পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পিপলস লিজিংয়ের ৬ হাজার আমানতকারী টাকা দ্রুত ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
অর্থমন্ত্রীর পক্ষ থেকে যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করা সম্ভব তার সবকিছুই করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অর্থমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পিপলস লিজিংয়ের আমানতকারীদের সাথে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী। বৈঠক শেষে আমানতকারীরা এসব কথা জানান।
পিপলস লিজিং আমানতকারী সমিতির সমন্বয়ক আতিকুর রহমান আতিক বলেন: এর আগে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সাথে দেখা করেছি। গভর্নর ফজলে কবির আমাদের টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দেননি। এ কারণে আমরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট না হয়ে অর্থমন্ত্রীর সাথে দেখা করেছি।
তিনি বলেন: এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া আমরা কত দিনের মধ্যে টাকা ফেরত পাব তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের কাছে দ্রুত টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন আমানতকারীরা।
আতিকুর রহমান বলেন: পিপলস লিজিংয়ের ব্যক্তি আমানতকারীদের ৭শ কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে আগে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
পিপলস লিজিং অবসায়নের সিদ্ধান্ত আমানতকারীদের জন্য মোটেও সঠিক ছিল না মন্তব্য করে তিনি বলেন: ফার্মার্স ব্যাংকে সংকট দেখা দেয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক সেটিকে পদ্মা ব্যাংক নামে পুনর্গঠন করেছে। এতে আমানতকারীসহ সবার স্বার্থ রক্ষা পেয়েছে। ঠিক এইভাবে পিপলস লিজিংকেও অবসায়ন না করে নতুন নাম দিয়ে পুনর্গঠন করা যেত। এতে সবাই উপকৃত হতো।
২০১৫ সালের পূর্ববর্তী পরিচালনা পর্ষদ এবং পরবর্তী পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্যদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছে আমানতকারীরা। আমানতকারীদের টাকা নিয়ে বিভিন্ন ব্যবসা এবং বিদেশ পাচারের অভিযোগ করেছেন তারা।
পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড আমানতকারী সমিতির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন মোট ৬ জন। সমিতির সমন্বয়ক আতিকুর রহমান আতিক, যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল আহমেদ এবং রানা ঘোষ, সম্পাদক প্রশান্ত কুমার দাস এবং সদস্য সামিয়া বিনতে মাহবুব।
পিপলস লিজিংয়ের আর্থিক অবস্থা
পিপলস লিজিংয়ের বর্তমান আমানত ২ হাজার ৩৬ কোটি ২২ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৩শ কোটি টাকা রয়েছে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের। বাকি ৭শ কোটি টাকা ৬ হাজার ব্যক্তি শ্রেণির আমানত। প্রতিষ্ঠানটি ঋণ দিয়েছে ১ হাজার ১৩১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৭৪৮ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ। এটি মোট ঋণের ৬৬ দশমিক ১৪ শতাংশ। খেলাপি ঋণের বড় অংশই নিয়েছে কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকরা।
ধারাবাহিকভাবে লোকসানের কারণে ২০১৪ সাল থেকে পিপলস লিজিং লভ্যাংশ দিতে পারছে না। তবে আমানতের বিপরীতে কাগজকলমে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩ হাজার ২৬৯ কোটি টাকার সম্পদ দেখানো হলেও বাস্তবে তিন ভাগের এক ভাগও নেই বলে জানা গেছে।
১৯৯৭ সালের ২৪ নভেম্বর পিপলস লিজিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন পায়। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।









