উৎসাহ উদ্দীপনা এবং আনন্দমুখর পরিবেশে সোমবার পাঁচ দিনের ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০১৮’ শুরু হয়েছে। এবারের পুলিশ সপ্তাহের মূল প্রতিপাদ্য- ‘জঙ্গি মাদকের প্রতিকার, বাংলাদেশ পুলিশের অঙ্গীকার’। যদিও পুলিশ সপ্তাহ শুরুর আগে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক নিজের দায়িত্বকালীন ৫ বছরে মাদক ও জঙ্গি নির্মূল সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন। তবে আশার কথা হিসেবে তিনি জানিয়েছেন, ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত গত পাঁচ বছরে তুলনামূলক অপরাধ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে এই সময়ে ডাকাতি, খুন, নারী নির্যাতন, অপহরণের মতো অপরাধের ঘটনার হার কমেছে। অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সঙ্গে জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে পুলিশের ভূমিকাও ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেক পুলিশ সদস্যকে প্রাণও দিতে হয়েছে দায়িত্ব পালনের সময়ে। পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব এবং ইন্সপেক্টর জেনারেল, বাংলাদেশ পুলিশ বাণী দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থেকে পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন করেছেন। পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে গত ২০১৭ সালে পুলিশ বাহিনীর সদস্যগণের অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ৩০ জন পুলিশ সদস্যকে “বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)”, ৭১ জনকে “রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)” এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য ২৮ জন পুলিশ সদস্যকে “বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা” এবং ৫৩ জনকে “রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা” প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিয়মিত কাজের পাশাপাশি ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে অশান্তি এবং জঙ্গিবাদী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়াদের রুখতে পুলিশ সাহসিকতার সঙ্গে যে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে, তার জন্য পুলিশ বাহিনীর প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বিষয়টি আসলেই প্রশংসাযোগ্য। তবে দেশের পুলিশ বাহিনী সর্ম্পকে সাধারণ মানুষের নেতিবাচক ধারণা বহুল প্রতিষ্ঠিত। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জরিপে এসব নেতিবাচক চিত্র ফুটে ওঠে নানা সময়ে। অনেকটা কাকতালীয়ভাবে পুলিশ সপ্তাহ শুরুর দিনই পুলিশ বাহিনীর এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নারীঘটিত একটি বিষয়ে তদন্ত কমিটি করার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মেনে নিলেও সার্বিক পরিস্থিতি উন্নতিতে পুলিশ বাহিনীকে আরও আন্তরিক, মানবিক ও সচেতন হতে হবে বলে আমরা মনে করি। মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে যে পুলিশ বাহিনীর সাহসী প্রতিরোধ ইতিহাস রয়েছে, যে পুলিশ বাহিনীর দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সঙ্কটময় সময়ে সাহসী অবদান রয়েছে, তাদের ভাবমূর্তি আরও উন্নত হবে এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক অবস্থায় থাকবে, পুলিশ সপ্তাহে এই আমাদের আশাবাদ। পুলিশ বাহিনীর সকলের জন্য শুভ কামনা।







