অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এবং দ্রুত সময়ে বাস্তবায়নের জন্য অবকাঠামো খাতের ১০টি বড় প্রকল্পের জন্য প্রথমবারের মতো আলাদা বাজেট করা হয়েছে। এর আওতায় রাখা হয়েছে যোগাযোগ অবকাঠামো খাতের পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, পায়রা সমুদ্রবন্দর নিয়ে ৬টি প্রকল্প।
বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে জাতীয় বাজেটে যোগাযোগ অবকাঠামোখাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বরং এসেছে নতুনত্ব। বড় প্রকল্পগুলোকে প্রবৃদ্ধির গতি সঞ্চালক হিসেবে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে আলাদা বাজেট।
এ খাতের বাজেটের নাম দেওয়া হয়েছে ‘কাঠামো রুপান্তরে বৃহৎ প্রকল্প: প্রবৃদ্ধি সঞ্চারে নতুন মাত্রা’। যোগাযোগ অবকাঠামোখাতের ৬টি প্রকল্প এর আওতায় আছে। চলতি অর্থবছরেই এ খাতে যুক্ত হবে আরও দুটি নতুন প্রকল্প।
পরিবহণ যোগাযোগ অবকাঠামো খাতের মেগা প্রকল্পগুলোর জন্য ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের বার্ষিক উন্নয়ণ কর্মসূচির প্রায় ২৫ দশমিক ৮ ভাগ রাখা হয়েছে । যার আকার ২৮ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা।
এর মধ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে রাখা হয়েছে ৮ হাজার ১০০ কোটি টাকা। রেলপথ উন্নয়নে ৯ হাজার ১১৫ কোটি টাকা। নৌপরিবহনে ৩ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা এবং সেতু বিভাগে ৯ হাজার ২২৫ কোটি টাকা।
এরই মধ্যে নিজস্ব অর্থায়নে দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোখাতের সবচেয়ে বড় প্রকল্প পদ্মা সেতুর ৩৪ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে । ক্যাপিটাল বাজেটের আওতায় এ প্রকল্পের কাজ আরও গতিশীল করতে এবারের বাজেটে গতবারের চেয়ে আরও দ্বিগুণ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের জন্য রাখা হয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।
সড়ক পরিবহন অবকাঠামোর পাশাপাশি জোর দেওয়া হয়েছে রেল পথ অবকাঠামোর উপর । এবারের বাজেটে রেলপথ অবকাঠামোর ৩ টি প্রকল্পের জন্য আলাদা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এখাতের সবচেয়ে বড় প্রকল্প পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প।
২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা।
রাজধানীর যানজট কমাতে রেল খাতের আর এক মেগা প্রকল্প মেট্রোরেল। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত এ মেট্রোরেলের জন্য নতুন অর্থবছরে বরাদ্দ গত বছরের চেয়ে দ্বিগুন করা হয়েছে। বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।
আলাদা বাজেট দেওয়া হয়েছে কক্সবাজার-দোহাজারী-গুনদুম রেল প্রকল্পে। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬১৩ কোটি টাকা।
সড়ক যোগাযোগ অবকাঠামোখাতের আর এক বৃহৎ প্রকল্প এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পেও রাখা হয়েছে আলাদা বাজেট। বিমানবন্দর থেকে চিটাগাং রোডের কুতুবখালি পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মান কাজ ৭ ভাগ শেষ হয়েছে। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা।
ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে নতুন অর্থবছরে রাখা ৩৮০ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে ঢাকা-ময়মনসিংহ চার লেন প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। সাসেক প্রকল্পের আওতায় রাজধানীর সাথে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ সহজ করতে শুরু হয়েছে ঢাকা-টাঙ্গাইল ৪ লেন প্রকল্পের কাজ। এ প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে সাড়ে ৪০০ কোটি টাকা।
বরাদ্দ থাকার পরও গত অর্থবছরে ব্যায় না হওয়া কর্ণফুলী টানেলের জন্য নতুন অর্থবছরে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে। ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এ টানেলের প্রকল্প সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা।
২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে সোনাদিয়া গভীর বন্দর এবং পায়রা সমুদ্র বন্দরের জন্য আলাদা বাজেট করা হয়েছে। ২০১৩ সালে কাজ শুরু হওয়া পায়রা বন্দরের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২০০ কোটি টাকা।








