জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নৃশংস ও ইতিহাসের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের ওপর রচিত সহিদ রাহমানের সাড়াজাগানো গল্প ‘মহামানবের দেশে’ অবলম্বনে তিনটি কাহিনীচিত্র নির্মিত হয়েছে।
কাহিনীচিত্রগুলো হলো ‘পঁচাত্তরের ডায়েরী’ ‘সেদিন শ্রাবণের মেঘ ছিল’ ও ‘পঁচাত্তরে লালু’। শনিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে এই কাহিনীচিত্র তিনটির প্রিমিয়ার ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ (এমপি)। বিশেষ অতিথি ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক (এমপি)। প্রিমিয়ার অনুষ্ঠান সভাপতিত্ব করেন ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। মর্মস্পর্শি গল্পের ‘পঁচাত্তরে লালু’ কাহিনীচিত্রটি রচনা করেছেন সহিদ রাহমান, চিত্রনাট্য করেছেন সাইয়েদ আহমাদ ও পরিচালনা করেছেন সাজ্জাদ সুমন। অভিনয় করছেন আহমেদ রুবেল, জিয়াউল হাসান কিচলু, মোমেনা চৌধুরী ও শিশুশিল্পী যায়ান।

‘পঁচাত্তরের ডায়েরী’ রাকেশ বসুর চিত্রনাট্যে পরিচালনা করেছেন সুমন ধর। অভিনয়ে- শহীদুজ্জামান সেলিম, শাহাদাত হোসেন, মনোজ, তানিয়া বৃষ্টি, জাহাঙ্গীর আলম, সাজেদুল হক, মাস্টার শাকিল প্রমুখ। আর ‘সেদিন শ্রাবণের মেঘ ছিল’ সহিদ রাহমানের চিত্রনাট্যে পরিচালনা করেছেন রাজিবুল ইসলাম রাজিব। অভিনয় করেছেন আজাদ আবুল কালাম, রওনক হাসান, হিমি প্রমুখ। তিনটি কাহিনীচিত্রই এ বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন বা প্রয়াণ দিবসে তিনটি ভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেলে প্রচার হবে বলে জানা গেছে।
‘পচাত্তরে লালু’ কাহিনীচিত্রে দেখা যাবে- ৯৭১ সালে ইছাপুর গ্রামের ৮ বছরের বালক লালু বঙ্গবন্ধুর ৭মার্চের ভাষণ শুনে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি খুব কৌতুহলী হয়ে ওঠে। একই গ্রামের সুরুজ বাঙ্গালি কমান্ডারের কাছে মুক্তিযুদ্ধের নেপথ্যের অনেক কথা জানার মাধ্যমে ১৯৭১ সালে সসস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে উদ্ধুদ্ধ হয়। দেশ স্বাধীনের পর সে স্কুলে পড়ার সুযোগ পায়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্কুলে গিয়ে জানতে পারে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। কমান্ডার, স্কুল শিক্ষকের সঙ্গে এই অন্যায়ের প্রতিবাদে সামিল হয় লালুও। মিছিলের মধ্যেই পুলিশের হাতে আটক হয়ে অমানসিক শারীরিক নির্যাতনের স্বীকার হয় এবং লালুর জীবনে করুন পরিনতি নেমে আসে।

‘পচাত্তরের ডায়েরী’ কাহিনীচিত্রে বঙ্গবন্ধুকে ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন হত্যাকা-ের পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে। বঙ্গবন্ধু বেদবুনিয়া ভূউপগ্রহ কেন্দ্র পরিদর্শনে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে তাকে হত্যা করা হবে বলে পরিকল্পনা করা হয়। সেই খবর জানতে পেরে জনপ্রতিনিধি বেলায়েত বঙ্গবন্ধুকে সাবধান করে। পরে সেই পরিকল্পনা বাস্তব না হওয়ায় সড়যন্ত্রকারীরা আবারও পরিকল্পনা করে একই বছরের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার। এই কুপরিকল্পনা সফল হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা প্রতিবাদ মিছিল বের করে। তারাও পুলিশের হাতে আটক হয় এবং নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়।
আর ‘সেদিন শ্রাবণের মেঘ ছিল’ কাহিনীচিত্র নোয়াখালির একজন গ্রামের শিক্ষিত সমাজসচেতন যুবকের গল্প। সে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টেই বিয়ে করে। বাসর রাতে ঢোকার সময়ই বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের খবর পায় সে। সেই যে এই হত্যাকা-ের পতিবাদে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল ছেলেটি আর ফিরতে পারে নি।







