আশুলিয়ার জিরাবোতে সিম্ফনির নবনির্মিত মোবাইলফোন কারখানা ‘এডিসন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’ উদ্বোধন করা হয়েছে। এই কারখানায় উৎপাদন শুরু হওয়ায় সারাদেশের সাধারণ গ্রাহকরা আরও সুলভমূল্যে সিম্ফনি ব্র্যান্ডের মোবাইল পাবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
আজ রোববার সিম্ফনির মোবাইলফোন কারখানার কার্যক্রম উদ্বোধন করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী প্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার।
এরপর তিনি সফরসঙ্গীদের নিয়ে সিম্ফনি মোবাইলফোন কারখানার প্রডাকশন লাইন, গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগ, মাননিয়ন্ত্রণ বিভাগ ও টেস্টিং ল্যাব ঘুরে দেখেন।
কারখানাটি পরিদর্শনের পর মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘এর মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য নতুন অধ্যায় যুক্ত হলো। বাংলাদেশ এখন মোবাইলফোন আমদানিকারী দেশ থেকে মোবাইলফোন উৎপাদন ও রপ্তানিকারী দেশের কাতারে চলে আসছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছা ছিল দেশেই মোবাইল ফোন উৎপাদন হবে। সেই স্বপ্ন পূরণের সঙ্গী হলো সিম্ফনি।’
তিনি আরও বলেন,‘ মানসম্পন্ন হ্যান্ডসেট তৈরির জন্য বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন বা (বিটিআরসি) এর নির্দেশনা মেনেই কারখানা স্থাপন করেছে সিম্ফনি। সংশ্লিষ্টরা প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে। এ কারণেই সিম্ফনি দেশে মোবাইল ফোন তৈরির অনুমোদন পেয়েছে। এখন আমাদের দায়িত্ব প্রতিষ্ঠানটির অগ্রযাত্রাকে মসৃণ করা। যেনো বিদেশী ব্র্যান্ডগুলোর তুলনায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার সক্ষমতায় এগিয়ে থাকে দেশে তৈরি সিম্ফনি মোবাইলফোন।’
তিনি দেশের মোবাইলফোন শিল্পখাতের সম্ভাবনার কথা জানিয়ে বলেন,‘বাংলাদেশের স্মার্টফোন বাজার ব্যাপক সম্ভাবনাময়। কিন্তু মোবাইল হ্যান্ডসেটের জন্য আমাদেরকে বিদেশী কোম্পানির ওপর নির্ভর করতে হতো। এ খাতে দেশীয় শিল্পের বিকাশে সিম্ফনির মোবাইলফোন কারখানা কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’
তবে দেশে অবৈধ উপায়ে আমদানি করা মোবাইলফোনে সম্ভাবনাময়খাতটি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, ‘এসব বেআইনি মোবাইলফোনের কারণে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। তাই এসব শনাক্তে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
সকালে সিম্ফনি কারখানা কমপ্লেক্সে পৌঁছলে মন্ত্রীকে স্বাগত জানান এডিসন গ্রুপ এর চেয়ারম্যান আমিনুর রশীদ, ম্যানেজিং ডিরেক্টর জাকারিয়া শাহীদ এবং এডিসন ইন্ডাস্ট্রিজ এর ডিরেক্টর এসএম মোর্শেদুজ্জামান।
বক্তব্য পর্বের এক ফাঁকে এডিসন গ্রুপের সিনিয়র ডিরেক্টর মাকসুদুর রহমান চ্যানেল আই অনলাইনের কাছে সিম্ফনির এই কারখানার ফলে গ্রাহকরা কী পাবেন, তা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন,‘এই কারখানা আমাদের দেশের মোবাইলফোন শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণতা নিশ্চিতে প্রয়োজন ছিলো। কারখানাটি আমদানি ও উৎপাদনের মধ্যে পার্থক্যের জায়গাটি দেখিয়ে দেবে। মোবাইলফোনের দামের বেলায় আমদানি ও উৎপাদনের মধ্যে ১০ শতাংশ পার্থক্য আছে। তবে যেহেতু আমরা প্রথম এধরনের শিল্প শুরু করছি তাতে চীনের তুলনায় শুরুতে আমাদের এখানে উৎপাদন খরচ কিছুটা বেশি হবে, কারণ কিছু সিস্টেম লস থাকবে। এরপরও আমরা আমদানি করা মোবাইলফোনের তুলনায় ৫-৭ শতাংশ কম দামে মোবাইলফোন সাধারণ ক্রেতাদের হাতে দিতে পারবো।’
তিনি আরও জানান, আপাতত থ্রিজি হ্যান্ডসেট উৎপাদন দিয়ে শুরু হবে। কিছু কিছু ফিচারফোন তৈরি করা হবে। কর্মীদের দক্ষ করতে দুই ধরনের ফোনই তৈরি করতে হবে। তারা দক্ষ হলে আগামী কয়েক মাসেই ফোরজি ফোন উতপাদন শুরু হবে।
অনুষ্ঠানে সিম্ফনি জানায়, আশুলিয়ার জিরাবোতে ৫৭ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে এডিসন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। এখানে হ্যান্ডসেট সংযোজন, গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগ, মাননিয়ন্ত্রণ বিভাগ ও টেস্টিং ল্যাব রয়েছে। এছাড়া স্থাপন করা হয়েছে জাপান ও জার্মান প্রযুক্তির মেশিনারিজ। কারখানাটিতে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। স্মার্টফোন কারখানাটিতে প্রাথমিকভাবে বার্ষিক ৩০-৪০ লাখ ইউনিট হ্যান্ডসেট উত্পাদন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এরই মধ্যে আটটি প্রডাকশন লাইন স্থাপন করা হয়েছে। আরো কয়েকটি প্রডাকশন লাইন করার পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।








