কক্সবাজার থেকে: বাংলাদেশ দলের প্রতিপক্ষ তখনো চূড়ান্ত হয়নি। সেমিফাইনালে কোন দেশ স্বাগতিকদের সঙ্গে খেলবে তারই নির্ধারণী ম্যাচ চলছে সিলেটে। আর তখন থেকেই সমুদ্রপাড়ে শোনা যাচ্ছে মাইকের আওয়াজ। আয়োজকরা চেষ্টা করছেন বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপের দুটি সেমিফাইনাল ঘিরে মাঠে দর্শক টানতে।
বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার প্রথম সেমিফাইনাল খেলবে তাজিকিস্তান-ফিলিপিন্স। সোমবার বাংলাদেশ খেলবে প্যালেস্টাইনের বিপক্ষে।
সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে বিশাল বিলবোর্ড। ৯০ মিনিটের উত্তেজনা উপভোগ করার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে স্থানীয়দের। কলাতলী মোড় থেকে জেলা স্টেডিয়াম পর্যন্ত প্রচারণার নানা চিত্র। রাস্তার দুধারে আলোকসজ্জা। সাজ-সাজ রব। অথচ দর্শক নেই টিকিট কাউন্টারে!

স্টেডিয়ামের সামনেই টিকিটের অস্থায়ী বুথ। রোববার সকালে গিয়ে দেখা গেল কয়েকজন শিক্ষার্থী টিকিটের গায়ে চোখ বুলিয়ে চলে গেলেন। নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই তরুণদের কাছে ১০০ টাকা খুব বেশি মনে হচ্ছে। সকালের সেশনে ৫০টির বেশি টিকিট বিক্রি হয়নি ওই কাউন্টারে।
২৫ হাজার ধারণক্ষমতার সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে তিল ধারণের জায়গা ছিল না গ্রুপপর্বের ম্যাচে। মাঠের বাইরে অপেক্ষা করেছেন হাজারও দর্শক। টিকিট নিয়ে হয়েছে লঙ্কাকাণ্ড।

আর কক্সবাজারের টিকিট বুথের চিত্র দেখলে যে কারও মনে সংশয় জাগবে; সিলেটের উন্মাদনার রেশ কক্সবাজারে দেখা যাবে তো! স্টেডিয়ামের দর্শক ধারণক্ষমতা মাত্র ১৪ হাজার। কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠবে গ্যালারি সেটির নিশ্চয়তা অবশ্য দিলেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অনুপ বড়ুয়া।

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রচারণা চালাচ্ছি সব প্রান্তেই। উপজেলা, ইউনিয়নে মাইকিং করা হচ্ছে। পর্যটন নগরীর ঐতিহ্য-সংস্কৃতির ছবি সম্বলিত একটি গাড়ি বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছে। এসব প্রচারণা করতে পারায় আমি আশাবাদী গ্যালারিতে উপচেপড়া দর্শক হবে। ফুটবল-উৎসবে মাতবে নগরী।’
রোববার দুপুর ২টার ফ্লাইটে সিলেট থেকে কক্সবাজার পৌঁছাবে বাংলাদেশ দল। সুশান্ত, ইব্রাহিম, জিকো, সবুজরা ফিরবেন নিজেদের ঘরে। এই চার ফুটবলারই বড় হয়েছেন সৈকতের আলো-বাতাসে।







