কদিন আগেও এই ছেলেটিকে ঘরোয়া ক্রিকেটের বাইরে কেউ চিনতো না। কিন্তু আজ শুধু বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষই নয় তাকে চেনে পুরো বিশ্ব। আর হাড়ে হাড়ে চেনে প্রতিবেশী ভারত। মানে আরো বেশি করে চেনেন ধোনি-কোহলি-রায়নারা। বল হাতে দুর্বার গতিতে যখন দৌড় শুরু করে এই বিস্ময় বালক তখন তাদের চোখে মুখে থাকে আতঙ্ক, বুক করে দুরু দুরু। না চিনে উপায় আছে? পাঠক মনে হয় এতোক্ষণে বুঝে গেছেন কার কথা বলছি। হ্যা, বলছি বাংলাদেশের ক্রিকেট জগতের নব্য আবিষ্কার ঊনিশ বছরের সদ্য যুবক মুস্তাফিজুর রহমানের কথা।
পাকিস্তানের সঙ্গে টি-টোয়েন্টি খেলাটার আগে ঘরোয়া ক্রিকেটের বাইরে খুব বেশি মানুষ চিনতো না তাকে। এখন সবাই তাকে চেনে। প্রমান দেখা গেলো তার ফেসবুক পেজেও।
গত বছরের ২৫ এপ্রিল তার ফেসবুক পোস্ট ছিলো ‘সো হট ওয়েদার’। পোস্টটিতে লাইক ছিলো মাত্র ১৪টি। এমনকি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অভিষেকের পরও তার ফেসবুক পেজে লাইকের সংখ্যা ছিলো খুবই কম। ওই ম্যাচের ছবি দিয়ে যে পোস্ট দেয়া হয়েছিলো তাতে লাইক ছিলো মাত্র এক হাজার তিনশ’ পঁচিশ।
আর আজ তার অফিসিয়াল ফ্যান পেজের লাইকের সংখ্যা হচ্ছে এক লক্ষ পঁয়তাল্লিশ হাজার আটশ’ ৫০টি। অর্থাৎ শুধু ভারতের সঙ্গে খেলার পরই তার পেজে লাইক এবং অ্যাক্টিভিটির পরিমান দ্রুত গতিতে বাড়তে থাকে।
ফেসবুক পেজে তার ভক্তরাও এখন বেশ সক্রিয়। কোনো ছবি পোস্ট করার সঙ্গে সঙ্গেই তা লাইকে ভরে যাচ্ছে। অনেকে অনেক ধরনের মন্তব্য করছেন। কেউ তারে জন্য শুভকামনা জানাচ্ছেন, কেউ তার ভালো বোলিংয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ, কেউ জানাচ্ছে তাকে নিয়ে ভক্তদের গর্বের কথা আবার কেউ জানাচ্ছে মুস্তাফিজকে নিয়ে তাদের প্রত্যাশার কথা।
তবে এখনও তার ফেজবুকের ভেরিফাইড কোনো পেজ না হওয়ায় তার ফ্যানদের মধ্যে রয়ে গেছে দ্বিধাদ্বন্দ্ব। কারণ ইতিমধ্যেই অনেকগুলো পেজ বের হেয়ে গেছে তার নামে। তবে শীঘ্রই হয়তো তার নিজস্ব পেজটি ভেরিফাইড করবেন মুস্তাফিজ।
ক্রিকেট ইতিহাসে ক্যারিয়ারের প্রথম দুই ম্যাচে সব চেয়ে বেশি উইকেট শিকারের বিশ্বরেকর্ড গড়া এ কিশোরের সামনে রয়েছে নতুন এক রেকর্ডের হাতছানি। ক্যারিয়ারের প্রথম তিন ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার রায়ান হ্যারিসের ১৩ উইকেট শিকারের রেকর্ড ভাঙতে শেষ ম্যাচে মুস্তাফিজের চাই আর মাত্র তিন উইকেট। ব্যক্তিগত সেই লক্ষ্য পূরণের দিন আজ। আর সেই সঙ্গে বাংলাওয়াশের হাতছানি।






