নিজেদের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু-১ এ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে মহাকাশে স্যাটেলাইট আছে এমন দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বে ওইরকম দেশ এখন ৫৭টি। অনন্য অর্জনের এ সময়ে আমরা পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সকলকে অভিনন্দন জানাই।
স্যাটেলাইটটির ৪০টি ট্রান্সপন্ডারের মধ্যে দেশের জন্য ২০টি রেখে বাকিগুলো বিক্রির জন্য রাখা হবে। উপগ্রহটি টেলিভিশন চ্যানেল, ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, ভি-স্যাট ও বেতারসহ ৪০ ধরনের সেবা দেবে।
এছাড়া তরঙ্গ ভাড়া, ইন্টারনেট, কৃষিখাত এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায়ও সুবিধা পাওয়া যাবে। দেশের জনবল যুক্ত করে এ প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দুর্গম এলাকায় সংযোগ, বিশেষ করে ইন্টারনেট স্থাপনের জন্যে কাজ করবে স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১। দুর্যোগের সময় হবে সবচেয়ে বড় সহায়। এ দুটিই আসলে হতে পারে বঙ্গবন্ধু-১ থেকে আমাদের বড় পাওয়া।
নিজেদের স্যাটেলাইটের ফলে বাংলাদেশকে আর এক্ষেত্রে অন্য দেশের ওপর নির্ভরশীল হতে হবে না। আগামীতে বরং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য এবং পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলোকেও স্যাটেলাইটের সুবিধা দিতে সক্ষম হবে বাংলাদেশ।
বিদেশী কোম্পানির কাছে স্যাটেলাইটের সুবিধা বিক্রি করাই হবে খরচের টাকা তুলে আনার সবচেয়ে বড় উপায়। কিন্তু তার জন্যে দরকার যথাযোগ্য পরিকল্পনা। সেখানে আমাদের প্রস্তুতি সম্পর্কে আমরা এখনো কোনো বড় পরিকল্পনা দেখছি না।
অন্যদেশের স্যাটেলাইটগুলো মহাকাশে ওড়ার আগেই তাদের ক্যাপাসিটি অগ্রিম বিক্রি করে দেয় বা দিতে পারে, সেখানে আমরা এখন পর্যন্ত এ প্রক্রিয়ায় তেমন কোনো অগ্রগতি লক্ষ্য করিনি। বিষয়টি নিয়ে আমাদের এখনই ভাবতে হবে।
আর সবকিছুর আগে দরকার স্থানীয় পর্যায়ে স্যাটেলাইটের ক্ষমতা ব্যবহারের জন্যে অবকাঠামো তৈরি করা।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ যেনো শুধু আড়ম্বর আর রাজনৈতিক বিজয়ের চিহ্ন হিসেবে না দেখি আমরা। আমরা যেনো এই স্যাটেলাইট থেকে দেশের অর্থনীতিতে অবদান ও প্রযুক্তি ব্যবহার আরো সহজলভ্য করতে পারি। এটা থেকে আমাদের প্রাপ্ত সুবিধা যেনো জনগণের কল্যাণ বয়ে আনে, আমরা এটাই দেখতে চাই।







