রহস্যঘেরা এবং ব্যাপক আলোচিত বামন গ্রহ প্লুটোর পৃষ্ঠের স্পষ্ট কিছু ছবি পাঠিয়েছে মহাকাশযান নিউ হরাইজনস। গত জুলাইয়ে প্লুটোর সবচেয়ে কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় ছবিগুলো তোলা হলেও এতোদিন পর সেগুলো পৃথিবীতে পাঠিয়েছে মহাকাশযানটি।
২০০৬ সালে প্লুটোর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে দীর্ঘ ৯ বছর পর গ্রহটির ১২ হাজার কিলোমিটারের মধ্যে চলে যায় মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা’র মহাকাশযান নিউ হরাইজনস। তখন ধার ঘেঁষে উড়ে যাওয়ার সময় খুব কাছ থেকে বেশ কিছু ছবি তোলে যানটি। এর পরদিনই অনেকগুলো ছবি পৃথিবীতে পাঠায় সেটি।
কিন্তু সবচেয়ে স্পষ্ট ছবিগুলো পাঠালো এতোদিন পর। পৃথিবী থেকে আরো অনেক বেশি দূরে চলে যাওয়ার কারণে ছবিগুলো পাঠাতে এতো দেরি হলো।
নিউ হরাইজনসের পাঠানো সর্বশেষ ছবিগুলো শুক্রবার প্রকাশ করে নাসা। ৮০ বর্গমিটার প্রতি পিক্সেলের বেশি রেজ্যুলেশনের ছবিগুলোতে বামন গ্রহ প্লুটোর উপরিপৃষ্ঠের বহু খুঁটিনাটি গঠন স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়েছে। এই রেজ্যুলেশন এবং এমন দূরত্ব থেকে পৃথিবীর ছবি তোলা হলে সেখানে খুব সহজেই শহরের একটা পার্ককেও আলাদা করে চিহ্নিত করা সম্ভব।
একইভাবে নিউ হরাইজনসের পাঠানো ছবিগুলোতে পাহাড়-পর্বত, খাদ আর বরফাবৃত মসৃণ সমভূমিগুলো চোখে পড়ার মতো স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে। ছবিগুলো একে অপরের সঙ্গে যোগ করে একটি ভিডিও তৈরি করে ইন্টারনেটে শেয়ার করেছে নাসা।
‘কাছ থেকে তোলা এই ছবিগুলোতে প্লুটোর বৈচিত্র্যময় ভূ-পৃষ্ঠ দেখা গেছে। এখান থেকেই আমরা বুঝি মহাকাশে পাঠানো আমাদের রোবোটিক অভিযাত্রীগুলো কতোটা অসাধারণ তথ্য পৃথিবীর বিজ্ঞানীদের কাছে পাঠাচ্ছে,’ বলেন নাসার বিজ্ঞান বিষয়ক পরিচালনা পর্ষদের প্রধান জন গ্রান্সফেল্ড, ‘জুলাইয়ে নিউ হরাইজনস প্লুটোর কাছ থেকে তোলা ছবিগুলো পাঠিয়ে আমাদের শিহরিত করেছিলো। এবার মেমোরি থেকে আরো স্পষ্ট ছবি পাঠিয়ে এটি আমাদের আরো বেশি বিস্মিত করলো।’
২০১৬ সালের শেষ দিকে নিউ হরাইজনসের মেমোরিতে থাকা সব ছবি পৃথিবীতে এসে পৌঁছানো শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।






