একুশে পদকে ভূষিত কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেছেন: কবি হচ্ছেন ভবিষ্যত দ্রষ্টা, তারা ভবিষ্যত দেখতে পান। আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন কবি, তার ৭ মার্চের ভাষণ কবিতা।
শুক্রবার দুপুরে রাজধানীতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে ‘ডিআরইউ সদস্য লেখক সম্মাননা-২০১৭’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন জাতিসত্তার কবি খ্যাত মুহম্মদ নূরুল হুদা।
এসময় তিনি বলেন: ডিআরইউ সদস্য লেখকদের মধ্যে অনেকেই হয়ে উঠবেন সমকালীন সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ কবি-সাহিত্যিক। কারণ সাহিত্য ও সাংবাদিকতা একটি অন্যটির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বাংলা সাহিত্যের দিকপালদের অনেকেই খ্যাতনামা সাংবাদিক ছিলেন। সাংবাদিকদের হাতেই রচিত হয়েছে বিশ্ব সাহিত্যের অনেক উজ্জ্বল সৃষ্টি।
সাংবাদিকতা বিষয়ে কবি নূরুল হুদা বলেন: সাংবাদিকতায় মূলতঃ পাঁচটি ‘নি’ অপরিহার্য। একটি প্রতিবেদন হতে হবে নিখুঁত, নির্ভেদ, নির্ভুল, নি:শঙ্ক এবং নিরপেক্ষ। আর চলমান বাস্তবতা জানার জন্য প্রয়োজন সংঘটিত আসল তথ্য এবং ভবিষ্যতের নতুন বাস্তবতা সংঘটনের জন্য তথ্যের বিশ্লেষন ও সৃষ্টিশীল নবায়ন।
তিনি বলেন: জাতি, ধর্ম, বর্ণ আর ধর্মের সীমানা যে পার হতে পারে সেই মানুষ। সাহিত্য সেই সার্বজনীনতার কথা বলে।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি চলতি বছর যাদের গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে তাদের এই সম্মাননা দেয়া হয়। চ্যানেল আই অনলাইনের সম্পাদক জাহিদ নেওয়াজ খান, চ্যানেল আইয়ের সিনিয়র রিপোর্টার মোস্তফা মল্লিক সম্মাননা গ্রহণ করেন।
সম্মাননা পাওয়া অন্য সদস্যরা হলেন: বাসসের শামসুল আলম বেলাল, চপল বাশার, হালিম আজাদ, অজিত কুমার সরকার, মুহম্মদ আবদুল বাতেন, সমকালের মুস্তাফিজ শফি ও ইন্দ্রজিৎ সরকার, প্রথম আলোর মাসুদ আলম, পাক্ষিক অনন্যার হাসান হাফিজ, শাহিন চৌধুরী, চ্যানেল ২৪ এর আমীন আল রশিদ, ইত্তেফাকের পিনাকি দাসগুপ্ত, বাংলাভিশনের মোস্তফা কামাল, জিয়াউল হক সবুজ ও ইমরুল কায়েস, জনকণ্ঠের তৌহিদুর রহমান, রাইজিং বিডির উদয় হাকিম, এবি নিউজ ২৪ বিডি.কম শাহীন চৌধুরী, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের রেজাউল কারীম, সারাবাংলা.নেট-এর মেসবাহ শিমুল, শেয়ার বিজের মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ ও জাকারিয়া পলাশ, ভোরের কাগজের শামসুজ্জামান শামস ও ঝর্ণা মনি, প্রিয়দেশ নিউজের রকিবুল ইসলাম মুকুল, পিটিবি নিউজের আশীষ কুমার দে, মাইটিভির আমিরুল মোমেনীন মানিক, নিউজ প্রেস বিডির আবদুল মান্নান, বাংলাদেশ প্রতিদিনের মানিক মুনতাসির, অবজারভারের জীবন ইসলাম, শাহেদ মতিউর রহমান ও মিয়া হোসেন, জিয়াউল কবির সুমন, আমাদের অর্থনীতির জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না, ঢাকা টাইমসের হাবিবুল্লাহ ফাহাদ, উত্তরবঙ্গ সংবাদের নির্মল চক্রবর্তী, আরটিভির মাইদুর রহমান রুবেল, বাংলা ট্রিবিউনের নুরুজ্জামান লাবু, ইনকিলাবের রফিক মুহাম্মদ, নতুন সংবাদের এম. উমর ফারুক, মানবকন্ঠের আসাদ জোবায়ের ও আমাদের সময়ের এম এইচ রবিন।
ডিআরইউ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ‘সদস্য লেখক সম্মাননা-২০১৭’ কমিটির আহ্বায়ক এবং ডিআরইউর প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক কাফি কামাল।
সভাপতির বক্তব্যে সাখাওয়াত হোসেন বাদশা বলেন: ডিআরইউ সদস্যদের সৃজনশীলতা ও মননশীলতাকে উৎসাহিত করতেই এ আয়োজন। আগামীতে সুনির্দিষ্ট নিয়মে জুরি বোর্ড গঠন করে বিচারের মাধ্যমে সৃজনশীল, মননশীল ও শিশু সাহিত্য তিন ক্যাটাগরিতে তিনজনকে ডিআরইউ সাহিত্য পুরস্কার ও অন্য সদস্য লেখকদের সম্মাননা দেয়া যেতে পারে। এতে পুরস্কারের মর্যাদা যেমন বৃদ্ধি পাবে, সেই সঙ্গে সদস্য লেখকরাও উৎসাহিত হবেন
এছাড়া অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মুরসালিন নোমানী, সদস্য লেখক শামসুল আলম বেলাল, চপল বাশার, হাসান হাফিজ, অজিত কুমার সরকার, ডিআরইউ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ ও অর্থ সম্পাদক মানিক মুনতাসির।







