মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান তার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ বন্ধে যে ১৪ দফা শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে তা তিনি পর্যালোচনা করছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান অবাধ্য আচরণ করলে ওয়াশিংটন আবারও বিমান হামলা শুরু করতে পারে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
শনিবার (২ মে) ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে ট্রাম্প নিশ্চিত করেন, তিনি চুক্তির ধারণা সম্পর্কে ব্রিফিং পেয়েছেন।
কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হলেও ট্রাম্প সম্ভাব্য নতুন সংঘাত নিয়ে কঠোর অবস্থান জানান। তিনি বলেন, ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার পর থেকে সাময়িকভাবে সংঘাত থেমে থাকলেও পরিস্থিতি আবারও বদলাতে পারে।
তারা যদি খারাপ কিছু করে, তাহলে আবারও হামলার সম্ভাবনা রয়েছে, সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন ট্রাম্প।
তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ভালো অবস্থায় আছে এবং ইরান একটি সমঝোতার জন্য মরিয়া, কারণ কয়েক মাসের সংঘাত ও নৌ অবরোধে দেশটি ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য হওয়া কঠিন, কারণ গত ৪৭ বছরে তারা মানবতা ও বিশ্বের বিরুদ্ধে যা করেছে, তার জন্য এখনও পর্যাপ্ত মূল্য দেয়নি।
তেহরানের ১৪ দফা পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, যুদ্ধ ক্ষতিপূরণ এবং জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার দাবি রয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে শান্তি চূড়ান্ত করার জন্য ৩০ দিনের সময়সীমার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা ওয়াশিংটনের তুলনায় দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তর পরিকল্পনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এই কূটনৈতিক উদ্যোগ এমন এক সময় এসেছে, যখন ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের পর একটি নাজুক তিন সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চলছে।
তবে শনিবার ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা যে কোনো মুহূর্তে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ফেরার জন্য পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। তাদের অভিযোগ, পূর্ববর্তী চুক্তিগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র যথাযথভাবে অঙ্গীকার রক্ষা করেনি।
এদিকে ট্রাম্প সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধকে খুব লাভজনক ব্যবসা বলে উল্লেখ করায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ মন্তব্যকে “দস্যুতার স্বীকারোক্তি” হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত বাধা এবং ইরানের নৌ মাইনের উপস্থিতির কারণে। পাশাপাশি জার্মানি থেকে ৫ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।








