রাজধানীর বনানীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার ওই রাতে আপত্তিকর কোনো কিছু ঘটেনি এমন বক্তব্যে রেইনট্রি হোটেল কর্তৃপক্ষ ধর্ষকদের পক্ষ নিয়ে কাজ করছে। তাই প্রশাসনের উচিত এই হোটেলটি বন্ধ করে দেয়া। চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে আলাপকালে খুশি কবির, ইমরান এইচ সরকার ও সুপ্রীতি ধর তাদের দেয়া প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেছেন।
মানবাধিকার কর্মী খুশি কবির বলেন: রেইনট্রি কর্তৃপক্ষ যা বলেছে তা খুবই সন্দেহজনক। তারা ধর্ষকদের পক্ষ নিয়ে কাজ করছেন। ধর্ষকদের সাহায্য করতে তারা এ ধরণের মন্তব্য করেছে। সাধারণ হোটেলে যেখানে সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকে সেখানে বনানী এলাকার দামি হোটেলে সিসি ক্যমেরা অকেজো থাকা খুবই হাস্যকর।
তিনি বলেন, রেইনট্রি কর্তৃপক্ষের এমন বক্তব্যর পর সরকারে পুরোদমে তদন্ত করা উচিত। বলা যায় না এই হোটেলকে ব্যবহার করে এর আগেও এ ধরনের ঘটনা আগে ঘটেছে কি না এবং তাদের রক্ষায় আগেও তারা এমন কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কি না।
খুশি কবির আরো বলেন, যেখানে ধর্ষকরা ঘটনার কথা স্বীকার করেছে সেখানে রেইনট্রি কিভাবে বলছে ওই রাতে কিছুই হয়নি? তারা কথাগুলো কিভাবে এতো আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলছেন? তাহলে কী তাদের কাছে কোনো প্রমাণ আছে? আর যদি প্রমাণ না থাকে তাহলে কথাগুলো তারা কেন বলছে, প্রশাসনের উচিত এ বিষয়গুলো কঠোরভাবে তদন্ত করা।
গণজাগরণ মঞ্চের একাংশের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেন, হোটেল রেইনট্রি মূলত ধর্ষকদের আখড়া। এই হোটেলে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র এই ধরনের কর্মকাণ্ড করে আসছে। তাই রেইনট্রির বক্তব্যে আমি অবাক হইনি। কেননা তাদের যে ধরনের বক্তব্য দেয়ার কথা, তারা সেই ধরনের বক্তব্য দিয়েছে।
এতো বড় একটি হোটেলে ক্যামেরা নেই এবং ধর্ষক সাফাতের কোনো বডিগার্ড তারা দেখেননি ধর্ষকদের কতোটা পক্ষ নিলে এই কথাগুলো বলা যায়।
তাই সরকারের উচিত হোটেল রেইনট্রি খুব শীঘ্রই বন্ধ করে দেয়া। আর এই হোটেলে যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রায় করে থাকে সেই চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা।
সাহসী ওই দুই তরুণীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ইমরান বলেন, তারা ভয়কে জয় করে সবাইকে সত্যটি জানিয়েছে। সমাজ আজও তাদের জন্য বেঁচে আছে। আমরা প্রয়োজনে তাদের হয়ে লড়ব। প্রয়োজনে রাস্তার আন্দোলন আরও কঠোর হবে। ধর্ষণের অভিযুক্তরা যত বড় হোক না কেন আমরা তাদের শাস্তি চাই।
উইমেন চ্যাপ্টার এর সম্পাদক সুপ্রীতি ধর বলেন, এতো আলোচনা ও সমালোচনার পর রেইনট্রি কর্তৃপক্ষ বলছে কোনো আপত্তিকর ঘটনা ঘটেনি। তাদের কাছে জানতে ইচ্ছে করছে কোন পর্যায় পর্যন্ত গেলে আপত্তিকর হবে। আসলে ধর্ষকদের সঙ্গে সুর মেলাচ্ছে রেইনট্রি। এই হোটেলের কথা শুনে এখন ছোট হোটেলগুলো অপরাধ করার আরও সুযোগ পাবে। এই হোটেলটি নিয়ে সরকারের তদন্ত করা উচিত। তারা কেন এই ধরনের বক্তব্য দিলেন সেটিও তদন্ত করা উচিত।
তিনি বলেন, সবসময় দেখেছি যে ধর্ষক সে সমাজে ঘুরে বেড়ায় আর যে ধর্ষণের শিকার সে জীবনের সবকিছুই হারিয়ে ফেলে। যতোদিন পর্যন্ত আমাদের সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন হবে না, প্রধানমন্ত্রী এবং প্রশাসন কঠোর হবে না, ততোদিন পর্যন্ত সমাজ থেকে এগুলো বিদায় নেবে না।
গত ২৮ মার্চ বনানীতে দ্য রেইনট্রি হোটেলে বন্ধুর মাধ্যমে এক জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী। এরপর ধর্ষকরা ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে রাখে।
প্রাণনাশসহ বিভিন্ন হুমকি উপেক্ষা করে ঘটনার একমাসের বেশি দিন পর ওই দুই তরুণী ৪ মে বনানী থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করতে যান।
তবে থানা পুলিশ মামলা না নিয়ে তাদেরকে হয়রানী করে বলে অভিযোগ ওঠার ৪৮ ঘণ্টা পর ৬ মে ওই অভিযোগ লিপিবদ্ধ করে।








