র্যাবের অভিযানে গ্রেফতার হওয়া জঙ্গি সংগঠন জেএমবির শীর্ষ নেতা ইমরান হোসেনের সরবরাহ করা রাসায়নিক দ্রব্য দিয়েই সংগঠনের সদস্যদের বিস্ফোরক বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেয়া হতো বলে সে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এ তথ্য জানান র্যাবের লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান।
আশুলিয়ায় রোববার রাতে সঙ্গীসহ গ্রেফতার হওয়া ইমরান বঙ্গবন্ধুর এক খুনির পরিবারের যোগাযোগ রাখতো বলে জানা গেছে।
ইমরান হোসেন মূলত বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থগুলো বিভিন্ন বিক্রেতার কাছ থেকে সংগ্রহ করতো। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে কয়েকজন বিস্ফোরক বিক্রেতার তথ্য এবং জেএমবির আরও কয়েকজন সংগ্রাহক ও বিতরণকারীর তথ্য পাওয়া গেছে।
মুফতি মাহমুদ বলেন, ইমরানের বাড়ি ময়মনসিংহ। সেখানে সে বিভিন্ন কেমিক্যাল নির্ভর শিল্প প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করত। ২০০১ সালে সে হুজিতে সক্রিয় সদস্য হিসেবে যোগ দেয়। ওই বছর ময়মনসিংহের বুড়ির চরে ২০-২৫ জন যুবককে নিয়ে একটি প্রাথমিক জঙ্গি প্রশিক্ষণ হয়। ওই প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ হওয়ার পর চট্টগ্রামে অস্ত্র প্রশিক্ষণ নেয় ইমরান।
তিনি আরো বলেন, ২০১৪ সালে ইমরান জেএমবির সদস্য হয়। ২০১১ সাল থেকে সে জয়দেবপুরে কয়েকটি কেমিক্যাল নির্ভর শিল্প কারখানায় চাকরি করত। এভাবে বৈধ কেমিক্যাল সংগ্রহ এবং সরবরাহ চেইন সম্পর্কে নিজের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সংগঠনের জন্য বিস্ফোরক তৈরিতে রাসায়নিক দ্রব্যাদি সংগ্রহ করত ইমরান। সেসব দ্রব্য বাহক বা কুরিয়ারের মাধ্যমে চাহিদা মোতাবেক চট্টগ্রাম এলাকায় ইমরান জঙ্গিদের কাছে পাঠাত।
‘‘মূলত ইমরানের সরবরাহকৃত রাসায়নিক দ্রব্যের মাধ্যমে জঙ্গি সংগঠনের প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেয়া হতো। এজন্য ইমরান ঢাকা থেকে কেমিক্যাল দ্রব্যাদি যোগাড় করে রফিকের কাছে পাঠাত। আর রফিক সেই কেমিক্যাল চাহিদা অনুসারে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে পাঠাত।’’
গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে দু’বোতল সালফিউরিক এসিড, ৫ প্যাকেট বিভিন্ন ধরণের স্প্লিন্টার উপযোগী বল এবং ১ কেজি সাড়ে ৬শ’ গ্রাম বিভিন্ন ধরণের বিস্ফোরক তৈরির উপযোগী রাসায়নিক পদার্থ (সালফার সদৃশ পাউডার, পটাশিয়াম পাউডার, পটাশিয়াম ক্লোরেট) পাওয়া গেছে।







