আর্জেন্টাইন ফুটবল লিজেন্ড দিয়াগো ম্যারাডোনা বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার প্রেসিডেন্ট পদে লড়বেন বলে জানিয়েছেন প্রভাবশালী এক সাংবাদিক।
ম্যারাডোনাকে নিয়ে টেলিভিশন শো করা উরুগুয়ের সাংবাদিক ভিক্টর হুগো মোরালেস এক টুইট বার্তায় বলেছেন, ফিফার প্রেসিডেন্ট হবার বিষয়ে ম্যারাডোনা জানিয়েছেন তিনি ফিফার পরবর্তি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। আর এই খবরটি সবাইকে জানানোর জন্য আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে ফুটবল ঈশ্বরের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি ফিফা সভাপতি সেপব্লাটারকে অযোগ্য, অসৎ ও ফুটবলের মাফিয়া বলে অভিহিত করে একটি কলাম লেখেন, ম্যারাডোনা।
এতে তিনি বলেন, আমি কয়েক দশক ধরে ফুটবল নিয়েই বেঁচে আছি। ফুটবল আমার কাছে প্রতিদিনের নিঃশ্বাসের মতো। ফুটবল আমার কাছে আবেগের বিষয়। এর জন্য আমি গর্ববোধ করি। আমার দেশ আর্জেন্টিনা এবং বিশ্বব্যাপী অসংখ্য ভক্ত এবং শুভাকাঙ্খি পেয়েছি। তারা আমাকে অসাধারণ অনুপ্রেরণা এবং সমর্থন দিয়ে গেছে।
লেখায় ম্যারাডোনা বৈশ্বিক এই খেলার ঢালাও বাণিজ্যকরণের প্রতিবাদ করে বলেন, গত কয়েক দশক ধরে ফুটবল অনেক পরিবর্তন হয়েছে। তবে তা ইতিবাচক অর্থে হয়নি। যে খেলা সমগ্র বিশ্বকে এক সুতায় গাঁথতে পারতো তা ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার পরিচালনা পর্ষদের কারণে এখন দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে।
ম্যারাডোনার দাবি, যারা ফুটবল নিয়ে সত্যিকার অর্থে ভালো কিছু ভাবে বা করতে চায় তাদের জন্য সেফ ব্লাটারের নেতৃত্বে ফিফা লাঞ্ছনা ছাড়া আর কিছুই করে না। ফিফার নির্বাচন নিয়ে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন এই আর্জেন্টাইন তারকা।
পঞ্চমবারের মত ব্লাটারের নির্বাচিত হওয়া নিয়েও কথা বলেন তিনি। প্রশ্ন রাখেন কেনো ওই ব্যক্তিকে পঞ্চমবারের মত ফিফার সভাপতি নির্বাচন করতে হবে।
২০১৫ সালে এই আধুনিক সভ্য সময়ে গণতান্ত্রিক সংস্থায় এমন স্বেচ্ছাচারিতা কিভাবে সম্ভব বলেও বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা জাতিসংঘে পর পর পাঁচবার একই ব্যক্তি কি থাকতে পারবে?
ফিফার সভাপতি পদ থেকে সেপ ব্লাটারের সরে দাঁড়ানোর পর থেকে বিশ্ব ফুটবলের অনেকেই এ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। এর আগে ব্রাজিলের কিংবদন্তী জিকো এবং লাইবেরিয়োর ফুটবল কর্মকর্তা মুসা বিলাতি প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা ঘোষণা করেন।
গতমাসে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো মন্তব্য করেন, ফিফার পরবর্তি প্রেসিডেন্ট হওয়া উচিত ম্যারাডোনার।
চলতি বছরের শেষে বা আগামি বছরের শুরুতে ফিফার প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।







