অমর একুশে গ্রন্থমেলায়ে স্টল বণ্টন নীতির প্রতিবাদ জানিয়েছে বেশ কয়েকটি প্রকাশনী। নিয়ম মেনে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়নি বলে মনে করছেন তারা।
প্রকাশকদের অভিযোগ, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে স্টল বরাদ্দ দেওয়ায় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেশি বেশি সুযোগ সুবিধা দিয়ে বঞ্চিত করা হয়েছে সিন্ডিকেটের বাইরের ও নবীন প্রকাশনীদের। আগামী ১১ জানুয়ারির মধ্যে স্টল বণ্টন পুনর্বিবেচনা করার দাবি জানিয়েছেন প্রতিবাদকারী প্রকাশকরা। তা না হলে ১৩ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হবে বলে।
বেহুলাবাংলা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী চন্দন চৌধুরী চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘বেহুলাবাংলা এ বছর দেড় শতাধিক বই প্রকাশ করছে। যেখানে বিনয় মজুমদার বিষয়ক প্রবন্ধ সমগ্র, মঈন চৌধুরীর দর্শন বিষয়ক রচনা সমগ্র, নির্মলেন্দু গুণের সাক্ষাৎকার সমগ্রের মতো হাজার পৃষ্ঠার বইও রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব ঘটনা নিয়ে ৭১টি উপন্যাস প্রকাশের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে বেহুলাবাংলা প্রকাশনী। এখন পর্যন্ত প্রকাশ করেছে দুই শতাধিক বই। সারাবছর বই প্রকাশের পাশাপাশি শুধু ২০১৭ সালের মেলাতেই ৮৩টি বই প্রকাশ করেছি আমরা। অথচ এত সংখ্যক বই প্রকাশের পরও এক ইউনিটের স্টল বরাদ্দ দেওয়া হলো। স্টলে বই সাজিয়ে রাখাই হবে কষ্টসাধ্য।’

স্টল বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বাংলা একাডেমির পরিচালক ও মেলা আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘আয়োজক কমিটি বিচার বিবেচনা করে যোগ্য প্রকাশনীকেই স্টল বরাদ্দ দিয়েছে। এক ইউনিট পেয়ে যদি কেউ সন্তুষ্ট না থাকে, তিন ইউনিট চায়, সে ক্ষেত্রে কিছু বলার নেই। যেখানে এক ইউনিট পাওয়াই অনেক কষ্টের।’
খড়িমাটি প্রকাশনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রকাশনীটি এবারের মেলায় ৬৭টি বই প্রকাশ করেছে। যার মধ্যে বেশ কিছু বই উল্লেখযোগ্য। আছে অনুবাদের বইও। ৫০ টি বই থাকলেই যেখানে স্টল পাওয়ার নিয়ম সেখানে খড়িমাটিকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।
টাপুরটুপুর প্রকাশনীর প্রকাশক অভিযোগ করে বলেন, ‘টাপুরটুপুর ছোটদের প্রকাশনী। এই প্রকাশনীরও অর্ধ শতাধিক বই রয়েছে। জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, মহাদেব সাহা, আখতার হুসেনদের বই থাকা সত্ত্বেও টাপুরটুপুরকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।’
বইমেলা এখন সিন্ডিকেটের হাতে চলে গেছে অভিযোগ করে চন্দন চৌধুরী বলেন, তারুণ্য নির্ভর প্রকাশনাগুলো যেখানে ঠিক ভাবে স্টলের ইউনিট পাচ্ছে না, সেখানে মেলায় প্যাভিলিয়নের সংখ্যা ১১ থেকে বাড়িয়ে ২৫টি করা হয়েছে। যদি নতুন স্টল বাড়ানোর জায়গা না থাকে কিভাবে ২৫টি প্যাভিলিয়ন করা হলো? বড় প্রকাশনীদের সুযোগ করে দিতে বাংলা একাডেমি অনেক উদার।
১৪ টি নতুন প্যাভিলিয়ন বৃদ্ধির বিষয়ে ড. জালাল আহমেদ বলেন, শুধু প্যাভিলিয়ন কেন, ইউনিটও তো বৃদ্ধি করা হয়েছে। গতবার ৯১টি নতুন স্টলের আবেদন ছিল। সেখান থেকে ২০টির মতো স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এবার ৮৩টি নতুন স্টলের আবেদন করেছিলো। তাদের মধ্যে ২৪-২৫ টাকে স্টল দেওয়া হয়েছে। প্রতিবছরই স্টলের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়। এবারও তাই করা হয়েছে।








