‘প্রাঙ্গণেমোর যুবরাজ পদক’ ঘোষণা করা হলো। ২০১৬ সালে মঞ্চে আসা সেরা নাটক বিবর্তন যশোরের ‘মাতব্রিং’ পেল এ পদক। পদক নিতে আসা ‘বিবর্তন যশোর’ এর সভাপতি সানোয়ার আলম খান আপ্লুত হয়ে চোখ মুছলেন। বললেন, ‘পদক পেয়ে খুবই ভালো লাগছে। সারা বাংলাদেশে হাজার হাজার নাট্যকর্মী নিরলস প্রচেষ্টায় মঞ্চ নাটককে বাঁচিয়ে রেখেছে, এই পদক আমি তাদের তরে উৎসর্গ করছি।’
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় এ পদক দেওয়া হয়। প্রাঙ্গণেমোর নাট্যদল এ বছর থেকেই সৃজনশীল নির্দেশক ও অভিনেতা খালেদ খান যুবরাজের স্মরণে এ পদক প্রদান করছে। ২০১৬ সালে মঞ্চে আসা ৪৪টি নতুন নাটক থেকে জুরিবোর্ড পদকের জন্য ৩টি নতুন নাটক মনোনীত করে। নাটক তিনটি হলো আরণ্যক নাট্যদলের ‘দি জুবলী হোটেল’, বটতলার ‘ক্রাচের কর্নেল’ এবং বিবর্তন যশোরের ‘মাতব্রিং’।
পদক প্রদান করেন নাট্যজন মামুনুর রশীদ। তিনি বলেন, ‘খালেদ খান যুবরাজ সারাজীবন বলে গেছেন মানুষের কথা, নাটকের কথা, জীবনের কথা। তার চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে সেই কথা ফুরিয়ে গেছে। কিন্তু কাজের মাধ্যমে তিনি বেঁচে আছেন। আজ তার নামে পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে নাট্যব্যক্তিদের মাঝে চিরস্থায়ী আসন পেয়ে গেলেন তিনি।’
পদক প্রদানের পর সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ হয় ভারতের কল্যাণী নাট্যচর্চা কেন্দ্রের নাটক ‘নূরলদীনের সারা জীবন’। সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের এই নাটকের নির্দেশনা দিয়েছেন কিশোর সেনগুপ্ত।
এবার দুই বাংলার নাট্যমেলার মূল স্লোগান ছিল ‘তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও, আমি এই বাংলার পারে রয়ে যাব’। প্রাঙ্গণেমোর সপ্তমবারের মতো এ নাট্যমেলার আয়োজন করে। ১০ই মার্চ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে এ নাট্যমেলার উদ্বোধন হয়। এ নাট্যমেলায় মঞ্চস্থ হয় ভারতের চারটি এবং বাংলাদেশের পাঁচটি নাট্যদলের নাটক। ভারতের নাটকগুলো হচ্ছে কলকাতার সংসৃতি নাট্যদলের ‘ব্রেন’, নিভা আর্টস-এর ‘ওরা আট জন’, কল্যাণীর কল্যাণী নাট্যচর্চা কেন্দ্রের ‘নূরলদীনের সারা জীবন’ ও দিল্লির বাংলা নাটকের দল গ্রিনরুম থিয়েটারের ‘অসুখ’ এবং বাংলাদেশের লোকনাট্যদলের ‘কঞ্জুস’, সুবচন নাট্য সংসদের ‘প্রণয় যমুনা’, নাগরিক নাট্যাঙ্গনের ‘গহর বাদশা ও বানেছা পরী’, থিয়েটার আর্ট ইউনিটের ‘মর্ষকাম’ এবং আয়োজক দল প্রাঙ্গণেমোরের ‘আমি ও রবীন্দ্রনাথ’।










