মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। এরপর বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যানার উঁচিয়ে উদযাপনে মেতে ওঠে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল। আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের হাতে দেখা যায় ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস’ (ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার) লেখা ব্যানার। এর প্রতিক্রিয়ায় খেলোয়াড়দের ভিসা বাতিলের দাবি উঠেছে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে স্পর্শকাতর এই উদযাপনে অংশ নেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা বেশ কয়েকজন আর্জেন্টাইন তারকা। তাদের মধ্যে রয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, চেলসির এনজো ফের্নান্দেজ এবং টটেনহ্যাম হটস্পারের ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। এর জের ধরে যুক্তরাজ্যে উঠেছে তাদের ওয়ার্ক ভিসা বাতিলের দাবি। তবে আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন শাস্তির সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।
১৯৮২ সালে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে হওয়া ৭৪ দিনের ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয় এই রাজনৈতিক প্রদর্শন। ম্যাচ শেষে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ বলেছিলেন, ‘এটি আবেগঘন মুহূর্ত। দেশের সার্বভৌমত্বের বার্তা দেওয়াই ছিল লক্ষ্য।’
ঘটনার পরপরই যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গন ও গণমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের সহযোগী নীল গার্ডিনার সহ বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের ভিসা বাতিলের দাবি জানান।
‘ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা যেসব আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় ব্রিটেন-বিরোধী সেই কুরুচিপূর্ণ আচরণে অংশ নিয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের যুক্তরাজ্যের কাজের ভিসা বাতিল করা উচিত। এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়া উচিত নয়।’ বলেন নীল গার্ডিনার।
বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রিমিয়ার লিগের তিন তারকার ভিসা বাতিলের যে, জোরালো গুঞ্জন তৈরি হয়েছে, তা আইনি কোনো ভিত্তি না পেয়ে কেবল কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বাগযুদ্ধেই সীমাবদ্ধ থাকবে। তবে এএফএ এবং সংশ্লিষ্ট ফুটবলাররা ফিফার পক্ষ থেকে বড় অংকের আর্থিক জরিমানা বা সতর্কবার্তার মুখে পড়তে পারেন।







