ফিফটি তুলে অবশ্য সেঞ্চুরির সুযোগ হাতছাড়া করেছেন টাইগার তারকা।
সাকিব ২০০৬ সালে ওয়ানডেতে অভিষিক্ত হন, প্রথমবার বিশ্বকাপে নামেন ২০০৭ সালে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ আসরে। শুরুটা হয়েছিল ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। ততদিনে আস্থার নাম হয়ে উঠেছেন। বিশ্বকাপ অভিষেকে তিনি পারফরম্যান্স দিয়েই দিনটি স্মরণীয় করে রেখেছেন। পরে ২০১১ সালে ঘরের মাটিতে ও ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচে সেরা পারফরম্যান্সের পুনরাবৃত্তি করেছেন। সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে সেই চিরচেনা সাকিবেরই দেখা মিলল।
২০০৭ সালে উইন্ডিজ আসরে পোর্ট অব স্পেনে বাংলাদেশের জন্য স্মরণীয় এক জয়েরই ম্যাচ। ভারতের বিপক্ষে সেই ম্যাচে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরুর সাকিবের। নেমে ব্যাটে তুলে নিয়েছিলেন ফিফটি। ৮৬ বলে ৫৩ রানের ইনিংস।
ভারতকে তিন বল হাতে রেখে ১৯১ রানে গুটিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। মাশরাফী ৪, রাজ্জাক-রফিক ৩টি করে উইকেট নিয়েছিলেন। ১০ ওভার বল করে ৪৪ রানে উইকেটশূন্য থাকেন সাকিব। পরে যেটা ব্যাটিংয়ে পুষিয়ে দেন। ৫ উইকেটে জয়ের ম্যাচে ৫ চার ও এক ছক্কায় সাজান নিজের ফিফটি। ওই ম্যাচে তামিম ফিফটি করে আউট হলেও অপরাজিত ফিফটিতে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন মুশফিক।
সাকিবের পরের বিশ্বকাপ ২০১১তে, তখন তিনি বাংলাদেশের অধিনায়ক। ঘরের মাঠে উদ্বোধনী ম্যাচ। প্রতিপক্ষ একই, ভারত। বীরেন্দ্রর শেবাগ ১৭৫ আর বিরাট কোহলির হার না মানা শতকে ভারত ৩৭০ তুলে দিনটি বিমর্ষ করে দেয় টাইগারপ্রেমীদের জন্য। ১০ ওভারে ৬১ রান দিয়ে অপেক্ষাকৃত কম খরুচেই থাকেন সাকিব, বোল্ড করেছিলেন শেবাগকেই।
বাংলাদেশের ৮৭ রানে হারের ম্যাচে ব্যাটে এসে ফিফটি তুলে নেন সাকিব। তামিমের ৭০ রান আর সাকিবের ৫৫-ই ওই ম্যাচে সেরা ইনিংস। ৫ চারে ৫০ বলে ইনিংসটি সাজান তখনকার টাইগার অধিনায়ক।
নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপে ২০১৫ সালে নামেন সাকিব। ক্যানবেরাতে প্রতিপক্ষ এবার আফগানিস্তান। নিজেরা ২৬৭ রান তুলে আফগানদের ১৬১ রানেই প্যাকেট করে দিয়েছিল বাংলাদেশ। ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত ছিলেন তিনি।
সেই ম্যাচে দুই ফিফটি ছিল বাংলাদেশের। মুশফিকের ৭১ ছাড়া তার নিজের ৬৩ রানের ইনিংস। সাকিব ৬ চার ও এক ছক্কায় ৫১ বলে সাজান ৬৩ রানের ইনিংসটি। পরে বল হাতে নেন ২ উইকেট। ৮.৫ ওভারে ৪৩ রান খরচায়।









