সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) নাগরিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিদেশে উচ্চশিক্ষার বৃত্তি ব্যবস্থায় নতুন নিয়ম চালু করেছে দেশটির উচ্চশিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা মন্ত্রণালয়।
নতুন নীতিতে বৃত্তির জন্য আটটি দেশকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোন শিক্ষার্থী ও কোন বিষয়গুলো বৃত্তির ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব পাবে, সে বিষয়েও নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ঘোষিত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী পর্যায়ের রেজুলেশন নম্বর ১৭৯/২০২৬-এ জাতীয় বৃত্তি কর্মসূচির শর্ত, যোগ্যতা ও আবেদন প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন এই নীতির লক্ষ্য হলো বৃত্তি ব্যবস্থাপনায় একটি অভিন্ন কাঠামো তৈরি করা, সরকারি অর্থের ব্যবহার আরও কার্যকর করা এবং উচ্চমানের শিক্ষাক্রমের মাধ্যমে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা।
অগ্রাধিকার পাবেন যেসব শিক্ষার্থী
নতুন নিয়মে বৃত্তি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কয়েকটি শ্রেণির শিক্ষার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে শহীদদের সন্তান, সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির সুবিধাভোগী এবং প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাসকারী শিক্ষার্থীরা।
তবে অগ্রাধিকার পেলেও তাদের আবেদন মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষাগত ফলাফল, অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়ে পড়াশোনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান এবং শিক্ষার্থী কী ধরনের ভর্তি পেয়েছেন, সেগুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, এর মাধ্যমে সবচেয়ে যোগ্য ও প্রয়োজনীয় জাতীয় মেধাবীদের বৃত্তি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বৃত্তির জন্য অগ্রাধিকার পাওয়া ৮ দেশ
নতুন নীতিতে বৃত্তির গন্তব্য হিসেবে আটটি দেশকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। দেশগুলো হলো: চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, ফিনল্যান্ড।
মন্ত্রণালয় বলেছে, এই তালিকার মাধ্যমে বৃত্তির গন্তব্য আরও বৈচিত্র্যময় হবে। একই সঙ্গে এসব দেশের সঙ্গে ইউএইর শিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিংয়ে নতুন মানদণ্ড
বৃত্তির জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও নতুন মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোকে মূল্যায়ন করা হবে। কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে বিশ্বের শীর্ষ ৫০-এর মধ্যে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো সামগ্রিক র্যাঙ্কিং বিবেচনা ছাড়াই যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শীর্ষ ১০০ এবং সামগ্রিক র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ ১০০-এর মধ্যে থাকতে হবে।
অন্যান্য ইংরেজিভাষী দেশের প্রতিষ্ঠানকে সংশ্লিষ্ট বিষয় ও সামগ্রিক র্যাঙ্কিং উভয় ক্ষেত্রেই শীর্ষ ২০০-এর মধ্যে থাকতে হবে। আর অ-ইংরেজিভাষী দেশের ক্ষেত্রে বিষয়ভিত্তিক ও সামগ্রিক র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ ৩০০-এর মধ্যে থাকতে হবে।
গুরুত্ব পাবে যেসব বিষয়
দেশটির ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কয়েকটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি, পরিবহন ও লজিস্টিকস, প্রযুক্তি ও প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা, পানি ও পরিবেশ, সৃজনশীল শিল্প, বিজ্ঞান এবং অর্থনীতি।
মন্ত্রণালয়ের মতে, এসব খাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি ইউএইর ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ও জ্ঞানভিত্তিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তুলনামূলক মূল্যায়নে হবে বাছাই
বৃত্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে ন্যায্যতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের তুলনামূলক মূল্যায়ন করা হবে। এতে শিক্ষাগত ফলাফল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান, নির্বাচিত কোর্স অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়ের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং শিক্ষার্থী কী ধরনের ভর্তি পেয়েছেন, তা বিবেচনা করা হবে।
বৃত্তিপ্রাপ্তদের দায়িত্ব
বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের নিয়মিত একাডেমিক অগ্রগতি বজায় রাখতে হবে। বিদেশে অবস্থানকালে ইউএইর সুনাম বজায় রাখার পাশাপাশি অন্য কোনো আর্থিক সহায়তা বা বৃত্তি পেলে তা মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে। পড়াশোনায় প্রভাব ফেলতে পারে এমন কোনো পরিবর্তন ঘটলেও দ্রুত মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে হবে।
এ ছাড়া বিদেশে থাকা শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি করতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা ও নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ অনুমোদন থাকলে যৌথ শিক্ষা কার্যক্রম, সহযোগিতা চুক্তি বা এক্সচেঞ্জ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে কোর্স করার সুযোগও পেতে পারেন।
বৃত্তি স্থগিত বা বাতিলের নিয়ম
নতুন রেজুলেশনে বৃত্তি স্থগিত, সাময়িক বিরতি, পুনরায় চালু, মেয়াদ বাড়ানো কিংবা বাতিলের নিয়মও স্পষ্ট করা হয়েছে। দূরশিক্ষণের বিষয়েও রাখা হয়েছে পৃথক বিধান। নিয়ম ভঙ্গ বা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীকে সতর্ক করা, বৃত্তি স্থগিত করা কিংবা পুরোপুরি বাতিল করার সুযোগ থাকবে।
মন্ত্রণালয় বলেছে, নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইউএইর দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে।
সুত্র: গালফ নিউজ










