পেঁয়াজের দাম যখন অস্বাভাবিকভাবে বাড়লো তখন ব্যবসায়ীদের অজুহাত ছিল ‘সরবরাহ কম’। এরপর বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করেছে সরকার। তবে তখনও দাম তেমন একটা কমেনি। এখন বাজারে নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ছে। ফলে দাম কমে যাওয়ার কথা। পেঁয়াজ মৌসুমের এই সময় দাম কম থাকে। কিন্তু এ বছর এখনও তা দেখা যাচ্ছে না।
এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, পেঁয়াজ তার মৌসুমের দামে কি আর ফিরবে?
চ্যানেল আই অনলাইনের প্রতিবেদনে জানা গেছে: আমদানি ও নতুন উভয় পেঁয়াজের দাম গত শুক্রবারের তুলনায় ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির তথ্যমতেও গত শুক্রবার তুলনায় ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে পেঁয়াজের দাম।
প্রতিবেদনে বলা হয়: বাজারে আমদানি করা ছোট পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকা। আমদানি করা পেঁয়াজের পাশাপাশি বাজারে আসা নতুন দেশি পেঁয়াজের দামও বেড়েছে। দেশি নতুন পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা।
টিসিবির তথ্যমতে, গত বছরের ঠিক এই সময়ে আমদানি করা পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হয়েছিল ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকায় আর দেশি নতুন পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হয়েছিল ২৫ টাকা থেকে ৩৫ টাকায়। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে আমদানি করা পেঁয়াজ ৩০০ শতাংশ ও নতুন পেঁয়াজ ২৩৩ শতাংশ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
পেঁয়াজের মৌসুমে এই অস্বাভাবিক দামে ভোক্তারা হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তাদের এই হতাশা অযৌক্তিক নয়। এখন পেঁয়াজের মৌসুম চলছে। নতুন পেঁয়াজ উঠছে। এরমধ্যেও যদি ২০ থেকে ২৫ টাকার পেঁয়াজ ১২০ টাকায় কিনতে হয়, তাহলে মৌসুমের পর দাম কত হবে সেটা বড় চিন্তার বিষয়। এ নিয়ে এখন থেকেই সংশ্লিষ্টদের ভাবতে হবে বলে আমরা মনে করি।
পেঁয়াজের দাম নিয়ে অতীতের মতো কেউ যাতে কোনো ধরনের কারসাজি করতে না পারে, সেই বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে আমরা সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।








