একুশের বইমেলা থেকে কেনা বইয়ের মূল্য পরিশোধে যেকোনো মোবাইল পেমেন্ট সার্ভিসসহ সুবিধাজনক যেকোনো মাধ্যম ব্যবহারে বাঁধা না দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
সেই সঙ্গে বইমেলায় নগদ অর্থের বাইরে বই কেনার ক্ষেত্রে যে চুক্তির মাধ্যমে মোবাইল পেমেন্ট সার্ভিস বিকাশকে একতরফা অধিকার দেওয়া হয়েছে, সে চুক্তিটি কেন জনস্বার্থবিরোধী এবং আইনবিরুদ্ধ ঘোষণা করা হবে না, জানতে চেয়ে রুলও জারি করেছে আদালত।
জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে সোমবার বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি এম. ফারুকের হাই কোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এই আদেশ দেন। অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসাইনের পক্ষে আইনজীবী অনিক আর হক এ রিট দায়ের করেছিলেন।
আগামী পনের দিনের মধ্যে বাংলা একাডেমির চেয়ারম্যান, মহাপরিচালক (ডিজি), সচিব এবং বইমেলা আয়োজক কমিটির সদস্য সচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অনিক আর হক। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমাতুল করীম।
আইনজীবী অনিক আর হক এবিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “গত সপ্তাহে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউ-ল্যাবের কম্পিউটার সায়েন্সের শিক্ষক সাজ্জাদ হুসাইন কোনো একটি স্টল থেকে তার পছন্দের বই কিনে মূল্য পরিশোধ করতে গেলে নগদ টাকার ঘাটতি পড়ে। তখন তিনি ক্রেডিট কার্ডে মূল্য পরিশোধ করতে চান। তখন স্টল কর্তৃপক্ষ জানায় নগদ অর্থ ছাড়া তিনি কেবল বিকাশের মাধ্যমেই মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন। পরে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন কোনো একটি চুক্তির মাধ্যমে বাংলা একাডেমি একতরফাভাবে বিকাশকে এ সুবিধা দিয়েছে। পরে তিনি রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জনস্বার্থে রিট আবেদন করেন। সে রিটের শুনানি নিয়ে আদালত আজ রুলসহ আদেশ দিলেন।”
এই আইনজীবী আরো বলেন, “অন্যান্য পেমেন্ট সার্ভিস থাকার পরও একতরফাভাবে মোবাইল পেমেন্ট সার্ভিস হিসেবে বিকাশকে যে সুবিধা বাংলা একাডেমি দিয়েছে তা প্রতিযোগিতা আইন ২০১২ এর পরিপন্থি ও লঙ্ঘন।”
দেশের অন্যতম বড় মোবাইল ব্যাংকিং চ্যানেল ‘বিকাশ’ বইমেলার অন্যতম স্পন্সর হওয়ায়, শুধু বিকাশের মাধ্যমে লেনদেন করার বাধ্যবাধকতা ছিল বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে। এরফলে দেশের অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিং চ্যানেল আই-পে, শিউরক্যাশসহ অন্যান্যদের গ্রাহকদের আপত্তি ছিল। যা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমগুলোতেও সমালোচনার ঝড় বয়ে গেছে।










