সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়কে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া টানাপোড়েন এবং তৎকালীন প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের পর আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এস কে সিনহার অবসরে যাওয়ার সময়সীমা ছিল ৩১ জানুয়ারি, তাই ওই দিনটি পার হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবে রাষ্ট্রপতি দেশের ২২তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি ওই নিয়োগ দেন। দেশের নতুন প্রধান বিচারপতিকে আমরা অভিনন্দন জানাই। এই নিয়োগের ফলে বিচার বিভাগে নতুন করে গতি সঞ্চার হবে বলে আমরা আশা করি। সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার পদত্যাগ পূর্ব এবং পরবর্তী সময়ে জনমনে যেসব প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, নতুন প্রধান বিচারপতিকে সেই চাপ মোকাবেলা করে বিচার বিভাগকে পুনরায় মর্যাদায় সমাসীন করতে হবে। অতীতের অভিজ্ঞতায় এটা প্রমাণিত যে, রাষ্ট্রের প্রত্যেকটা বিভাগ একসঙ্গে একই গতিতে সমন্বয় করে না চললে সবকিছু স্থবির হয়ে যায়। আমরা আশা করি, নতুন প্রধান বিচারপতি স্বাধীন বিচার বিভাগ পরিচালনায় সফল হবেন। শুরুতেই অবশ্য একটু সমস্যা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি হিসেবে সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নিয়োগের পর তিনি শপথ নেওয়ার আগেই প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করে আসা বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা পদত্যাগ করেছেন। এতে নতুন করে যাতে কোন সমস্যার সৃষ্টি না হয় সেদিকেও নতুন প্রধান বিচারপতিকে খেয়াল রাখতে হবে। এসব বিষয় মোকাবেলা করে দায়িত্ব পালনে অভিজ্ঞ এই বিচারপতি সফল হবেন বলেই আমরা মনে করি। সকল বাধা দূর করে বিচার বিভাগে নতুন করে গতি আনা, সর্বোপরি ন্যায়বিচার নিশ্চিতে আপোষহীনভাবে প্রধান বিচারপতি নিজেকে নিয়োজিত করবেন বলেই আমাদের বিশ্বাস।








