সংবিধানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে সামরিক প্রতিনিধিদের ব্যাপক বিরোধীতার মুখে অং সান সুচির জন্য প্রধানমন্ত্রী সমতুল্য ‘রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা’ পদ সৃষ্টি করে একটি বিল মিয়ানমারের সংসদের নিম্নকক্ষে পাশ হয়েছে। এখন তা আইনে পরিণত করতে প্রয়োজন শুধু প্রেসিডেন্সিয়াল অনুমোদন। যেখানে সুচি’র অনুগত ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী থিন কিউ প্রেসিডেন্ট পদ অলঙ্কৃত করছেন।
মিয়ানমারের সংসদের এক চতুর্থাংশের প্রতিনিধিত্ব করা অনির্বাচিত সামরিক সদস্যরা এই সংক্রান্ত বিল পাশের জন্য শুধু ভোট দিতে অস্বীকৃতিই জানাননি, তারা সংসদে দাড়িয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং বিলটি সংবিধানবিরোধী বলে অনবরত অভিযোগ করতে থাকেন। রাজধানী নেপিডোয় অবস্থিত দেশটির সংসদ এর আগে কখনও এরকম একটি ঝঞ্চামুখর অধিবেশন প্রত্যক্ষ করেনি।
কিন্তু গত বছরের নির্বাচনে সংসদ আসনে অধিকাংশই (৮০ শতাংশ) সুকি’র ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) পার্টির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের অধিকারে থাকায় তুলনায় নগণ্য সামরিক প্রতিনিধিরা বিল পাস রোধ করতে পারেনি। আর প্রথমবারের মতো বেসামরিক সরকারের উত্থাপন করা বিল কোন পরিবর্তন ছাড়াই পাশ হলো।
সংসদের নিম্নকক্ষ এবং উচ্চকক্ষের অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষে তা এখন ৫০ বছরের অধিককাল পরে কোন নির্বাচিত বেসামরিক প্রেসিডেন্টের হাতে। কিউয়ের অনুমোদনের পরেই আনুষ্ঠানিকভাবে সুচির অবস্থান নির্ধারিত হবে নতুন প্রশাসনের কেন্দ্রস্থলে। এছাড়াও পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্টের অফিসের মন্ত্রী পদও থাকছে সুচির।

সুচির পার্টি নির্বাচনে জয়লাভ করলেও সংবিধানের ৫৯(এফ) ধারায় থাকা ‘স্বামী-স্ত্রী বা সন্তান বিদেশী হলে প্রেসিডেন্ট হতে পারবে না’ অনুযায়ী তিনি সর্বোচ্চ পদটি পাননি। সুচির দুই ছেলের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব রয়েছে। মূলত সুচিকে প্রেসিডেন্ট পদ লাভে বঞ্চিত করতেই সুনির্দিষ্টভাবে এমন ধারা বলে অনেকেই মনে করেন।







