বনানীর রেইন ট্রি হোটেলে রাতভর ধর্ষণের পর তার দৃশ্য ভিডিওতে যারা ধারণ করেছে তাদেরকে শনাক্ত করার দাবি করেছে পুলিশ। যে কোন সময় তাদেরকে গ্রেফতার করা হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক প্রশ্নের জবাবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) শেখ নাজমুল আলম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, আসামিরা যতই শক্তিশালী হোক না কেন, যত বড় মাপেরই হোক না কেন, তাদের গ্রেফতার করা হবে। ভিকটিমদের অভিযোগের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশ প্রথমে ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরপরই তাদের ধরতে মাঠে নেমেছে গোয়েন্দা দল।
“ভিকটিম অভিযোগ করতে দেরি করেছে, এসব ঘটনায় শুরুতেই অভিযোগ করতে হয়। যাইহোক অভিযোগের ভিত্তিতেই আসামীদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।”
আসামীদের দেশের বাইরে পালিয়ে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা আছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের নাজমুল আলম বলেন: এরই মধ্যে ধর্ষকরা দেশত্যাগ করেছে এমন কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে তাদের কেউ যাতে দেশত্যাগ করতে না পারে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
গত ২৮ মার্চ রাতে বার্থডে পার্টির নাম করে দুই তরুণীকে বনানীর ‘দ্য রেইন ট্রি’ হোটেলে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর তাদের পূর্বপরিচিত সাফাত ও নাঈম হোটেলের একটি কক্ষে রাতভর তাদের আটকে রেখে মারধর করে এবং হত্যার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে।
অভিযুক্ত দু্ই তরুণের সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী ও গাড়িচালকও ছিল। তাদের একজন ঘটনাটি ভিডিও করে রাখে। এরপর ওই দুই তরুণী পরিবারের মাধ্যমে ঘটনাটি পুলিশকে জানান। প্রথমে পুলিশ মামলা নিতে না চাইলেও গত শনিবার বনানী থানা পুলিশ মামলা নিতে বাধ্য হয়।
মামলার পর দুই তরুণীকে পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নেওয়া হয়। এরপর রোববার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়। এ ব্যাপারে চিকিৎসকদের ৫ সদস্যের একটি তদন্ত টিমও গঠন করা হয়।
এ ঘটনায় আগামী ২৯ মে আদালত ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছে।







