গুলশানের হলি আর্টিজানের পর ঢাকার বিভিন্ন নামী-দামী রেস্তোরাঁ প্রায় ফাঁকা রয়েছে। ঘটনার প্রায় দেড় মাস পরও আতঙ্কিত মানুষ। ব্যাচেলরদের বাসা ভাড়া পেতে পোহাতে হচ্ছে নানান ঝামেলা।
যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ও দৈনিক সংবাদের সাবেক সাংবাদিক রওশন জামিন চৌধুরী
মনে করেন, মানুষ ভয় পেলে তো সন্ত্রাসীদেরই জয় হবে। কিন্তু বাইরের দেশে এমন
ঘটনা ঘটলে আনন্দ-ফুর্তিতে মেতে ওঠার আহ্বান জানানো হয়।
ফেসবুকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে ঢাকায় রেস্তোরাঁ ব্যবসায় মন্দা। ব্যাচেলররা বাসা ভাড়া পাচ্ছেন না। এখানে সেখানে তল্লাশি। ক্যামেরা। মানুষের মনে আতঙ্ক। খবরের কাগজে, ফেবুতে দেখি। বন্ধুদের কাছে শুনি। কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝি না। মানুষ ভয় পেলে তো সন্ত্রাসীদেরই জয় হল। আলো হেরে গেল। অন্ধকারের শক্তিরা জিতল।
এমন যেন না হয় সেটা দেখার কথা সরকারের। তারাই মানুষকে বলবেন দ্য শো মাস্ট গো অন। নিউ ইয়র্ক সিটিতে যেটা দেখেছি। ৯/১১-র পরদিনই সব খুলে গিয়েছিল। রেস্তোরাঁ, ব্রডওয়ে, মুভি থিয়েটার মানুষ টানতে দাম কমিয়ে দেয়। টুইন টাওয়ারের ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নেওয়ার পর যখন ওই এলাকাটা খুলে দেওয়া হয়, আশেপাশের সব ব্যবসা-বাণিজ্য সরকারি সহায়তায় নতুন করে শুরু করেছে। এমনকি ট্যাক্সি মালিক ও ড্রাইভাররাও কিছু না কিছু আর্থিক সাহায্য লাভ করেন। শহরের সবচেয়ে নামী ও দামী রেস্তোরাঁগুলো টুইন টাওয়ারের কাছে পিঠে। কোনো কোনো ডিশ ১০০ ডলারের ওপরে। সেগুলো ২০/২৫ ডলারে বিক্রি করেছে খদ্দের টানতে। 
সিটি মেয়র বারবার নাগরিকদের তাগিদ দিয়েছেন যেন তারা ঘরে বসে না থাকেন। আনন্দ-ফুর্তিতে মেতে ওঠেন। সন্ত্রাসীরা যাতে দেখে তাদেরকে কেউ ভয় পায় না। প্রথম দু-তিনদিন সাবওয়েতে সিকিউরিটি কড়াকড়ি থাকলেও পরে তা র্যানডম করা হয়। কারণ কাজে যেতে দেরি হচ্ছে। বাড়ি ফিরতে দেরি হচ্ছে। হয়রানি হচ্ছে। মানুষ বিরক্ত হয়ে যাচ্ছিল। এখানেই কনস্যুমার সোসাইটির শক্তি। জীবনের প্রবাহ থামে না। বাংলাদেশ কি ভাববে এভাবে? নাকি dos and don’ts-এর কড়াকড়িতে জনজীবনে পেরেশানি তৈরি করা ছাড়া তারা অন্যকিছু বোঝেন না?’








