দামী সিগারেটে করহার প্রায় অপরিবর্তিত রাখার মাধ্যমে আবারও বহুজাতিক তামাক কোম্পানিগুলোকে রেহাই দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তামাকবিরোধী গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা এবং সাংবাদিকদের সংগঠন আত্মা।
তাৎক্ষণিক বাজেট প্রতিক্রিয়ায় তারা বলেছে, গত একবছরে জনগণের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিলে এই প্রস্তাব চরম জনস্বাস্থ্যবিরোধী। এর ফলে এই স্তরের সিগারেটের ভোক্তারা বাজেটের পর আরো কম দামে একই পরিমাণ সিগারেট কিনতে পারবেন। একইসঙ্গে এই স্তরের সিগারেট থেকে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে না।
তারা মনে করিয়ে দিয়েছেন, ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে সম্পূর্ণ তামাকমুক্ত করার কৌশল হিসেবে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী একটি সহজ তামাক কর কাঠামো প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে তামাকজাত পণ্যের ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস ও তামাক রাজস্ব বৃদ্ধির কথা বলেছেন। কিন্তু, এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে সেসবের তেমন কোন প্রতিফলন নেই।
তাদের বিবৃতিতে বলা হয়: অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় এখন থেকে সিগারেটের সর্বনিম্ন মূল্য নির্ধারণ করা হবে বলে উল্লেখ করেছেন এবং প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের সর্ব নিম্ন মূল্য (নিম্নস্তর) ১৮ টাকার স্থলে ২৩ টাকা করার প্রস্তাব করেছেন। এই বৃদ্ধি প্রায় ২৭.৭৭ শতাংশ। উচ্চ স্তর ৪৪-৬৯ টাকার পরিবর্তে ৪৫ টাকা ও তদূর্ধ্ব এবং প্রিমিয়াম স্তর আগের মূল্য অর্থাৎ ৭০ টাকা ও তদূর্ধ্ব বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই দুই স্তরে সম্পূরক শুল্ক মাত্র ১% বৃদ্ধি করে যথাক্রমে ৬২% ও ৬৪% নির্ধারণের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। এর ফলে ভোক্তা পর্যায়ে এই দুই স্তরের সিগারেটের মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা কার্যত নেই বললেই চলে।
‘এর মাধ্যমে আবারও বহুজাতিক তামাক কোম্পনিগুলোকে অর্থমন্ত্রীর সুবিধা প্রদানের প্রয়াস চোখে পড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক,’ উল্লেখ করে তারা বলেছেন, তামাকবিরোধীদের দীর্ঘদিনের দাবি উপেক্ষা করে একক স্তরভিত্তিক কর কাঠামো প্রতিষ্ঠার কোনো নির্দেশনা বাজেট ঘোষণায় প্রতিফলিত হয়নি। ফলে বিভিন্ন স্তরের সুবিধা নিয়ে সিগারেট কোম্পানিগুলোর রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ অব্যাহত থাকলো। একইসঙ্গে ভোক্তাদেরও স্তর পরিবর্তনের সুযোগ থাকলো।
তাদের অভিযোগ, তামাক কোম্পানিগুলোর পরামর্শেই এটি করা হয়েছে তা পরিস্কার, সুতরাং জনস্বাস্থ্যের সাথে এমন প্রহসন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রস্তাবিত বাজেটে কমদামি সিগারেটের মূল্য সামান্য বৃদ্ধি করা হলেও বিড়ি এবং ধোঁয়াবিহীন (জর্দা ও গুল) তামাকপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির কার্যকর উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
বিড়ির স্বাস্থ্যক্ষতির ভয়াবহতা এবং এই খাতে নিয়েজিত শ্রমিকের সংখ্যা অতি নগণ্য এই বাস্তবতা অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় স্বীকার করেছেন উল্লেখ করে প্রজ্ঞা এবং আত্মার বিবৃতিতে বলা হয়, তামাকবিরোধীরাও দীর্ঘদিন একই কথা বলে আসছিলেন।








