টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি সংস্করণে চলতি বছর বাংলাদেশের ইনিংসের গোড়াপত্তন করেছেন আট ওপেনার। তামিম ইকবালের যোগ্য সঙ্গী কে, সে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে গিয়ে নিষ্ফলা শুরুই হয়েছে বেশি। তিন সংস্করণে ৩৩বার নামা বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটি থেকে এসেছে ৮৬৫ রান। গড় ২৬.২১। ক্রিকেট খেলুড়ে অন্য দেশগুলোর সঙ্গে তুলনায় সবচেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশই।
এ বছর তিন সংস্করণেই বাংলাদেশ পায়নি শতরানের কোনো ওপেনিং জুটি। পঞ্চাশ পেরোনো জুটি মাত্র পাঁচটি। ওয়ানডেতে একটি, টি-টুয়েন্টি ও টেস্টে এসেছে দুটি করে পঞ্চাশোর্ধ্ব জুটি।
সর্বোচ্চ ৭৪ রানের জুটিটি এসেছে গত মার্চে বসা টি-টুয়েন্টির আসর নিধাস ট্রফিতে। বলে রাখা ভালো, যে পাঁচ ইনিংসে পঞ্চাশ পেরিয়েছে ওপেনিং জুটি, সেসব ম্যাচ হারেনি বাংলাদেশ।
এশিয়া কাপে রোববারের আফগানিস্তান ম্যাচ পর্যন্ত চলতি বছর ১৩টি করে ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি এবং ৪টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। ৩৩টি ইনিংসের গোড়াপত্তনে ছিলেন তামিম ইকবাল, এনামুল হক বিজয়, মোহাম্মদ, মিঠুন, এনামুল হক বিজয়, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, লিটন কুমার দাস ও জাকির হাসান।

১৬, ১৫, ১৫, ১! চলতি এশিয়া কাপের চার ম্যাচে বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি থেকে আসা রান। গড় ১১.৭৫। আগস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে টি-টুয়েন্টি সিরিজের তিন ম্যাচে ওপেনিং জুটির রান ৬১, ৭, ০। গড় ২২.৬৬। ওয়ানডে সিরিজে ০, ৩২, ৩৫। গড় ২২.৩৩। টেস্টে ঘটে সবচেয়ে বড় ভরাডুবি। দুই ম্যাচের সিরিজে চার ইনিংস যথাক্রমে ২০, ২, ১০ ও ১৪। গড় ১১.৫।
সবচেয়ে বাজে অবস্থা গেছে জুনে দেরাদুনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি সিরিজে। ০, ১, ১৬! তিন ম্যাচে ১৭ রান ওপেনিং জুটিতে। গড় ৫.৬৬।
মার্চে টি-টুয়েন্টির আসর নিধাস ট্রফির পাঁচ ম্যাচেই ওপেনিং জুটি দুইঅঙ্ক পার করলেও লঙ্কানদের বিপক্ষে একটি ম্যাচে কেবল দুর্দান্ত সূচনা পেয়েছিল বাংলাদেশ। এসেছিল ৭৪ রানের ওপেনিং জুটি। বাকি চার ম্যাচে ২৭, ১১, ১২, ২০। পাঁচ ম্যাচের গড় ২৮.৮।

ফেব্রয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের চার ইনিংসে তামিম ও ইমরুলের ওপেনিং জুটির রান আসে ৪, ৩ ও ৭২, ৫২। চট্টগ্রাম টেস্টে উভয় ইনিংসে ভালো শুরু পাওয়ায় সিরিজ ড্র করে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ বছর শুরু করেছিল জানুয়ারিতে, ঘরের মাঠে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে। পাঁচ ম্যাচের চারটিতে তামিম ইকবালের সঙ্গে ওপেন করেন এনামুল হক বিজয়। ওই সিরিজে তাদের মাঝে সর্বোচ্চ জুটিটি ছিল ৭১ রানের, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। অপর তিন ম্যাচে শুরুর জুটি থেকে আসে ১১, ৬ ও ৩০।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আসরের ফাইনালে এনামুলের জায়গায় খেলেন মোহাম্মদ মিঠুন। ৩ রান করে শুরুতে তামিম ফিরে গেলে ওপেনিং জুটি থেকে ১১ রানের বেশি আসেনি। ওই সিরিজে ওপেনিং জুটির গড় ২৪.৬।

ওপেনিং জুটিতে শীর্ষে কারা?
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ থেকে রোববার পর্যন্ত এক বছরে মাত্র ১৯ ওয়ানডে খেলে হাজার রান পার করেছেন ইংল্যান্ডের দুই ওপেনার জনি বেয়ারিস্টো ও জেসন রয় জুটি। দুই ইংলিশ ওপেনার জুটিতে করেছেন ১২৪২ রান। গড় ৬৫.৩৬। তাদের মাঝে সর্বোচ্চ রানের জুটিটি ১৭৪। মাত্র ১২ ম্যাচে হাজারের কাছাকাছি (৯৪৫) পাকিস্তানের ফখর জামান ও ইমাম-উল-হকের জুটির রান। আর তাদের সর্বোচ্চ জুটিটি রেকর্ড ৩০৪ রানের।
সময়টাতে টি-টুয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার মার্টিন গাপটিল ও কলিন মুনরো ১৩ ম্যাচে জুটিতে যোগ করেছেন ৫৯৯ রান। গড় ৪৬.০৭। সর্বোচ্চ জুটি ১৩৬। ১৭ ম্যাচে পাঁচশ (৫৭৪) পেরিয়েছেন ভারতীয় দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ান জুটি। জুটিতে সর্বোচ্চ ১৬০।
টেস্টে ২২ ইনিংসে হাজারের কাছে পৌঁছে গেছেন ডিন এলগার ও এইডেন মার্করাম। সাউথ আফ্রিকান দুই ওপেনার মিলে গত এক বছরে করেছেন ৯৬৮ রান। সর্বোচ্চ রানের জুটি ২৪৩। গড় ৪৪.০০।










