মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধী জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের সাকা চৌধুরীর দুই আবেদন শুনানির জন্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মঙ্গলবারের কার্যতালিকায় এসেছে।
আপিল বিভাগের আগামীকালের কার্যতালিকায় আবেদন দু’টি যথাক্রমে ২ ও ৩ নম্বরে রয়েছে। সোমবার (১৬ নভেম্বর) বিকেলে এ কার্যতালিকা প্রকাশিত হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। অন্য বিচারপতিরা হচ্ছেন, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
এর আগে গত ২ নভেম্বর কার্যতালিকায় এলেও তা পিছিয়ে ১৭ নভেম্বর রিভিউ দু’টির শুনানির দিন ধার্য করেন সর্বোচ্চ আদালত। শুনানি পেছাতে মুজাহিদের আবেদন গ্রহণ করে নতুন এ দিন ধার্য করা হয়েছিলো। তবে নিজের পক্ষে কয়েকজন সাফাই সাক্ষীকে সমন জারি করতে সাকা চৌধুরীর আবেদন খারিজ করে দেন।
মুজাহিদ ও সাকা চৌধুরী- দু’জনেরই প্রধান আইনজীবী হিসেবে সর্বোচ্চ আদালতে রিভিউ আবেদন দু’টির শুনানিতে আসামিপক্ষে নেতৃত্ব দেবেন খন্দকার মাহবুব হোসেন।
অন্যদিকে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আপিল মামলাগুলোর মতোই রিভিউ আবেদনগুলোর শুনানিতেও রাষ্ট্রপক্ষে নেতৃত্ব দেবেন।
মোট ৩৮ পৃষ্ঠার রিভিউ আবেদনে ৩২টি যুক্তি দেখিয়ে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি ও মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস চেয়েছেন মুজাহিদ। রিভিউয়ের পেপারবুক দাখিল করা হয়েছে তিন শতাধিক পৃষ্ঠার।
সাকা চৌধুরীর মোট ১০৮ পৃষ্ঠার রিভিউ আবেদনে ১০টি যুক্তি দেখিয়ে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি ও মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস চাওয়া হয়েছে।
গত ১৬ জুন একাত্তরের কিলিং স্কোয়ার্ড আলবদর বাহিনীর প্রধান মুজাহিদ ও গত ২৯ জুলাই চট্টগ্রাম অঞ্চলের নৃশংসতম মানবতাবিরোধী অপরাধের হোতা সাকা চৌধুরীর আপিল মামলার সংক্ষিপ্তাকারে চূড়ান্ত রায় দেন আপিল বিভাগ।
১৫ অক্টোবর সুপ্রিমকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সাকা ও মুজাহিদের রিভিউ আবেদন দ্রুত শুনানির দিন ধার্যে দু’টি আবেদন রাষ্ট্রপক্ষ জমা দেয়। এর আগের দিন চূড়ান্ত রায় রিভিউর জন্য মুজাহিদ ও সাকা চৌধুরী আবেদন করেন।
সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় নিজ নিজ আইনজীবীর মাধ্যমে এ রিভিউ আবেদন দাখিল করেন তারা।
২০১৩ সালের ১৭ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে মামলার রায় দেয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে একই বছরের আগস্টে মুজাহিদ আপিল দায়ের করেন।
আপিল নিষ্পত্তি করে গত ১৬ জুন তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দেয়া হয়। ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল-১ সাকা চৌধুরীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় দেয়।
একই বছরের ২৯ অক্টোবর এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন সাকা চৌধুরী। আপিল নিষ্পত্তি করে গত ২৯ জুলাই মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দেয়া হয়। আপিল বিভাগ গত ৩০ সেপ্টেম্বর মুজাহিদ ও সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন।
এর পরদিন এ দুই আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ পরোয়ানা কারাগারে আসামিদের অবহিতকরণসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে একটি মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন গ্রেফতার হন মুজাহিদ। পরে ওই বছরের ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
২০১০ সালের ১৬ ডিসেম্বর অন্য একটি মামলায় গ্রেফতার হন সাকা চৌধুরী। পরে একই বছরের ১৯ ডিসেম্বর তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।






